
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ছয় বছর বয়সে নিজের শিক্ষিকাকে গুলি করে গুরুতর আহত করা এক শিশুর পুলিশ কর্মকর্তার দেহে লাগানো ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। এতে গুলি চালানোর পর শিশুটিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গালাগাল করতে এবং ‘জেলে গেলেও আমার পরোয়া নেই’ বলতে শোনা যায়। ২০২৩ সালের ওই ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে চলা আইনি প্রক্রিয়ায় ভিডিওটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজ শহরের রিচনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী শিশুটি তার শিক্ষিকা অ্যাবি জোয়ার্নারকে গুলি করে। গুলিটি শিক্ষিকার হাত ভেদ করে বুকে গিয়ে আটকে যায়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। গুলির পর শিক্ষিকা ও শ্রেণিকক্ষে থাকা ১৬ শিক্ষার্থী বাইরে চলে যায়।
আদালতের নথিতে শিশুটিকে জে.টি. নামে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ভার্জিনিয়ান-পাইলটের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় পাঠদানে সহায়তাকারী বিশেষজ্ঞ অ্যামি কোভাক তাদের জানান, শিশুটি স্বীকার করেছে যে তার কাছে একটি গুলি ছিল। তিনি আরও বলেন, শিশুটির কাছে অস্ত্র থাকার আশঙ্কার কথা আগে সহকারী প্রধান শিক্ষক ইবনি পার্কারকে জানিয়েছিলেন।
ভিডিওতে কোভাককে বলতে শোনা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর তিনি জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন। পরে করিডর দিয়ে গিয়ে শিক্ষিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি আরও জানান, শিশুটির জন্য বিশেষ সময়সূচিতে ক্লাসের ব্যবস্থা ছিল এবং মাকে সঙ্গে ছাড়া সেটিই ছিল তার স্কুলে উপস্থিতির প্রথম সপ্তাহ।
পুলিশ কর্মকর্তারা শিশুটির কাছে অস্ত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, বন্দুকটি তার মায়ের কাছে ছিল এবং সে মায়ের কাছ থেকেই সেটি চুরি করেছে। শিশুটি আরও জানায়, গুলিতে সে নিজে আহত হয়নি। কোভাক পুলিশকে বলেন, শিশুটির হাতে গুলির অবশিষ্টাংশের চিহ্ন ছিল।
ভিডিওতে শিশুটিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গালাগাল করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে সে বলে, ‘তোমরা যদি আমাকে ধরতে চাও, তাহলে এসে ধরো।’ পরে সে কোভাককে আঘাত করে এবং পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে নিয়ে যান।
ঘটনার পর শিক্ষিকা অ্যাবি জোয়ার্নার স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইবনি পার্কারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, শিশুটির কাছে বন্দুক থাকার বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও পার্কার যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। গত বছরের নভেম্বরে মামলায় জোয়ার্নারের পক্ষে ১ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেন জুরি বোর্ড।
অন্যদিকে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পার্কারের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে তার ফৌজদারি মামলার শুনানিতে ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিচারক ভিডিওটি সিলগালা করে দেন। তবে সংবাদমাধ্যমের আবেদনের পর জুনে ভিডিওটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়, শর্ত ছিল শিশুটির মুখ ঝাপসা রাখতে হবে। গত ৬ অক্টোবর ভিডিওটি প্রকাশ করে ভার্জিনিয়ান-পাইলট ও ডেইলি প্রেস।
সংবাদমাধ্যমটি সম্পাদকীয় নোটে জানায়, ভিডিওর দৃশ্য ও বক্তব্য কষ্টদায়ক হলেও জনস্বার্থে এর সংবাদমূল্য রয়েছে। তাদের মতে, ভিডিওটি শিশুটির জীবন ও ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং ওই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কর্মীদের কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা তুলে ধরে।
শিশুটির মা দেজা নিকোল টেলর অস্ত্র কেনার সময় পটভূমি যাচাইয়ের ফর্মে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল কারাগারে এবং শিশু অবহেলার ঘটনায় অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মুক্তি পান। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি বর্তমানে নিউপোর্ট নিউজে তার পরদাদার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
সূত্র: ইউএসএ টুডে
আরটিভি/জেএমএ


