
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ে নিয়োগের শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। পশুর সঙ্গে যৌনাচার, দেহব্যবসা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চুরির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট শর্তে চাকরির জন্য বিবেচনার সুযোগ দেওয়ায় এ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য শুক্রবার দেশটির বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছেন সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ডিক ডারবিন।
বিচার বিভাগের মহাপরিদর্শক ডন বেরথিউমকে লেখা চিঠিতে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ডারবিন বলেন, এফবিআইয়ের নিয়োগের শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত সংস্থাটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং এর সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গত আগস্টে সিবিএস নিউজ প্রথম জানায়, এফবিআই চলতি বছরের জুনে নীরবে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করেছে। আগের নিয়মে পশুর সঙ্গে যৌনাচার, দেহব্যবসা কিংবা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সংস্থাটিতে চাকরির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হতো।
নতুন নিয়মে, ১৮ বছর বয়সের আগে পশুর সঙ্গে যৌনাচার, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কিংবা পশুকে পিষে ফেলার মতো যৌন বিকৃত আচরণে জড়িত ব্যক্তিদেরও চাকরির জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে।
দেহব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী তিনবার বা তার বেশি যৌনকর্মী নিয়োগ না করে থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনা ১০ বছরের বেশি আগে ঘটে থাকলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না।
এছাড়া কোনো আবেদনকারী নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চুরি করে থাকলেও, সেই ঘটনা তিন বছরের বেশি আগে ঘটলে তাকে চাকরির জন্য বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত মাসে এক ব্যতিক্রমী শুনানিতে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল নতুন নিয়োগনীতি নিয়ে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়েন। নীতির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে যাদের পশুর সঙ্গে যৌনাচারে বাধ্য করা হয়েছিল, তারা যেন এফবিআইয়ে চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডির সঙ্গে প্যাটেলের কথোপকথন পরে বিভিন্ন কৌতুক অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্যাটেল বলেছিলেন, আগের নিয়মে পশুর সঙ্গে যৌনাচারের ঘটনায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণকারীকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হতো।
জবাবে কেনেডি প্রশ্ন করেন, ‘উভয় পক্ষ বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন? পশুর সঙ্গে যৌনাচার?’
পরে তিনি ব্যঙ্গ করে আরও প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে কি পশুটিকেও অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন?’
এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ আইন বিশেষজ্ঞরা এর আগে নতুন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মতে, নিয়োগের শর্তে এমন পরিবর্তন সংস্থাটির নতুন দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
তাদের কয়েকজন আরও বলেন, নীতির পরিবর্তনের পক্ষে এফবিআইয়ের যুক্তি স্পষ্ট নয়। তাদের মতে, আবেদনকারীরা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার আগে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার মতো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানাতে পারেন, যা পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডারবিন তার চিঠিতে বলেন, এফবিআই পরিচালক প্যাটেলের বক্তব্য নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট স্পষ্ট ধারণা দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্পষ্ট কোনো যুক্তি ছাড়াই এত বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই নতুন নীতি তৈরির প্রক্রিয়া এবং তা কার্যকর করার পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখার জন্য তিনি বিচার বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


