ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারে আপত্তি ভ্যান্সের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও তিনি তা দেখবেন না। তবে এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও হাসানের অপরাধ ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান্স বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও হাসান যে অনেক নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তা যেন কেউ ভুলে না যান।

২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে হাসান দোষী সাব্যস্ত হন।

ভ্যান্স ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ক্যাথলিক গির্জা দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) টেক্সাসে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে গুলি করে হত্যার প্রতি সমর্থন জানান। তার ভাষ্য, হাসান এ ধরনের শাস্তির যোগ্য।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে আবারও কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, হাসানকে গুলি করে হত্যা করা হবে। কীভাবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, তা নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তিত নন; তবে হাসানের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড উপযুক্ত শাস্তি বলে মনে করেন তিনি। সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দেননি ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রধান আর্চবিশপ পল এস কোকলিও শুক্রবার সকালে এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের কথা জেনে তিনি মর্মাহত ও গভীরভাবে দুঃখিত। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত মৃত্যুকে ঘিরে বর্বর সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে এবং তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

গত মাসের শেষ দিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসির গভর্নর চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে পরবর্তী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেন। এর কয়েক দিন পর ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের অনুমোদন দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে গুলি করে কোনো সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১৩ এপ্রিল। সে সময় সেনাবাহিনীর সদস্য জন বেনেটকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অনেকে এ সিদ্ধান্তকে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য বলে আখ্যা দিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তর ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেন, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো ঘটনা ইরান ও আফগানিস্তানের মতো দমনমূলক শাসনব্যবস্থায় দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিশ্বের প্রায় কোনো দেশই এ ধরনের বর্বর চর্চায় যুক্ত হয় না। আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা।

উটাহর রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিসও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন। প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত বিনোদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করলে এ ধরনের নির্মম দৃশ্য দেখার আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: এপি

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বললেন ‘১০ মিনিটে শেষ করতে পারব’
ইরানের রহস্যময়ী পিকঅ্যাক্স পাহাড়সহ আরও দুই একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব স্থাপনা ধ্বংস করতে তাদের মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) পাম সমুদ্র সৈকতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা তাদের পারমাণবিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। তবে আমাদের এখনো, আমি বলব এক থেকে দুটি স্থাপনা দেখতে (হামলা চালাতে) হবে। তবে আমরা এটি মাত্র ১০ মিনিটে করতে পারব। ‘আপনার পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের দিকে দেখতে পারেন, আমাদের ওই পাহাড়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা যা খুব দ্রুত সময়ে করতে পারব।’ পশ্চিমা গোয়েন্দারা মনে করেন, ইরান তাদের পারমাণবিক উপকরণ পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের নিচে থাকা গোপন স্থানে রেখেছে। যদিও এটি শুধুমাত্র তাদের ধারণা। যুক্তরাষ্ট্র গত দুই বছরে ইরানে দুইবার হামলা চালালেও পিকঅ্যাক্স পাহাড়কে একবারও টার্গেট করেনি। তবে দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন তাদের এ পাহাড়ে হামলা চালানো উচিত। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল আরটিভি/এসআর
এবার ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বললেন ‘১০ মিনিটে শেষ করতে পারব’
ইরানের হামলার আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বললেন ট্রাম্প
ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শনিবার সকালে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এ সময় ইরানে ফের হামলা শুরুর পরিকল্পনা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চান ট্রাম্প। তবে সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে নাকি চালাবে না এ নিয়ে অস্পষ্টতায় রয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগ। তাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আলোচনায় ফেরার জন্য আরেকটি সুযোগ দিতে চায়। তবে ইসরায়েলি সেনা কমান্ডারদের মতে, ইরান অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করবে না, যেখানে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে ইরানকে শর্ত দেওয়া হচ্ছে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদনও বন্ধ করে দিতে হবে। যা ইরান কোনোভাবেই মানবে না। ইরসায়েলি কমান্ডারদের ধারণা ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে। যেন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের প্রভাব পড়ে। তারা আরও বলছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে যদি মার্কিনিরা বুঝতে পারে ইরান আকস্মিক হামলা চালাতে পারে; তখনই শুধু নির্বাচনের আগে হামলা হতে পারে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। যেখানে দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের সব আসন এবং সিনেটের এক তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরটিভি/এসআর
ইরানের হামলার আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বললেন ট্রাম্প
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আলোচনায় এসেছে ১৩ হাজার ডলারেরও কম দামে কেনা একটি পুরোনো টেসলা মডেল এস। প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চালানোর পরও গাড়িটি একবার চার্জে ২২১ মাইল চলতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি গাড়ি বিষয়ক গবেষণা ও পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান এডমন্ডসের পরিচালিত এক পরীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে।  নতুন অবস্থায় প্রায় ৭০ হাজার ডলার বা তার বেশি দামের এই বিলাসবহুল গাড়ি এখন মূল দামের তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন পারফরম্যান্স পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এডমন্ডস জানিয়েছে, তারা ১৩ হাজার ডলারের কম দামে গাড়িটি কেনার পর নিজেদের প্রচলিত ইভি রেঞ্জ টেস্টের মাধ্যমে এর কার্যক্ষমতা যাচাই করে। পরীক্ষায় বাস্তব পরিস্থিতিতে এক চার্জে গাড়িটি ২২১ মাইল চলেছে। গাড়ি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনসাইডইভিএস এই ফলাফলকে গাড়িটির ক্রয়মূল্য বিবেচনায় বেশ ভালো পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে।  বিশেষ করে ১ লাখ ৩৫ হাজার মাইল চলার পরও গাড়িটি যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছে, তা পুরোনো টেসলা কেনার সম্ভাব্যতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। গাড়িটির সুনির্দিষ্ট ট্রিম বা সংস্করণ নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এর চলার দূরত্ব ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি টেসলা মডেল এস ৮৫ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংস্করণের নতুন অবস্থায় ঘোষিত রেঞ্জ ছিল প্রায় ২৬৫ মাইল।  সেই হিসাবে পরীক্ষায় পাওয়া ২২১ মাইল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তবে এটি গাড়িটির ব্যাটারির অবশিষ্ট সক্ষমতার চূড়ান্ত পরিমাপ নয়, বরং নির্দিষ্ট পরীক্ষায় পাওয়া বাস্তব রেঞ্জ। শুধু ব্যাটারির পারফরম্যান্স নয়, গাড়িটির গতিও পরীক্ষকদের নজর কেড়েছে। পুরোনো ও একে অপরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন টায়ার ব্যবহার করা সত্ত্বেও গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নিয়েছে মাত্র ৫ সেকেন্ড।  এক-চতুর্থাংশ মাইলের দৌড় শেষ করতেও সময় লেগেছে ১৩ দশমিক ৩ সেকেন্ড। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও গাড়িটির এমন গতিশীলতা এর মোটর ও ড্রাইভিং পারফরম্যান্স সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছে। এডমন্ডসের পরীক্ষায় গাড়িটির ভেতরের পরিবেশও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। পরীক্ষকদের মতে, গাড়িটি এখনো বেশ নীরব, আরামদায়ক এবং রাস্তায় স্থিতিশীল। পুরোনো হলেও এর বিলাসবহুল অনুভূতি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে সবকিছুই যে ভালো অবস্থায় রয়েছে, তা নয়। গাড়িটির পেছনের মোটর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসছে, চালকের সামনের ডিসপ্লেতে ক্ষতি রয়েছে এবং পাওয়ার টেইলগেটের কার্যক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এসব অংশে মেরামতের প্রয়োজন হতে পারে। গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর কোনো ওয়ারেন্টি নেই। ফলে ব্যাটারি, মোটর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের পুরো খরচ নতুন মালিককেই বহন করতে হবে। কম দামে বিলাসবহুল টেসলা কেনার সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নতুন মালিকের জন্য বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। আরটিভি/এসআর
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স
নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় বিকল্প আবাসনের খোঁজ করছেন অনেক ক্রেতা। তাদের পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কুইন্স।  তুলনামূলক কম দামে বড় বাসা পাওয়ার পাশাপাশি শহুরে জীবনযাপনের সুবিধা ধরে রাখতে পারায় ম্যানহাটন থেকে কুইন্সের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বাড়ির ক্রেতাদের। Realtor.com-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র। নিউ ইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো, ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বাড়ির বিজ্ঞাপনে অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।  এতে দেখা গেছে, বরোগুলোর মধ্যে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে কুইন্স পেয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান। কুইন্সের বাড়ির বিজ্ঞাপনে বাইরের বরো থেকে আসা আগ্রহের মধ্যে ম্যানহাটনের বাসিন্দাদের অংশই ৪৫ শতাংশের বেশি। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ম্যানহাটনে বাড়ি খোঁজার ক্ষেত্রে নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ অনুসন্ধানকারী। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ অনুসন্ধান অন্য বরোগুলোর বাড়ির বিজ্ঞাপনের দিকে যাচ্ছে। তবে এই পরিসংখ্যান অনলাইন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি। এর অর্থ এই নয় যে ম্যানহাটনের ৮০ শতাংশ বাসিন্দা ইতোমধ্যে অন্য এলাকায় চলে গেছেন বা বাড়ি কিনেছেন। নিজ নিজ বরোর বাড়ির বিজ্ঞাপনে আগ্রহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড। সেখানে প্রায় ৮৭ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান নিজ বরোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।  কুইন্সে এ হার ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ব্রঙ্কসে ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ব্রুকলিনে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানহাটনের কম অনুসন্ধান ধরে রাখতে পারার পেছনে বাড়ির উচ্চমূল্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।শহর খুঁজুন বাড়ির দামের ব্যবধানেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ম্যানহাটনে বাড়ির বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার।  একই সময়ে কুইন্সে এই দাম ছিল ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা ম্যানহাটনের অর্ধেকেরও কম। ব্রুকলিনে মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার ডলার, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার। কুইন্সের আবাসন বাজারে আগ্রহ বাড়ার আরেকটি কারণ সেখানে বাড়ির তুলনামূলক বেশি সরবরাহ। ২০২৬ সালের আগস্টে বরোটিতে বিক্রির জন্য সক্রিয় বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩৪০টি। বিপরীতে ব্রঙ্কসে ছিল মাত্র ১ হাজার ৪২টি।  Realtor.com-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই জুয়ের মতে, ব্রঙ্কসে দাম তুলনামূলক কম হলেও কুইন্সে বাড়ির বিকল্প বেশি থাকায় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বাসা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ম্যানহাটন থেকে কুইন্সে আসা ক্রেতাদের বড় অংশই তুলনামূলক বড় জায়গা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান। কুইন্স হোম টিমের আবাসন প্রতিনিধি জেরালডিনে গিরালদো Realtor.com-কে জানান, তার অভিজ্ঞতায় তরুণ দম্পতি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াবাসায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কুইন্সে বাড়ি কেনার আগ্রহ বেশি। তাঁদের অনেকেই অন্তত ৮৫০ বর্গফুটের বাসা খুঁজছেন। বিশেষ করে দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট তাঁদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটি, অ্যাস্টোরিয়া ও বেসাইড ম্যানহাটন থেকে আসা ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। এসব এলাকায় গণপরিবহনের যোগাযোগ, খাবারের বৈচিত্র্য এবং শহুরে পরিবেশের কারণে আগ্রহ বাড়ছে।  এ ছাড়া সানিসাইড ও উডসাইড এলাকাতেও বাড়ির সরবরাহ বাড়ায় ক্রেতাদের নজর পড়ছে। আবাসন প্রতিনিধি আন্দ্রেস পুলি মনে করেন, এসব এলাকায় ম্যানহাটনের মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া যায়, আবার তুলনামূলক বেশি ব্যক্তিগত পরিসরও মেলে। কুইন্সে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নতুন নির্মিত কনডোমিনিয়াম বা ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাপার্টমেন্ট। তবে কেউ কেউ বড় পরিবারের জন্য একক বাড়ি কিনছেন।  আবার কয়েকটি পরিবারের একসঙ্গে বসবাস কিংবা বাড়ির একটি অংশ ভাড়া দিয়ে ঋণের খরচ সামলানোর উদ্দেশ্যে বহুতল আবাসনও কিনছেন অনেকে। তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের মধ্যে তুলনামূলক কম দামের কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে।শহর খুঁজুন এদিকে কুইন্সের সানিসাইড এলাকায় আবাসন উন্নয়নের একটি বড় পরিকল্পনাও রয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় উঠে এসেছে সানিসাইড ইয়ার্ডের ওপর অবকাঠামো নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরির প্রস্তাব।  প্রকল্পটির জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল চেয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি প্রশাসন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন আবাসনের পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে। তবে অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সব মিলিয়ে বাড়ির উচ্চমূল্য, তুলনামূলক বেশি আবাসন সরবরাহ এবং ম্যানহাটনের সঙ্গে ভালো যোগাযোগের কারণে কুইন্স নিউ ইয়র্ক সিটির বাড়ির ক্রেতাদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। Realtor.com-এর বিশ্লেষণ বলছে, শহরের ভেতরেই তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের কাছে আপাতত সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য কুইন্স। আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্কে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ম্যানহাটনের বদলে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কুইন্স
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণকারী মানুষের জন্য নতুন বছরের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। ২০২৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩.৬ শতাংশ বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ঘোষিত হার কার্যকর হলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ ডলার বেশি পেতে পারেন।মানচিত্র দেখুন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ঘোষণার ভিত্তিতে এই বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী সমান অঙ্কের বাড়তি অর্থ পাবেন না। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ বেশি হলে বাড়তি অর্থও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। আবার স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা অন্যান্য কর্তন থাকলে হাতে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।  অবসরভাতা ও প্রতিবন্ধিতাজনিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার নতুন অঙ্ক ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থপ্রদানে কার্যকর হবে। অন্যদিকে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা জানুয়ারির অর্থ আগাম ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পেতে পারেন। তাই ডিসেম্বরের শেষ দিকে অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হলে সেটি কোন মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একক ব্যক্তি ও দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ সহায়তাঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচিতে যোগ্য একক ব্যক্তির সর্বোচ্চ মাসিক ফেডারেল সহায়তা ১ হাজার ২৯ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৫৪৪ ডলার হতে পারে। এগুলো সর্বোচ্চ নির্ধারিত অঙ্ক; প্রত্যেকের প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ নয়। আয়, সম্পদ, পারিবারিক অবস্থা এবং অন্যান্য নিয়মের ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থ কম হতে পারে। সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে নতুন ভাতার বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারবেন। অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি না পেলে ডাকযোগে পাঠানো চিঠিও যাচাই করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ভাতার পরিমাণ এবং প্রযোজ্য কর্তনের তথ্য উল্লেখ থাকবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর পড়া চাপ কিছুটা কমানো। তবে ভাতা বাড়লেও বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে গেলে পরিবারের আর্থিক চাপ পুরোপুরি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য নতুন ভাতার বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য অর্থ জানতে সরকারি হিসাব ও ব্যক্তিগত বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করা উচিত। আরটিভি/এসআর
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার
আরও পড়ুন
এবার ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, বললেন ‘১০ মিনিটে শেষ করতে পারব’
এক চার্জে ২২১ মাইল চলে পুরোনো টেসলা, অবাক নতুন মালিক!
জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় বাড়তি ভাতা, কারা পাবেন মাসে আরও ৭৫ ডলার
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে পরিণতি হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক, বলছে মিশর