
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ১৯৩৪ সালে করা আইনের বেশ কিছু বিধান কার্যকর করা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। আদালত ওই আইনের বড় একটি অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার পর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে ছোট নলের রাইফেল, ছোট নলের বন্দুক ও শব্দনিরোধক যন্ত্রসহ নির্দিষ্ট কিছু আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আগাম অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরো (এটিএফ) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অধীন একটি কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গত মাসেই বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে না।
তবে নতুন নির্দেশনা অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের আইনকে বাতিল করছে না। এসব আগ্নেয়াস্ত্রের বিক্রি সীমিত করার পাশাপাশি অনেক অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া নিবন্ধনের আবেদনগুলো আগের মতোই প্রক্রিয়াকরণ করবে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
গত মাসে সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচার বিভাগকে আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। টেক্সাসের একটি আদালতের রায়ে একসময় দুষ্কৃতকারীদের অস্ত্র হিসেবে পরিচিত কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হয়।
১৯৩৪ সালের জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র আইন অনুযায়ী, আইনের আওতাভুক্ত অস্ত্র বা যন্ত্র তৈরি, রাখা কিংবা বিক্রি করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে বিস্তারিত লিখিত আবেদন জমা দিতে হতো। এছাড়া আরও কিছু নিয়ম মানতে হতো। নিষিদ্ধ মদ বিক্রির সময়কালে অপরাধী চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত বিপজ্জনক ও সহজে লুকিয়ে বহনযোগ্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আইনটি করা হয়েছিল।
তবে গত আগস্টে টেক্সাসের উত্তরাঞ্চলীয় জেলার কেন্দ্রীয় বিচারক জেমস ওয়েসলি হেনড্রিকস আইনটির বেশির ভাগ বিধিনিষেধকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। গত বছর কংগ্রেস এসব অস্ত্রের ওপর আরোপিত ২০০ ডলারের কর তুলে নেওয়ার পর এ রায় আসে। বিচারকের যুক্তি ছিল, কর থেকে রাজস্ব আয় না হলে কর আরোপের ক্ষমতার ভিত্তিতে আইনটির নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান বহাল রাখা যায় না।
১৫টি অঙ্গরাজ্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিল গান ওনার্স অব আমেরিকা ও গান ওনার্স ফাউন্ডেশন। দুটি মামলা একত্র করে শুনানির পর আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।
বিচার বিভাগের অনেক আইনজীবী রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুপারিশ করেছিলেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কংগ্রেসের পাস করা আইন রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদালতের রায় সরাসরি শুধু মামলার পক্ষগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিচারকের নির্দেশনায় মামলাকারী অস্ত্র অধিকার সংগঠনগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলিরা জটিলতার মুখে পড়েন। গান ওনার্স অব আমেরিকার সাধারণ সদস্যপদের মূল্য মাত্র ২৫ ডলার হওয়ায় সংগঠনটির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রায়ের সুবিধা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানায়, জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র আইনের মামলাসংশ্লিষ্ট বিধানগুলো আর প্রয়োগ করা হবে না। বিশেষ করে ছোট নলের রাইফেল, ছোট নলের বন্দুক, শব্দনিরোধক যন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অস্ত্র বা যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে তৈরি, রাখা ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


