ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ও ক্যাম্পাস উৎসবে বাড়ছে গুলির আতংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফুটবল খেলা।  ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল-কলেজের ফুটবল খেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎসব ঘিরে বাড়ছে বন্দুক হামলার ঘটনা। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠার কথা যেসব আয়োজনে, সেখানেই গুলির শব্দে ছড়িয়ে পড়ছে আতংক। গত ১৮ বছরে ফুটবল খেলা ও বার্ষিক উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৮৬টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৮ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলির ঘটনা নিয়ে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়েছে। ৮৬টি ঘটনার মধ্যে ৬৩টিই ঘটেছে ২০২১ সাল থেকে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনই এক ঘটনায় প্রাণ হারান ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। বিশ্ববিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুলিতে অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতদের একজন ছিলেন শিক্ষার্থী আমায়া ওয়েমোন।

ঘটনার সময় তিনি বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনের বাইরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি বোধ করায় তারা এক বন্ধুর বাসার বারান্দায় যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু তার আগেই গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান আমায়া।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্‌যাপন আনন্দ, গর্ব ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা থাকার কথা ছিল। অথচ অচেনা একজন ক্যাম্পাসে এসে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালেও ফুটবল খেলা ও বার্ষিক উৎসব ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে জর্জিয়ার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে যে ব্যাপক গুলির ঘটনা ঘটে, সেটি এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ঘটেনি।

নিরাপদে আনন্দ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা। তাদের মতে, ফুটবল খেলা বা উৎসব নিজে বন্দুক হামলার কারণ নয়। বরং এসব আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। আগে থেকে থাকা ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্থানীয় সংঘাত সেখানে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্দুক সহিংসতাবিষয়ক অধ্যাপক সোনালি রাজন বলেন, ফুটবল খেলা নিজেই বিপজ্জনক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বরং রাতে আয়োজিত অনুষ্ঠান, মানুষের ভিড় এবং কখনো কখনো মদ্যপানের কারণে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। সাধারণ কোনো বিবাদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

গবেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলির অধিকাংশ ঘটনাই আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, অপরাধী চক্রের সংঘাত কিংবা ছোটখাটো অপরাধ থেকে এসব ঘটনা ঘটতে পারে। দারিদ্র্য, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও সামগ্রিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক উৎসব ঘিরে গুলির ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা এভরিটাউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজ পর্যায়ে বার্ষিক উৎসবের সপ্তাহে সংঘটিত গুলির ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে।

সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০০৮ সাল থেকে বার্ষিক উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তবে ফুটবল খেলার বাইরে সংঘটিত ১৪টি গুলির ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া বাকি সবই ঘটেছে ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উত্তর ক্যারোলাইনার শ ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে একজন আহত হন। ২০২৪ সালের অক্টোবরের আগের মাসে নর্থ ক্যারোলাইনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখা এবং জর্জিয়ার আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বার্ষিক উৎসব ঘিরে গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও ১০ জন আহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে এক সপ্তাহের মধ্যে মেরিল্যান্ডের মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও বোয়ি স্টেট ইউনিভার্সিটির বার্ষিক উৎসবেও গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ২০২২ সালেও উৎসব ঘিরে গুলিতে একজন আহত হয়েছিলেন।

এভরিটাউনের গবেষণা উপপরিচালক মেগান ও’টুল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও আশপাশের এলাকার মধ্যে সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে। তাই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আশপাশের এলাকার সহিংসতা মোকাবিলার দিকেও নজর দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুল পর্যায়ের ফুটবল খেলায় গুলির ঘটনা বেশি। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাত্র চারটি গুলির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। বিপরীতে প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল খেলা ঘিরে এমন ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৭০।

এসব ঘটনায় কখনো খেলোয়াড় ও দর্শকদের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে দেখা গেছে, কখনো শিক্ষার্থীরা গ্যালারির আসনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। মাঠে থাকা খেলোয়াড়েরাও গুলি থেকে বাঁচতে নিচু হয়ে পড়েছেন।

গবেষক ডেভিড রিডম্যানের মতে, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় সাধারণত নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু অনেক উচ্চবিদ্যালয়ের খেলায় গুলির ঘটনা ঘটে গাড়ি রাখার জায়গায়। ফলে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও আশপাশের এলাকায় হামলার ঝুঁকি থেকে যায়।

শুধু ফুটবল নয়, শীতকালে বাস্কেটবল খেলাকে কেন্দ্র করেও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ২০০৮ সাল থেকে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলা সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩৪টি গুলির ঘটনা শনাক্ত করেছে সিএনএন। এসব ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরের এক শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের ফুটবল খেলা ঘিরে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। ২০০৮ সাল থেকে তরুণদের ফুটবল আয়োজন ঘিরে অন্তত ১০টি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্থানীয় পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া আয়োজকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সহিংসতার মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বিপজ্জনক ব্যক্তিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা দরকার।

ডেভিড রিডম্যান মনে করেন, বড় পেশাদার ফুটবল সংস্থাগুলো চাইলে স্থানীয় পুলিশ, স্কুল ও তরুণদের ক্রীড়া আয়োজকদের সহায়তায় নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশিকা তৈরি করতে পারে।

টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমায়া ওয়েমোনের মতে, সহিংসতা ঘটার পরই কেবল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়; অথচ স্বাভাবিক সময়ে, কোনো ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করছেন আমায়া। ভবিষ্যতে আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা তার। ২০২৫ সালের বার্ষিক উৎসবে তিনি অংশ নেননি; হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জননীতি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এ বছরের উৎসবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

সূত্র: সিএনএন

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুতি নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এমএস নাও।  এ বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে অবগত কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্ভাব্য হামলা হবে স্বল্পস্থায়ী, তবে তীব্র। এদিকে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানোর বিরোধিতা করলেও তিনি অবাক হবেন না। গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না। তবে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এমএস নাওকে বলেন, ‘যেসব সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে আমরা মন্তব্য করি না।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল আরটিভি/এসআর
ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র!
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিউইয়র্ক ম্যারাথনে নামছেন প্রুইট
ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের ১৯ বছর বয়সী ক্যালেব প্রুইট আগামী ১ নভেম্বর নিউইয়র্ক নগরীর ৫৫তম ম্যারাথনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তার লক্ষ্য, ডাউন সিনড্রোম নিয়ে এই দৌড় শেষ করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি অর্জন করা।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিউইয়র্ক ম্যারাথনে নামছেন প্রুইট
ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয় ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে এগোচ্ছে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। আগামী নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেইল ইন ব্যালট জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভ্যাটিকান।  শিকাগোতে জন্ম নেওয়া এই পোপের মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বিষয়টি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক পরিচয়ের কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোপ লিও নির্বাচনের আগেই ডাকযোগে নিজের ভোট জমা দিয়েছেন। তবে তিনি কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গোপনীয়তার অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ায় তার রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। পোপ চতুর্দশ লিওর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে। তার জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট। ২০২৫ সালের মে মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন।  এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি পোপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি পোপ লিও দীর্ঘদিন পেরুতে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পেরুর নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন।  পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভ্যাটিকান সিটিতে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর নাগরিকত্বের সম্পর্ক বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।  পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় যোগ্য ভোটাররা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ডাকযোগে ভোট দিতে পারেন। দেশের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী আইন এবং ভোটার নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে বিদেশ থেকে ব্যালট পাঠাতে পারেন। পোপ লিওর ভোট দেওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তার ধর্মীয় অবস্থানের কারণে। ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারীর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন নাগরিক, যাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। তবে পোপের ভোট দেওয়ার ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভ্যাটিকান তাঁর ভোট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেয়নি। পোপের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চতুর্দশ লিওর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।  তার জন্মস্থান শিকাগো এবং মার্কিন নাগরিক পরিচয় তাকে আগের পোপদের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রেখেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার বিষয়টি সেই পরিচয়ের আরেকটি দিক সামনে এনেছে। আরটিভি/এসআর  
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮১
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সাত দিনের বিশেষ অভিযানে ২৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।  গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ডিজনি ও ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী, একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন।  শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।নতুন ভাষা শিখুন পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘পোল্ক অ্যারাউন্ড অ্যান্ড ফাইন্ড আউট টু’। সাত দিন ধরে গোপনে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং শিশুদের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। তদন্তকারীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সন্দেহভাজনদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ২৮১ জনের মধ্যে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা চাওয়া, যৌনসেবা দেওয়া কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা ও পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত সন্দেহে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  অন্য ১১ জনকেও পৃথক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।  অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয়ও আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন থিম পার্কে কর্মরত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ডিজনির এবং চারজন ইউনিভার্সাল স্টুডিওর কর্মী।  এ ছাড়া অরেঞ্জ কাউন্টির একজন শেরিফ ডেপুটি, তরুণদের ফুটবল কোচ এবং মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত একজন সদস্যও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এসব গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, অভিযানের সময় ১১৭ জন অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবার বিষয়ে আলোচনা করতে গোপন তদন্তকারীদের নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হন। অন্যদিকে ১২২ জন যৌনসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।  তাদের মধ্যে মানবপাচারের সম্ভাব্য শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও কাজ করেন। এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মানবপাচারের শিকার ১১ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অভিযানের এই অংশে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের পরিস্থিতি যাচাই এবং সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তাঁরা কত দিন ধরে শোষণের শিকার ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়া অবস্থানকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা নয়টি ভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাঁদের জাতীয়তা এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ জন সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। তাঁদের সম্মিলিত মাসিক সহায়তার পরিমাণ আট হাজার ৩৭৩ ডলার, যা বছরে এক লাখ ৪৭৬ ডলারের সমপরিমাণ। তবে সরকারি সহায়তা গ্রহণের সঙ্গে অভিযানে ওঠা অপরাধের অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরতে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় ফ্লোরিডার উইন্টার হেভেনে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিসের অপারেশনস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।  এতে শেরিফ গ্রেডি জাডের পাশাপাশি ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার, অঙ্গরাজ্যের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ব্লেইজ ইনগোলিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।সংবাদ পড়ুন সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের অগ্রগতি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, আদালতে হাজিরার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।  ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস। এসব অভিযানে অনলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোপন তদন্তকারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। আরটিভি/এসআর  
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮১
আরও পড়ুন
ইরানে হামলার তারিখ জানাল যুক্তরাষ্ট্র!
ইতিহাসে প্রথম পোপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন চতুর্দশ লিও
ফ্লোরিডায় মানবপাচার ও শিশুদের যৌন নির্যাতন বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮১
ইরানের শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: গালিবাফ