
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওভাল অফিস এবং মন্ত্রিসভার বৈঠককক্ষকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্রে সই করেন তিনি। তবে এই ঘোষণার পরও ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট চাইলে এসব কক্ষের সাজসজ্জা পরিবর্তন করতে পারবেন। এমনকি পরবর্তী কোনো প্রেসিডেন্ট চাইলে ঘোষণাটিও বাতিল করতে পারবেন।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ওভাল অফিস ও মন্ত্রিসভার বৈঠককক্ষের ঐতিহাসিক কাঠামো ও স্থাপত্যশৈলী সংরক্ষণ করতে হবে। তবে আসবাবপত্র নির্বাচন, সাজসজ্জা পরিবর্তন এবং স্বাভাবিক নিরাপত্তা ও পরিচালনাসংক্রান্ত সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বহাল থাকবে। ঐতিহাসিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন বা ভাঙচুরের আগে পর্যালোচনা করতে হবে এবং বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঘোষণাপত্রে সই করার সময় ট্রাম্প বলেন, ওভাল অফিসকে কেউ ধ্বংস করতে বা ভেঙে অন্য আকৃতিতে তৈরি করতে পারবেন না। এটি হোয়াইট হাউসের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
তবে ভবিষ্যতে কেউ ওভাল অফিসের আকৃতি পরিবর্তন করে বর্গাকার করতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও তার সই করা ঘোষণাপত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার এমন কোনো বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা সামনে এল। নির্বাচনের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে নির্মাণাধীন নতুন বলরুমের শেষ ছাদবিমে সই করেন তিনি। এর আগের দিন লিংকন স্মৃতিসৌধের সামনের প্রতিফলন পুকুরের সংস্কারকাজ নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন কক্ষের সাজসজ্জায় পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প। ওভাল অফিসের দেয়ালে যুক্ত করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তির প্রতিকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের একটি অনুলিপি এবং সোনালি রঙের নানা নকশা। মন্ত্রিসভার বৈঠককক্ষেও নতুন ঝাড়বাতি স্থাপন করেছেন তিনি। তার দাবি, আগের আলোর ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বলরুম নির্মাণে অর্থ দেওয়া দাতাদের কাছে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চিঠি পাঠিয়েছেন কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। প্রকল্পটির অর্থায়ন সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন তিনি। তথ্য না দিলে বিকল্প আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন।
উল্লেখ্য, হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া বাস্তবায়নের অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। নিজেও আগে পূর্বসূরিদের ঘোষিত কয়েকটি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা বাতিল করেছিলেন তিনি।
সূত্র: এপি
আরটিভি/জেএমএ


