
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রায় ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া সাবেক বাগদত্তা (হবু স্ত্রী) মিশেল পার্কারকে হত্যার অভিযোগে তার হবু স্বামী ডেল স্মিথ জুনিয়র নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মিশেলের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) অরল্যান্ডো পুলিশ বিভাগ এ তথ্য জানায়। ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর নিখোঁজ হন ৩৩ বছর বয়সী মিশেল পার্কার। আশ্চর্যের বিষয়, নিখোঁজ হওয়ার দিনই প্রচারিত একটি আদালতভিত্তিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য পিপলস কোর্ট’-এ প্রচারিত ভিডিওতে মিশেল ও তার সাবেক বাগদত্তা ডেল স্মিথ জুনিয়রকে বাগদানের আংটি নিয়ে তীব্র বিরোধে জড়াতে দেখা গিয়েছিল।
অরল্যান্ডো পুলিশের প্রধান এরিক স্মিথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন মিশেল তার সন্তানদের ডেল স্মিথ জুনিয়রের বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। এরপর ডেলই ছিলেন সর্বশেষ ব্যক্তি, যিনি মিশেলকে দেখেছিলেন বা তার কাছ থেকে কোনো কথা শুনেছিলেন বলে জানা যায়।
পুলিশ জানায়, গত এক বছরে মামলাটির তদন্ত আরও জোরদার করা হয়। পুরোনো সব তথ্য-প্রমাণ নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সন্দেহভাজনের বক্তব্য ও পরস্পরবিরোধী বিবৃতি যাচাইয়ের পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ফিলিপ ম্যাকমিকান জানান, বছরের পর বছর ধরে ডেল স্মিথ জুনিয়রকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে একই বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যানবাহন, মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রের তথ্য আগের তুলনায় আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। গত এক বছরে নতুন তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তবে ঠিক কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ডেল স্মিথ জুনিয়রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, মিশেলের সন্ধান এখনো না মিললেও পাওয়া সব তথ্য-প্রমাণ তার হত্যার জন্য ডেল স্মিথ জুনিয়রকেই দায়ী করছে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউকেএমজি-টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশেল নিখোঁজ হওয়ার রাতে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে তাকে সন্তানদের ডেলের বাড়িতে রেখে যেতে দেখা যায়। পরদিন অরল্যান্ডোর একটি গাড়ি রাখার জায়গায় তার গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে একটি হ্রদে তল্লাশি চালিয়ে তার মুঠোফোন উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। ওই সময় থেকেই ডেল স্মিথ জুনিয়রকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
মিশেল ও ডেল স্মিথ জুনিয়রের দুটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মিশেলের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারটির অপেক্ষা ও উদ্বেগ কাটেনি।
ডেলের গ্রেপ্তারের পর মিশেলের মা ইভন স্টুয়ার্ট বলেন, তার মেয়ের এমন পরিণতি প্রাপ্য ছিল না। যিনি এর জন্য দায়ী, তিনি এত দিন মুক্ত ছিলেন—এটাই ছিল তাদের জন্য অন্যায়ের মতো।
মিশেলের ভাই ডাস্টিন এরিকসন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তিনি অনেক নেতিবাচক চিন্তা ও কষ্ট বয়ে বেড়িয়েছেন। ডেলের গ্রেপ্তারের পর সেই বোঝা কিছুটা হলেও কমেছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


