ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাড়ি চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর কোনগুলো, জেনে নিন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা শহরভেদে আকাশ-পাতাল তফাত হতে পারে। কোথাও রাস্তাঘাট চমৎকার, যানজট কম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হাতের নাগালে; আবার কোথাও প্রতিদিনের যাতায়াত মানেই অন্তহীন যানজট, বাড়তি খরচ আর নিরাপত্তার দুশ্চিন্তা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বড় শহরের ওপর চালিত এক নতুন গবেষণায় গাড়িচালকদের জন্য দেশের সেরা ও সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং সবচেয়ে অসুবিধাজনক শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

ওয়ালেটহাবের এই গবেষণায় অ্যারিজোনার স্কটসডেলকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গাড়ি চালানোর জন্য সেরা শহর হিসেবে শীর্ষস্থান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া। এছাড়া তালিকার একেবারে নিচের দিকে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের মতো জনবহুল শহরগুলো।

গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, যানজট ও সড়ক অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং সার্ভিস সুবিধা—এই চারটি প্রধান বিষয়ের ভিত্তিতে ১০০টি বড় শহরকে তুলনা করা হয়েছে। জ্বালানির গড় দাম, মেরামতের খরচ, পার্কিং সুবিধা, যানজটে নষ্ট হওয়া সময়, সড়কের মান, আবহাওয়াগত ঝুঁকি ও গাড়ি চুরির হারের মতো মোট ৩০টি সূচক বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত স্কোর তৈরি করা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রায় ৮৭ শতাংশই ব্যক্তিগত গাড়িতে হয়ে থাকে। ফলে গাড়ি চালানোর খরচ ও সময় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। পরিসংখ্যান বলছে, তীব্র যানজটের কারণে একজন চালককে বছরে গড়ে প্রায় ৩৭০ ঘণ্টা সময় হারাতে হয়। পাশাপাশি জ্বালানি অপচয় ও জ্যামে আটকে থাকার কারণে প্রতি চালকের বছরে প্রায় ৮৯৪ ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ হয়।

স্কটসডেলের পর শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে আইডাহোর বোইসি, ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন, নেব্রাস্কার লিংকন, টেক্সাসের কর্পাস ক্রিস্টি, উত্তর ক্যারোলাইনার র‌্যালি, টেক্সাসের লাবক, কেন্টাকির লেক্সিংটন-ফায়েট, ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল এবং উত্তর ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেম। স্কটসডেলের শীর্ষে থাকার পেছনে ভূমিকা রেখেছে নতুন গাড়ির তুলনামূলক কম দাম, সুবিধাজনক পার্কিং খরচ, ভালো সড়ক ও ব্রিজ, কম দুর্ঘটনা ঝুঁকি, পর্যাপ্ত মেরামতের দোকান এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী বীমা প্রিমিয়াম।

তালিকার ১০০ নম্বরে রয়েছে ফিলাডেলফিয়া। দুর্বল সড়ক ব্যবস্থা, তীব্র যানজট ও নিরাপত্তার অভাবই শহরটির এই দশার জন্য দায়ী। এছাড়া তালিকার তলানিতে থাকা অন্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি, লস এঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক ও ডেট্রয়েট। লস এঞ্জেলেসের সামগ্রিক স্কোর মাত্র ৩৬.৫০। এর মধ্যে গাড়ি মালিকানা ও রক্ষণাবেক্ষণে শহরটির অবস্থান ৯৮তম এবং যানজট ও অবকাঠামো খাতে ৯০তম। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য বড় শহরের অবস্থাও বেশ নাজুক—সান ফ্রান্সিসকো ৯১তম, ওকল্যান্ড ৯৪তম এবং সান দিয়েগো ৮৫তম অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলোতে জ্বালানির দাম অনেক বেশি। যেমন—ফোর্ট ওয়েনে গ্যাসের যে দাম, সান ফ্রান্সিসকোতে তা প্রায় দ্বিগুণ।

অন্যদিকে, টেক্সাসের লাবকে যানজটে নষ্ট হওয়া সময় শিকাগোর তুলনায় ১৪ গুণ কম। ফোর্ট ওয়েনে জ্বালানির দাম বেশ কম, বোইসি শহরটি জাতীয় গড়ের তুলনায় দুর্ঘটনার দিক থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফ্লোরিডার হিয়ালিয়াহতে গাড়ি চুরির হার সর্বনিম্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি জনবহুল শহরের মূল শহরাঞ্চলগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে আশপাশের মেট্রো এলাকার তথ্য আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২৬ সালের এই র‍্যাঙ্কিংটি গত ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডির শিক্ষাভাতায় থাকা সম্ভব? জেনে নিন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বড় একটি প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া স্টাইপেন্ড বা শিক্ষাভাতা দিয়ে থাকা, খাওয়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানো সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডির শিক্ষাভাতায় থাকা সম্ভব? জেনে নিন বিস্তারিত
টাইমস স্কয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা
নিউইয়র্কে টাইমস স্কোয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে দুর্গোৎসব। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর ফাদার ডাফি স্কোয়ারে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সিঁদুরখেলা, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 
টাইমস স্কয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপিত হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কাটল ১২ বছর, অতঃপর...
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কেটে গেছে ১২ বছরেরও বেশি সময়। লক্ষ্য ছিল একটাই, একদিন পাবেন একটি হীরা। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো অবশেষে। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাসের বিখ্যাত ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে খুঁজতে গিয়ে জ্যাক পিয়াবাডিন পেয়েছেন ৬.০৩ ক্যারেটের একটি বিশাল হলুদ হীরা।
মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে কাটল ১২ বছর, অতঃপর...
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়নি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন প্রয়োগের পরও বেঁচে যান তিনি। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমি কোথায়?’ এবং ‘আপনি কে?’
জ্ঞান ফিরে পেয়েই যে প্রশ্ন করেন মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়া ক্রিস্টা পাইক
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
শান্ত-সৌম্য চেহারা। পরনে স্যুট, গলায় টাই। হাতে ছোট একটি ব্রিফকেস। দেখলে মনে হতে পারে আর দশজন সাধারণ যাত্রীর মতোই তিনি। কিন্তু বিমানে ওঠার পরই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ব্রিফকেসে বোমা থাকার দাবি করে ছিনিয়ে নেন বিমান। এরপর ২ লাখ ডলার ও প্যারাসুট নিয়ে উড়ন্ত বিমান থেকে ঝাঁপ দেন অন্ধকারে। তারপর? আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। ঘটনাটি ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বরের। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ড বিমানবন্দরে নর্থওয়েস্ট ওরিয়েন্ট এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে এসে সিয়াটলের একটি একমুখী টিকিট কেনেন এক ব্যক্তি। টিকিটে নাম দেন ‘ড্যান কুপার’। বয়স আনুমানিক চল্লিশের মাঝামাঝি। বিমানে উঠে অর্ডার করেন বারবন ও সোডা। বিকেল ৩টার কিছু পর এক বিমানবালার হাতে একটি নোট তুলে দেন তিনি। নোটে লেখা ছিল, তার ব্রিফকেসে বোমা রয়েছে এবং বিমানবালাকে তার পাশে বসতে হবে। পরে ব্রিফকেসটি সামান্য খুলে তার ভেতরে তার ও লাল রঙের কাঠির মতো বস্তু দেখান তিনি। এরপর পাইলটের কাছে পাঠানো হয় তার দাবি। চারটি প্যারাসুট এবং ২০ ডলারের নোটে ২ লাখ মার্কিন ডলার দিতে হবে এটাই ছিল ছিনতাইকারীর শর্ত। সিয়াটলে বিমান অবতরণের পর মুক্তিপণের অর্থ ও প্যারাসুট বিমানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর ৩৬ যাত্রীকে ছেড়ে দেন তিনি। তবে কয়েকজন ক্রু সদস্যকে জিম্মি রেখে বিমানটিকে মেক্সিকো সিটির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাত ৮টার কিছু পর। সিয়াটল ও রেনোর মাঝামাঝি কোথাও উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশ দিয়ে প্যারাসুট ও মুক্তিপণের অর্থ নিয়ে অন্ধকারে ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এরপর আর কোনোদিন দেখা যায়নি তাকে। ঘটনার পর মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই শুরু করে ‘নরজ্যাক’ নামে বিশাল তদন্ত। বিমানে তল্লাশি চালানো হয়, শত শত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই ৮০০ জনের বেশি সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু একে একে সবাই বাদ পড়তে থাকেন। তদন্তকারীরা বিমানে খুঁজে পান একটি কালো জে.সি. পেনি টাই। পরে সেখান থেকে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। উদ্ধার করা হয় দুটি প্যারাসুট ও একটি ক্যানভাসের ব্যাগ। তবে ছিনতাইকারী কোন প্যারাসুট ব্যবহার করেছিলেন এবং লাফ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল তা আর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কয়েক মাস পর রিচার্ড ফ্লয়েড ম্যাককয় নামে এক ব্যক্তিকে একই ধরনের বিমান ছিনতাই ও প্যারাসুটে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিমানবালাদের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে তার চেহারার মিল না থাকায় তাকে ডি.বি. কুপার হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এদিকে, তদন্তকারীদের একটি বড় অংশের ধারণা, ভয়ংকর সেই লাফের পর হয়তো বেঁচেই ছিলেন না কুপার। কারণ তার ব্যবহৃত প্যারাসুটটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ছিল না। তার পোশাক ও জুতা ছিল দুর্গম বনাঞ্চলে অবতরণের জন্য অনুপযোগী। তার ওপর ছিল রাতের অন্ধকার এবং প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ। তবে ১৯৮০ সালে রহস্যে যোগ হয় নতুন অধ্যায়। কলম্বিয়া নদীর কাছে এক বালক পচে যাওয়া একটি প্যাকেট খুঁজে পায়। ভেতরে ছিল ৫ হাজার ৮০০ ডলার। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলো কুপারকে দেওয়া মুক্তিপণের অর্থের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাহলে কি নদী বা জঙ্গলে কোথাও মৃত্যুবরণ করেছিলেন কুপার? নাকি বিপুল অর্থ নিয়ে সফলভাবেই পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি? আরেকটি বিষয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। সংবাদমাধ্যমে ‘ডি.বি. কুপার’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও ‘ডি.বি.’ আসলে ছিল ভুলবশত ছড়িয়ে পড়া একটি নাম। মূল ছিনতাইকারী নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন ড্যান কুপার নামে। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তদন্ত করেও রহস্যের কোনো চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি এফবিআই। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সংস্থাটি জানায়, মামলাটিতে বরাদ্দকৃত তদন্ত সম্পদ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর কেটে গেছে আরও অনেক বছর। কিন্তু ১৯৭১ সালের সেই রাতের প্রশ্নগুলো আজও রয়ে গেছে কে ছিলেন ড্যান কুপার? প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার পর তার কী হয়েছিল? আর মুক্তিপণের বাকি টাকা কোথায় গেল? উত্তর মেলেনি কোনো প্রশ্নেরই। তাই মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসী বিমান ছিনতাইয়ের এই কাহিনি আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। সূত্র: এফবিআই আরটিভি/এসকে
প্যারাসুট নিয়ে উড়োজাহাজ থেকে উধাও ছিনতাইকারী, অতঃপর...
আরও পড়ুন
ছয় টয়লেট অচল, মাঝ আকাশ থেকে জরুরি অবতরণ করল যাত্রীবাহী বিমান
শত বছর পর মিলল নতুন প্রজাতির ক্ষুদ্র বন্য বিড়ালের সন্ধান
থ্যাংকসগিভিং-ক্রিসমাসে কম ভাড়ায় বিমানের টিকিট মিলবে যেদিন
স্ত্রী হত্যায় সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগীর যাবজ্জীবন