
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রতারণা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিকিয়া অ্যান্টোনিস নোবল (৩৭) নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে মানসিক স্বাস্থ্যসংকটে থাকা ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার নামে ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির বিচার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতের একটি গ্র্যান্ড জুরি নোবলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। নর্থ চেস্টারফিল্ডের বাসিন্দা নোবলকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, নোবল ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড এলাকায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সিং কমিউনিটিজ এভরিহোয়ার এলএলসির সহমালিক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি নিজেও প্রতিষ্ঠানটির মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী হিসেবে কাজ করার দাবি করতেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিল জমা দেওয়ার সময় যে ধরনের সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করত, বাস্তবে সেই সেবা দেওয়া হতো না।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নোবল তার ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে মিলে ভার্জিনিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের কাছে ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। একাধিক প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী পেশাজীবীর মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কথা বলে বিল করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন একজন কর্মী দিয়ে সেবা দেওয়া হতো।
এছাড়া মেডিকেইডের সুবিধাভোগীদের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে ২০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, তাদের দিয়ে এমন সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা, যার প্রয়োজন তাদের ছিল না, অথচ সেই সেবার নামে সরকারি কর্মসূচির কাছে বিল জমা দেওয়া হতো।
অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব লাইসেন্সধারী পেশাজীবী বাস্তবে সেবা দেননি, তাদের স্বাক্ষর চিকিৎসা নথিতে যুক্ত করা হয়। নোবল নিজেও সেবা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে নথিতে স্বাক্ষর করেন, যদিও ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সেবার হিসাব যাচাই করতে আসা মেডিকেইডের পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা সংস্থাগুলোর কাছেও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নোবল ৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোবলের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং প্রতারণার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে।
মামলাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর রিচমন্ড কার্যালয় এবং ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মেডিকেইড প্রতারণা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে প্রতারণা, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তবে অভিযোগপত্রে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নোবল নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
আরটিভি/জেএমএ


