যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডাটা সেন্টারের কারণে বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ খরচের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর না দেওয়ার লক্ষ্যে আনা একটি বিল আটকে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকানদের উদ্যোগে আনা প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ৫৭ জন ভোট দিলেও ৪৩ জন বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি আর এগোয়নি।
‘দরদাতা সুরক্ষা আইন’ নামের বিলটির লক্ষ্য ছিল ডাটা সেন্টারের জন্য নতুন বিদ্যুৎ অবকাঠামো তৈরির খরচ সাধারণ গ্রাহকের ওপর না চাপিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে এতে অঙ্গরাজ্যের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রকদের শুধু এ ধরনের খরচ প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়ার নিয়ম বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে তা কার্যকর করার কথা বলা হয়নি।
এই বিষয়টিকেই বিলটির বিরোধিতার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, সাধারণ মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও ডাটা সেন্টার নিয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ চাইছেন। কিন্তু রিপাবলিকানদের আনা বিলটি তার ভাষায় কেবল একটি বার্তামূলক উদ্যোগ, যেখানে সুরক্ষার বিষয়টি ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।
শুমার আরও বলেন, বিলটিতে কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা হয়নি। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত খরচ হলে সেই ব্যয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বহন করতে হবে।
এর আগে চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ব্যাপক দ্বিদলীয় সমর্থন পায়। ৪২০ ভোটের মধ্যে ৪১৭ জন এর পক্ষে এবং মাত্র তিনজন বিপক্ষে ভোট দেন। এরপর বিলটি সিনেটে পাঠানো হয়।
সিনেটর জন হাস্টেড বিলটি এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এর আগে তিনি সর্বসম্মত সম্মতির মাধ্যমে বিলটি পাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওই পদ্ধতিতে একজন সদস্য আপত্তি জানালেই প্রস্তাব আটকে দেওয়া যায়। নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্টিন হাইনরিশ তখন বিলটির পরিবর্তে নিজের একটি প্রস্তাব পাসের আহ্বান জানান। তার দাবি ছিল, ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
হাইনরিশ বলেন, কেবল বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, কংগ্রেসকে কার্যকর আইন করতে হবে। তার মতে, ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ খরচের পাশাপাশি পানি ব্যবহার, বায়ুদূষণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাবের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য এসব কেন্দ্রের বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হওয়ায় সেগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোটটি অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে। এ সময় সিনেট সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই দিনে কংগ্রেস সদস্যদের শেয়ার কেনাবেচা সীমিত করার আরেকটি প্রস্তাবও ডেমোক্র্যাটরা আটকে দেন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


