
নিউ ইয়র্কসহ আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গাড়ি মেরামত করতে গিয়ে প্রায়ই অপ্রত্যাশিত ও অতিরিক্ত বিলের মুখোমুখি হন প্রবাসী ও স্থানীয় গাড়ি মালিকেরা। সঠিক নিয়ম না জানা এবং খরচের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত গুনতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। তবে মেকানিকের কাছে যাওয়ার আগে ৭টি বিশেষ বিষয় নিশ্চিত করলে অহেতুক খরচ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
প্রথমেই গাড়ির সমস্যার প্রাথমিক তথ্য জেনে নিন। ড্যাশবোর্ডে ত্রুটির সংকেত বা 'চেক ইঞ্জিন লাইট' জ্বললেই সরাসরি মেকানিকের কথায় বড় মেরামতের সিদ্ধান্ত নেবেন না। ওবিডি স্ক্যানের মাধ্যমে প্রাথমিক সমস্যা জেনে নিন। আমেরিকার অনেক পার্টসের দোকানে এটি বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়। প্রাথমিক তথ্য জানা থাকলে মেকানিক আপনাকে অপ্রয়োজনীয় খরচে ফেলতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, কাজ শুরুর আগেই লিখিত এস্টিমেট নিন। মুখে মুখে কথা বলে গাড়ি মেরামতে দেবেন না। কাজ শুরুর আগেই মেকানিকের কাছ থেকে লিখিত খরচের হিসাব (এস্টিমেট) নিন। সেখানে শ্রমের খরচ, যন্ত্রাংশের দাম ও মোট সম্ভাব্য ব্যয় উল্লেখ থাকতে হবে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের (DMV) নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত এস্টিমেটের চেয়ে বেশি খরচ করতে হলে দোকানকে গ্রাহকের অনুমতি নিতেই হবে।
তৃতীয়ত, যন্ত্রাংশের ধরন ও মান যাচাই করুন। গাড়িতে মূল প্রস্তুতকারকের (OEM), বিকল্প প্রস্তুতকারকের নাকি পুরনো পুনর্নির্মিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জেনে নিন। সব সময় সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশ ব্যবহারের প্রয়োজন নাও হতে পারে। আবার নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত সস্তা যন্ত্রাংশ এড়িয়ে চলাই ভালো। পার্টসের নাম ও নম্বর কাগজে লিখিয়ে রাখুন।
চতুর্থত, ডায়াগনস্টিক ফি ও ঘণ্টাপ্রতি শ্রমের দর বুঝুন। আমেরিকায় মেকানিকরা দুইভাবে কাজ করেন—ঘণ্টা হিসেবে বা নির্দিষ্ট কাজের চুক্তিতে। সমস্যা শনাক্ত করার জন্য (ডায়াগনস্টিক ফি) আলাদা কত ডলার নেওয়া হবে এবং মূল কাজ করালে সেই ফি মওকুফ হবে কি না, তা আগেই পরিষ্কার করে নিন।
পঞ্চমত, পুরানো যন্ত্রাংশ ফেরত চান এবং লিখিত রসিদ নিন। গাড়ি থেকে যেসব নষ্ট যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হচ্ছে, তা দেখতে চাওয়া বা ফেরত নেওয়ার অধিকার গ্রাহকের রয়েছে। কাজ শেষে প্রতিটি যন্ত্রাংশ ও শ্রমের খরচের পৃথক বর্ণনা সংবলিত বিস্তারিত ফাইনাল বিল সংগ্রহ করুন।
ষষ্ঠত, ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির লিখিত শর্ত জানুন। শুধু মুখে 'গ্যারান্টি আছে' শুনে সন্তুষ্ট হবেন না। গ্যারান্টি কত দিন বা কত মাইল পর্যন্ত কার্যকর, তা পার্টস ও লেবার—দুটোর ওপরই প্রযোজ্য কি না এবং কোনো বিশেষ শর্ত আছে কি না, তা লিখিতভাবে বুঝে নিন।
সপ্তমত,মেকানিকের যোগ্যতা ও দোকান যাচাই করুন। যেকোনো দোকানে যাওয়ার আগে অনলাইন রিভিউ পড়ার পাশাপাশি সেটি এএসই (ASE) সনদপ্রাপ্ত মেকানিক দ্বারা পরিচালিত কি না নিশ্চিত হন। জরুরি মেরামত ছাড়া তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে একাধিক দোকান থেকে লিখিত এস্টিমেট নিয়ে তুলনা করুন।
আইন ও নিয়মের বিষয়ে সচেতন থাকলে আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের নামে অতিরিক্ত প্রতারণা এড়ানো বহুলাংশে সহজ হয়ে যায়।
আরটিভি/এআর
-1791279891-407901_1791279918.jpg)

