
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও তিনি তা দেখবেন না। তবে এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও হাসানের অপরাধ ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান্স বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও হাসান যে অনেক নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তা যেন কেউ ভুলে না যান।
২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে হাসান দোষী সাব্যস্ত হন।
ভ্যান্স ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ক্যাথলিক গির্জা দীর্ঘদিন ধরেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে।
এদিকে বুধবার (৭ অক্টোবর) টেক্সাসে এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে গুলি করে হত্যার প্রতি সমর্থন জানান। তার ভাষ্য, হাসান এ ধরনের শাস্তির যোগ্য।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে আবারও কথা বলেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, হাসানকে গুলি করে হত্যা করা হবে। কীভাবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, তা নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তিত নন; তবে হাসানের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড উপযুক্ত শাস্তি বলে মনে করেন তিনি। সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দেননি ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রধান আর্চবিশপ পল এস কোকলিও শুক্রবার সকালে এ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরের মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের কথা জেনে তিনি মর্মাহত ও গভীরভাবে দুঃখিত। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত মৃত্যুকে ঘিরে বর্বর সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে এবং তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
গত মাসের শেষ দিকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর টেনেসির গভর্নর চলতি বছরে অঙ্গরাজ্যটিতে পরবর্তী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেন। এর কয়েক দিন পর ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের অনুমোদন দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সামরিক বাহিনীতে গুলি করে কোনো সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬১ সালের ১৩ এপ্রিল। সে সময় সেনাবাহিনীর সদস্য জন বেনেটকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অনেকে এ সিদ্ধান্তকে ভয়াবহ ও ঘৃণ্য বলে আখ্যা দিয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরকে পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
উত্তর ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস বলেন, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো ঘটনা ইরান ও আফগানিস্তানের মতো দমনমূলক শাসনব্যবস্থায় দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, বিশ্বের প্রায় কোনো দেশই এ ধরনের বর্বর চর্চায় যুক্ত হয় না। আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিরক্ষা দপ্তরের উচিত সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা।
উটাহর রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিসও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন। প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত বিনোদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করলে এ ধরনের নির্মম দৃশ্য দেখার আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: এপি
আরটিভি/জেএমএ




