
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে ভয় না পেয়ে বরং এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হবে। তা না হলে বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন মেলানিয়া। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে উৎসাহ দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেলানিয়া বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং শিক্ষার্থীদের এ প্রযুক্তি সম্পর্কে শেখানো জরুরি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মেলানিয়া বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন উপকরণ কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর আশা, এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে কেউ নতুন ধরনের রোবট তৈরি করতে পারে এবং সেটি হোয়াইট হাউসে প্রদর্শন করতে পারে।
মেলানিয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশ কাউন্টির ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য চার বছরের জন্য ‘স্টাডিফেচ’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষামাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুলসহ জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো’ উন্নয়ন কিট দেওয়া হবে। এসব কিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্স নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে।
মেলানিয়ার ‘বি বেস্ট’ উদ্যোগ, এনভিডিয়া ও স্টাডিফেচের সহযোগিতায় এই প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মাউন্টেন ভিউ স্কুলে মেলানিয়া শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ নিয়ে কাজও দেখেন। সেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে বিতর্কও চলছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা এ প্রযুক্তির ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সতর্ক করেছেন। এর মধ্যেই মেলানিয়া শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি শেখার পাশাপাশি সতর্কভাবে তা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরটিভি/জেএমএ


