
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের দিকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় নোলোকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও শক্তিশালী ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নোলো সর্বোচ্চ ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অবস্থান করছিল। পরে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা কমেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নোলোর বাইরের মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে। বিগ আইল্যান্ডের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও এর পরিমাণ ১৬ থেকে ২০ ইঞ্চিতেও পৌঁছাতে পারে। পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও কোথাও কোথাও ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে।
মাউই দ্বীপে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি এবং সর্বোচ্চ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
নোলোর আগেও হাওয়াইয়ের ওপর দিয়ে লালা ও লওয়েল নামের দুটি ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। ফলে অনেক বাসিন্দা এখনো ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নালেহু এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগের ঝড়ের পর অনেক পরিবার এখনো ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করছেন। অনেকের প্রয়োজনীয় খাবার ও পানিরও ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, আগের ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কাজ মাত্র শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই আরও একটি বড় ঝড়ের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
ঝড়ের আশঙ্কায় বিগ আইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। বাসিন্দারা ঘরের আশপাশের জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, দরজা-জানালা শক্ত করে বাঁধছেন এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করছেন।
বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করে কয়েকশ জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিগ আইল্যান্ডে ১২০ জনের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কারণ ঝড়ের প্রভাবে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোলোর প্রভাবে বিগ আইল্যান্ডের উপকূলে বড় ও শক্তিশালী ঢেউ তৈরি হতে পারে। দ্বীপটির দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলসহ মাউই ও মোলোকাইয়ের কয়েকটি এলাকায় উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নোলোর সঙ্গে টর্নেডো ও সমুদ্রের ওপর শক্তিশালী জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হাওয়াইয়ের পরিস্থিতির পাশাপাশি মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের দিকেও ঘূর্ণিঝড় পোলো এগোচ্ছে। শনিবার সেটি তৃতীয় শ্রেণির ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ঘণ্টায় প্রায় ১৯৩ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে অবস্থান করছিল। সোমবার উপদ্বীপে পৌঁছানোর আগে এটি কিছুটা দুর্বল হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো নামের একটি ছোট উপকূলীয় জনপদে ঝড়টি নিয়ে উদ্বেগ বেশি। সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে নিয়মিত সমস্যা থাকায় ঝড়ের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


