
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আলোচিত একটি তদন্ত থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন আইনজীবী কার্ট ওলসেন। তবে তিনি বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করছেন না। বরং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে বহাল থাকবেন বলে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিভাগটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ওলসেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের আমলের কর্মকর্তাদের নিয়ে চলা তথাকথিত ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে যুক্ত ছিলেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি ওই তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জানান।
এর আগে তার ই-মেইলকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বিচার বিভাগের মিয়ামি ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, ওলসেন পুরো বিচার বিভাগ থেকেই পদত্যাগ করছেন। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, তিনি আইনজীবী হিসেবে বিচার বিভাগে কাজ চালিয়ে যেতে চান।
ওলসেনের ভূমিকা নিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঙ্ক বলেন, ওলসেন পদত্যাগ করেননি এবং তিনি আগের জায়গাতেই কাজ করছেন। তবে পরে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি পরিষ্কার করে জানান, ওলসেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে চাকরিতে থাকলেও ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্তে আর দায়িত্ব পালন করবেন না।
তবে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এরপর তিনি কী দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে তার নিরাপত্তা অনুমতিপত্র নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন। ওই অনুমতিপত্র না থাকায় গোপন নথি ও তথ্য পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার পক্ষে যুক্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই তদন্তে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং সাবেক বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথের মাধ্যমে ট্রাম্পের গোপন নথি সংরক্ষণসংক্রান্ত তদন্তের মতো বিষয়ও রয়েছে।
ওলসেন উত্তর ক্যারোলিনার মধ্যাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে বদলি হয়ে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও দুই সূত্র জানিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, চলতি বছর ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ তদন্ত এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জন ব্রেনানের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত থেকে সরে দাঁড়ানো তৃতীয় কৌঁসুলি হলেন ওলসেন। এর আগে এপ্রিল মাসে মারিয়া মেডেটিস লংকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি তদন্তে থাকা প্রমাণের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। পরে তার জায়গায় দায়িত্ব নেন জো ডি জেনোভা। তিনিও সেপ্টেম্বর মাসে তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিরোধের মধ্যে পদত্যাগ করেন।
ওলসেন চলতি বছরের বসন্তে ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের নিয়োগে নির্বাচন নিরাপত্তা ও অখণ্ডতাবিষয়ক পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টাতেও ওলসেন যুক্ত ছিলেন। সে সময় তিনি টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। চলতি বছর জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির নির্বাচনসংক্রান্ত মামলাটি নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থায় সুপারিশ করেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট ও অন্যান্য সামগ্রীসহ বেশ কয়েকটি বাক্স জব্দ করে।
এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে অ্যারিজোনাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে তিনি বিচার বিভাগে সুপারিশ করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ

