
নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশে অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারের (Deportation) সুযোগ দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া নীতিতে বাধা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত। আদালত বলেছেন, অপরিচিত কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানানোর কার্যকর সুযোগ দিতে হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ট্রাম্প প্রশাসনের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতিকে মূলত অবৈধ ঘোষণা করা নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে রায়ের একটি অংশ প্রক্রিয়াগত কারণে বাতিল করা হয়েছে।
বিচারপতি শেথ আফ্রেমের নেতৃত্বে দেওয়া রায়ে বলা হয়, কোনো অভিবাসীকে এমন দেশে পাঠানোর আগে তাকে নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে যে দেশের সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক নেই, সেখানে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই সুযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে আদালত উল্লেখ করেন।
মামলাটি মূলত অভিবাসীদের নিয়ে একটি গণমামলার মাধ্যমে আদালতে যায়। প্রশ্ন ছিল, নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে বহিষ্কারের আগে অভিবাসীদের কী ধরনের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
মামলাকারীদের আইনজীবী ত্রিনা রিয়েলমুটো বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার আইনি অধিকার এড়িয়ে কাউকে এমন একটি বিমানে তুলে দেওয়া যাবে না, যে দেশটি তার বহিষ্কার-সংক্রান্ত আগের প্রক্রিয়ার অংশই ছিল না।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এসব চুক্তির আওতায় ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর পরিচালিত হিসাবের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মেক্সিকোকে তৃতীয় দেশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের মার্চে নেওয়া নীতির আওতায়, কোনো তৃতীয় দেশের কাছ থেকে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার না হওয়ার কূটনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে অভিবাসীদের অল্প সময়ের নোটিশে সেখানে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের বৈধ আদেশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তবে আপিল আদালত এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার সংক্রান্ত বিষয়টি দুবার সর্বোচ্চ আদালতে উঠেছে।
২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তের পর কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজনকে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ খুলে যায়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দক্ষিণ সুদান ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছিল।
তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের কর্মসূচি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, অপরিচিত দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয় না।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তার নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।
চলতি মাসেই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার ওপর নতুন সীমা আরোপের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে একটি ফেডারেল আদালত। পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীরা সরকারি কিছু সুবিধা ব্যবহার করলে তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন আরেকটি নীতির বিরুদ্ধেও ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
আরটিভি/জেএমএ


