
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার করে অনুদান দিচ্ছেন ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল ও তার স্ত্রী সুসান ডেল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু এই অর্থ পাবে না। শিশুর জন্মতারিখ ও পরিবারের বসবাসের এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে এ অনুদানের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিভাবকেরা নিজেদের এলাকার জিপ কোড দিয়ে অনলাইনে যাচাই করতে পারবেন, তাদের সন্তান এই অনুদানের আওতায় পড়ছে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত এই বিনিয়োগ কর্মসূচির পরিচিতি ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’। শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে মাইকেল ও সুসান ডেল ৬২৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট আমেরিকা এই অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য অ্যাকাউন্টগুলোতে ২৫০ ডলার জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কারা পাবেন ২৫০ ডলার?
এই অনুদান পেতে শিশুর জন্ম হতে হবে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। পাশাপাশি, শিশুর পরিবারের বসবাসের এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় হতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ডলার।
আয়ের এই সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে কোনো পরিবারের নিজস্ব আয় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় বিবেচনা করা হয়। তাই পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার বেশি বা কম হলেই অনুদানের যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বসবাসকারী নির্ধারিত বয়সসীমার যোগ্য শিশুরাও এলাকার আয়সীমা নির্বিশেষে এই অনুদান পেতে পারে।
ইনভেস্ট আমেরিয়া জানিয়েছে, অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে তুলনামূলক কম মধ্যম পারিবারিক আয়ের এলাকাগুলোকে বিবেচনা করা হয়। এরপর নির্ধারিত ২ কোটি ৫০ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়।
জিপ কোড দিয়ে যোগ্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
সন্তান এই অনুদানের আওতায় পড়ছে কি না, তা জানতে ইনভেস্ট আমেরিকার নির্ধারিত ওয়েবপেজে প্রবেশ করতে হবে। ঠিকানাটি হলো:
https://investamerica.org/check-dell-250-eligibility/
সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট এলাকার জিপ কোড লিখে যাচাই করা যাবে, ওই এলাকা অনুদানের আওতাভুক্ত কি না। তবে কোনো এলাকা যোগ্য হলেই নির্দিষ্ট শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ জন্য সন্তানের বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টের তথ্য পরীক্ষা করতে হবে।
সরকারের ১ হাজার ডলারের অনুদান আলাদা
ডেল দম্পতির দেওয়া ২৫০ ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক অর্থ থেকে আলাদা। সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে সাধারণত শিশুর জন্ম হতে হবে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। শিশুকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে এবং তার বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে। পাশাপাশি, অভিভাবক বা যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত নিয়মে অ্যাকাউন্ট খোলা ও অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে হবে।
অর্থাৎ, সরকারি ১ হাজার ডলারও সব শিশুর অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় না। দুই কর্মসূচির জন্মতারিখ ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা। তাই একটির জন্য যোগ্য হলেই অন্যটির অনুদান পাওয়া যাবে, এমন নয়।
অ্যাকাউন্টে আরও অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ
ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন ও অনুমোদিত অন্য ব্যক্তিরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারেন। ইনভেস্ট আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা বর্তমানে ৫ হাজার ডলার।
অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলে রাখা হয়। ফলে বিনিয়োগের মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তে বা কমতে পারে। ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্টে কত অর্থ জমবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ, বিনিয়োগের ফলাফল, খরচ ও সময়ের ওপর। তাই ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়।
অ্যাকাউন্টধারী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ব্যবসা শুরু করার মতো কাজে অর্থ ব্যবহারের সুযোগের কথা কর্মসূচির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কর ও অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধান করেন।
অভিভাবকদের তাই অনুদানের যোগ্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগনীতি, অর্থ ব্যবহারের নিয়ম ও সম্ভাব্য কর সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতারণা এড়াতে কেবল অনুমোদিত ওয়েবসাইট ও আবেদনপদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। অচেনা বার্তা বা অর্থের বিনিময়ে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
সূত্র: ইনভেস্ট আমেরিকার ডেল অনুদান ও যোগ্যতা যাচাই পেজ, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা (আইআরএস)
আরটিভি/জেএমএ


