
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘর গরম রাখার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। এক বছরে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৩ ডলার ৩৪ সেন্ট থেকে বেড়ে ৫ ডলার ৯৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৭৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিতে অনেক পরিবারকে এখন খাবার কেনা আর ঘর গরম রাখার খরচের মধ্যে একটি বেছে নিতে হচ্ছে।
মেইনের ফ্রিপোর্ট শহরের বাসিন্দা ক্রিস অলিভার ও তার স্ত্রী শেরিল অলিভার বছরে প্রায় ৬০ হাজার ডলার আয় করেন। এই অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে শেরিল অলিভার বলেন, ‘এই সপ্তাহে খাবার কিনব, নাকি গাড়ির জ্বালানি কিনব?’ সংসারের খরচ সামলানোর এই সংকটের মধ্যেই ঘর গরম রাখার তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
স্থানীয় একটি সমাজসেবামূলক কেন্দ্র থেকে অলিভার দম্পতি বিনা মূল্যে ১০০ গ্যালন ঘর গরম করার তেল পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই সহায়তার মূল্য প্রায় ৭০০ ডলার। তবে শীতকাল পার করার জন্য এই পরিমাণ তেল যথেষ্ট নয়।
শেরিল অলিভার বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। কীভাবে ট্যাংক ভর্তি করব, আর কীভাবেই বা ঘর গরম রাখব?’
যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ লাখের বেশি পরিবার ঘর গরম রাখার প্রধান জ্বালানি হিসেবে হিটিং তেল ব্যবহার করে। দেশটির জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব পরিবারের ৮২ শতাংশের বসবাস উত্তর-পূর্বাঞ্চলে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডিজেল ও পেট্রলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে ঘর গরম রাখার তেলের মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হয়ে শীতের আগে পরিবারগুলোর ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফ্রিপোর্ট উড ব্যাংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা টনি ডিমার্কো জানান, তাদের কাছে জ্বালানি কাঠের চাহিদা এখন অত্যন্ত বেশি। অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে বিনা মূল্যে কাঠ সরবরাহ করে, যাতে তারা ঘর গরম রাখতে পারে।
ডিমার্কো বলেন, গত বছরের তুলনায় ঘর গরম করার তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার প্রভাব মানুষ পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। অথচ অনেক পরিবার আগের বছরের মতোই অর্থ ব্যয় করছে। তার মতে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখনো অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়।
মেইন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের প্রায় ১৭টি জ্বালানি কাঠ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফ্রিপোর্ট উড ব্যাংক প্রায় ৫০টি পরিবারকে কাঠ দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, শীতের মাঝামাঝি সময়েই তাদের কাঠের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি অলিভার পরিবারের ঘর গরম রাখার খরচ কমাতে টনি ডিমার্কো তাঁদের দুই কর্ড পরিমাণ জ্বালানি কাঠ পৌঁছে দিয়েছেন। এতে তেল ব্যবহারের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিবারটির জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিস অলিভার ডায়াবেটিসের কারণে একটি পা হারিয়েছেন। পরে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। এমন পরিস্থিতিতে সংসারের খরচ সামলানোর পাশাপাশি শীতের মধ্যে ঘর গরম রাখাও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবেগাপ্লুত হয়ে ক্রিস অলিভার বলেন, ‘টনি ও তার প্রতিষ্ঠান অসাধারণ। তারা পাশে না থাকলে আমরা কীভাবে ঘর গরম রাখতাম, জানি না।’
শীতের আগে জ্বালানির বাড়তি দাম ও সীমিত সহায়তার কারণে মেইনের মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক পরিবারের জন্য ঘর গরম রাখা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


