ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টাইমস স্কয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কোয়ারে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুরখেলা, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থল ফাদার ডাফি স্কোয়ার, ব্রডওয়ে ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ৪৬তম ও ৪৭তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকা। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দুই দিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা জানানো হয়েছে।

১০ অক্টোবর প্রথম দিনের সূচিতে সকাল ১১টায় ষষ্ঠী পূজা দিয়ে মূল ধর্মীয় আয়োজন শুরুর কথা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টায় পুষ্পাঞ্জলি, সাড়ে ১২টায় সপ্তমী পূজা, দুপুর ২টায় আবার পুষ্পাঞ্জলি, আড়াইটায় অষ্টমী পূজা এবং বিকেল ৪টায় পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন রাখা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রসাদ বিতরণের পর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে নৃত্য, সংগীত ও বিশেষ পরিবেশনা থাকবে। আয়োজকদের বর্তমান সূচিতে নৃত্যাঞ্জলির পরিবেশনা, ডান্ডিয়া নাচ এবং শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রচারপত্র ও ওয়েবসাইটের কিছু সংস্করণে শিল্পীদের নাম ও সময়সূচিতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

১১ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হবে নবমী পূজা দিয়ে। এরপর পুষ্পাঞ্জলি, দশমী পূজা এবং প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি বিকেল ৫টায় সিঁদুরখেলার আয়োজন রয়েছে। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে ধুনুচি নাচ, নৃত্য পরিবেশনা এবং সংগীতানুষ্ঠান রাখা হয়েছে।

এবারের আয়োজনকে ঘিরে মহালয়া ও চণ্ডীপাঠের কথাও বিভিন্ন প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৬ সালে মহালয়া পড়ায় দিনটির সঙ্গে ধর্মীয় তাৎপর্যও যুক্ত হয়েছে। কিছু প্রচারপত্রে সকাল ১১টায় চণ্ডীপাঠ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর কথা বলা হলেও আয়োজকদের ওয়েবসাইটের বিস্তারিত সূচিতে একই সময়ে ষষ্ঠী পূজার উল্লেখ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

আয়োজক কমিটির বরাতে জানানো হয়েছে, দুই দিনের উৎসবে চণ্ডীপাঠ, শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। প্রবাসী বাঙালি শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণকে এবারের আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফাদার ডাফি স্কোয়ার নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কোয়ারের অংশ। প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে যান। এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিসরে দুর্গোৎসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

আয়োজক সংগঠন জানিয়েছে, টাইমস স্কোয়ারে দুর্গাপূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দৃশ্যমান উপস্থিতিও তুলে ধরে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার লক্ষ্যও রয়েছে এ আয়োজনের।

গতবারের আয়োজনের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো টাইমস স্কোয়ারে দুর্গোৎসব হচ্ছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে পূজার পাশাপাশি সংগীত, নৃত্য ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার কারণে এটি প্রবাসী বাঙালিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।

তবে অনুষ্ঠানসূচির বিভিন্ন প্রচারপত্র ও আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সময় এবং শিল্পীদের তালিকায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই ১০ বা ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সর্বশেষ সময়সূচি ও পরিবেশনার তথ্য আয়োজকদের হালনাগাদ ঘোষণা থেকে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর কোনগুলো, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা শহরভেদে আকাশ-পাতাল তফাত হতে পারে।
গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর কোনগুলো, জেনে নিন
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কাটল ১২ বছর, অতঃপর...
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই, একদিন পাবেন একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়াবাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা।
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কাটল ১২ বছর, অতঃপর...
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যান তিনি। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
শান্ত-সৌম্য চেহারা। পরনে স্যুট, গলায় টাই। হাতে ছোট একটি ব্রিফকেস। দেখলে মনে হতে পারে আর দশজন সাধারণ যাত্রীর মতোই তিনি। কিন্তু বিমানে ওঠার পরই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ব্রিফকেসে বোমা থাকার দাবি করে ছিনিয়ে নেন বিমান। এরপর ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উড়ন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দেন অন্ধকারে। তারপর? আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বরের। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে এসে সিয়াটলের একটি একমুখী টিকিট কেনেন এক ব্যক্তি। টিকিটে নাম দেন ‘ড্যান কুপার’। বয়স আনুমানিক চল্লিশের মাঝামাঝি। বিমানে উঠে অর্ডার করেন বারবন ও সোডা। বিকেল ৩টার কিছু পর এক বিমানবালার হাতে একটি নোট তুলে দেন তিনি। নোটে লেখা ছিল, তার ব্রিফকেসে বোমা রয়েছে এবং বিমানবালাকে তার পাশে বসতে হবে। পরে ব্রিফকেসটি সামান্য খুলে তার ভেতরে তার ও লাল রঙের কাঠির মতো বস্তু দেখান তিনি। এরপর পাইলটের কাছে পাঠানো হয় তার দাবি। চারটি প্যারাসুট এবং ২০ ডলারের নোটে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে এটাই ছিল ছিনতাইকারীর শর্ত। সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর মুক্তিপণের অর্থ ও প্যারাসুট বিমানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ যাত্রীকে ছেড়ে দেন তিনি। তবে কয়েকজন ক্রু সদস্যকে জিম্মি রেখে বিমানটিকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাত ৮টার কিছু পর। সিয়াটল ও রেনোর মাঝামাঝি কোথাও উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশ দিয়ে প্যারাসুট ও মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এরপর আর কোনোদিন দেখা যায়নি তাকে। ঘটনার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শুরু করে ‘নরজ্যাক’ নামে বিশাল তদন্ত। বিমানে তল্লাশি চালানো হয়, শত শত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই ৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু একে একে সবাই বাদ পড়তে থাকেন। তদন্তকারীরা বিমানে খুঁজে পান একটি কালো জে.সি. পেনি টাই। পরে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। উদ্ধার করা হয় দুটি প্যারাসুট ও একটি ক্যানভাসের ব্যাগ। তবে ছিনতাইকারী কোন প্যারাসুট ব্যবহার করেছিলেন এবং লাফ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল তা আর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কয়েক মাস পর রিচার্ড ফ্লয়েড ম্যাককয় নামে এক ব্যক্তিকে একই ধরনের বিমান ছিনতাই ও প্যারাসুটে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিমানবালাদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় তাকে ডি.বি. কুপার হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এদিকে, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, ভয়ংকর সেই লাফের পর হয়তো বেঁচেই ছিলেন না কুপার। কারণ তার ব্যবহৃত প্যারাসুটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল না। তার পোশাক ও জুতা ছিল দুর্গম বনাঞ্চলে অবতরণের জন্য অনুপযোগী। তার ওপর ছিল রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ। তবে ১৯৮০ সালে রহস্যে যোগ হয় নতুন অধ্যায়। কলম্বিয়া নদীর কাছে এক বালক পচে যাওয়া একটি প্যাকেট খুঁজে পায়। ভেতরে ছিল ৫ হাজার ৮০০ ডলার। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো কুপারকে দেওয়া মুক্তিপণের অর্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাহলে কি নদী বা জঙ্গলে কোথাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন কুপার? নাকি বিপুল অর্থ নিয়ে সফলভাবেই পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি? আরেকটি বিষয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। সংবাদমাধ্যমে ‘ডি.বি. কুপার’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও ‘ডি.বি.’ আসলে ছিল ভুলবশত ছড়িয়ে পড়া একটি নাম। মূল ছিনতাইকারী নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ড্যান কুপার নামে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও রহস্যের কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি এফবিআই। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সংস্থাটি জানায়, মামলাটিতে বরাদ্দকৃত তদন্ত সম্পদ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেটে গেছে আরও অনেক বছর। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই রাতের প্রশ্নগুলো আজও রয়ে গেছে কে ছিলেন ড্যান কুপার? প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল? আর মুক্তিপণের বাকি টাকা কোথায় গেল? উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। তাই মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসী বিমান ছিনতাইয়ের এই কাহিনি আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। সূত্র: এফবিআই আরটিভি/এসকে
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
শান্ত-সৌম্য চেহারা। পরনে স্যুট, গলায় টাই। হাতে ছোট একটি ব্রিফকেস। দেখলে মনে হতে পারে আর দশজন সাধারণ যাত্রীর মতোই তিনি। কিন্তু বিমানে ওঠার পরই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ব্রিফকেসে বোমা থাকার দাবি করে ছিনিয়ে নেন বিমান। এরপর ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উড়ন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দেন অন্ধকারে। তারপর? আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বরের। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে এসে সিয়াটলের একটি একমুখী টিকিট কেনেন এক ব্যক্তি। টিকিটে নাম দেন ‘ড্যান কুপার’। বয়স আনুমানিক চল্লিশের মাঝামাঝি। বিমানে উঠে অর্ডার করেন বারবন ও সোডা। বিকেল ৩টার কিছু পর এক বিমানবালার হাতে একটি নোট তুলে দেন তিনি। নোটে লেখা ছিল, তার ব্রিফকেসে বোমা রয়েছে এবং বিমানবালাকে তার পাশে বসতে হবে। পরে ব্রিফকেসটি সামান্য খুলে তার ভেতরে তার ও লাল রঙের কাঠির মতো বস্তু দেখান তিনি। এরপর পাইলটের কাছে পাঠানো হয় তার দাবি। চারটি প্যারাসুট এবং ২০ ডলারের নোটে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে এটাই ছিল ছিনতাইকারীর শর্ত। সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর মুক্তিপণের অর্থ ও প্যারাসুট বিমানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ যাত্রীকে ছেড়ে দেন তিনি। তবে কয়েকজন ক্রু সদস্যকে জিম্মি রেখে বিমানটিকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাত ৮টার কিছু পর। সিয়াটল ও রেনোর মাঝামাঝি কোথাও উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশ দিয়ে প্যারাসুট ও মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এরপর আর কোনোদিন দেখা যায়নি তাকে। ঘটনার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শুরু করে ‘নরজ্যাক’ নামে বিশাল তদন্ত। বিমানে তল্লাশি চালানো হয়, শত শত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই ৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু একে একে সবাই বাদ পড়তে থাকেন। তদন্তকারীরা বিমানে খুঁজে পান একটি কালো জে.সি. পেনি টাই। পরে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। উদ্ধার করা হয় দুটি প্যারাসুট ও একটি ক্যানভাসের ব্যাগ। তবে ছিনতাইকারী কোন প্যারাসুট ব্যবহার করেছিলেন এবং লাফ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল তা আর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কয়েক মাস পর রিচার্ড ফ্লয়েড ম্যাককয় নামে এক ব্যক্তিকে একই ধরনের বিমান ছিনতাই ও প্যারাসুটে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিমানবালাদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় তাকে ডি.বি. কুপার হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এদিকে, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, ভয়ংকর সেই লাফের পর হয়তো বেঁচেই ছিলেন না কুপার। কারণ তার ব্যবহৃত প্যারাসুটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল না। তার পোশাক ও জুতা ছিল দুর্গম বনাঞ্চলে অবতরণের জন্য অনুপযোগী। তার ওপর ছিল রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ। তবে ১৯৮০ সালে রহস্যে যোগ হয় নতুন অধ্যায়। কলম্বিয়া নদীর কাছে এক বালক পচে যাওয়া একটি প্যাকেট খুঁজে পায়। ভেতরে ছিল ৫ হাজার ৮০০ ডলার। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো কুপারকে দেওয়া মুক্তিপণের অর্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাহলে কি নদী বা জঙ্গলে কোথাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন কুপার? নাকি বিপুল অর্থ নিয়ে সফলভাবেই পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি? আরেকটি বিষয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। সংবাদমাধ্যমে ‘ডি.বি. কুপার’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও ‘ডি.বি.’ আসলে ছিল ভুলবশত ছড়িয়ে পড়া একটি নাম। মূল ছিনতাইকারী নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ড্যান কুপার নামে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও রহস্যের কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি এফবিআই। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সংস্থাটি জানায়, মামলাটিতে বরাদ্দকৃত তদন্ত সম্পদ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেটে গেছে আরও অনেক বছর। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই রাতের প্রশ্নগুলো আজও রয়ে গেছে কে ছিলেন ড্যান কুপার? প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল? আর মুক্তিপণের বাকি টাকা কোথায় গেল? উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। তাই মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসী বিমান ছিনতাইয়ের এই কাহিনি আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। সূত্র: এফবিআই আরটিভি/এসকে
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা
দুর্গোৎসব ঘিরে ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে আ.লীগ: রাশেদ খাঁন
ছয় টয়লেট অচল, মাঝ আকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করল যাত্রীবাহী বিমান
সুগার ফ্রি পানীয়তে কিটক্যাটের সমান চিনি, স্টারবাকসের বিরুদ্ধে মামলা