
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি অর্থায়নে বেসরকারি খ্রিষ্টান স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছর থেকে পরিবারগুলোকে বেসরকারি শিক্ষার খরচ মেটাতে সরকারি অর্থ দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে অঙ্গরাজ্যটি। এতে খ্রিষ্টান স্কুলগুলোর সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হলেও সরকারি বিদ্যালয়ের অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মে টেক্সাস বেসরকারি শিক্ষার জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের উদ্যোগ নেয়। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো বেসরকারি স্কুলের খরচ মেটাতে সরকারি অর্থ পেতে পারে। চার সদস্যের একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার আয় করলেও এ বছর কর্মসূচির আওতায় আসার সুযোগ রয়েছে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা বেসরকারি স্কুলে পড়ার জন্য অন্তত ১০ হাজার ৪৭৪ ডলার পেতে পারে।
এই অর্থায়নকে কাজে লাগিয়ে নতুন খ্রিষ্টান স্কুল চালুর পরিকল্পনা করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। কিথ কাস্তেলো নামের এক স্কুল প্রশাসক এ বছর টেক্সাসে তিনটি নতুন ধ্রুপদি খ্রিষ্টান স্কুল চালু করেছেন। তার মতে, সরকারি অর্থায়নের ফলে খ্রিষ্টান শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।
ধ্রুপদি খ্রিষ্টান স্কুলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস, নৈতিকতা ও বাইবেলভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব স্কুলের একটি বড় নেটওয়ার্ক হলো অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লাসিক্যাল খ্রিষ্টিয়ান স্কুলস। ২০১৯ সালের পর থেকে এই সংগঠনের সদস্য স্কুলের সংখ্যা প্রায় ২০০ বেড়েছে। বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্কে প্রায় ৫০০টি স্কুল রয়েছে।
সংগঠনটি আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫ হাজার নতুন ধ্রুপদি খ্রিষ্টান স্কুল প্রতিষ্ঠা বা রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী চলে গেলে সরকারি বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ করা অর্থ হারাবে। পাশাপাশি করদাতাদের অর্থ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যয় করা ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি, সরকারি সহায়তা না পেলে অনেক পরিবারের পক্ষে বেসরকারি খ্রিষ্টান স্কুলের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। টেক্সাসের একটি খ্রিষ্টান স্কুলের অর্থ বিভাগের প্রধানের হিসাবে, সরকারি কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এ বছর প্রায় ৩৫ লাখ ডলার পেতে পারে, যা তাদের মোট বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ।
এদিকে, খ্রিষ্টান স্কুলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু রক্ষণশীল সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কিছু বিতর্কিত মতাদর্শ নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
সরকারি অর্থায়নে বেসরকারি স্কুলের বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্থক্য কতটা বদলে দেবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সূত্র: এপি
আরটিভি/জেএমএ


