ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর উপস্থিত বুদ্ধিতে প্রাণ বাঁচল স্কুলবাস চালকের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিডার র‍্যাপিডস শহরে স্কুলবাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বেলা স্কট। তার এক সিদ্ধান্তে প্রাণে বাঁচেন বাসচালক।

ঘটনাটি ঘটে ভায়োলা গিবসন এলিমেন্টারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার পথে। সেদিন বাস চালাচ্ছিলেন ক্রিস্টিন হিউস্টন। হঠাৎ তীব্র সুগন্ধির গন্ধে তাঁর কাশি শুরু হয়। ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছিল তাঁর।

বাসে থাকা বেলা বুঝতে পারে, চালকের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। অন্যদের মতো অপেক্ষা না করে সে নিজের ফোন বের করে বাবাকে কল করে। কয়েকবার ফোন করে বাবাকে পরিস্থিতি জানায় এবং বাসটি কোথায় রয়েছে, সেই অবস্থানও বুঝিয়ে বলে।

বেলার বাবা নিক স্কট কাছাকাছি ছিলেন। প্রথমে তিনি মেয়ের ফোনের গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। কিন্তু বারবার ফোন আসার পর মেয়ের কণ্ঠে আতঙ্ক টের পেয়ে দ্রুত বাসটির কাছে পৌঁছান।

বাসে উঠে তিনি দেখেন, চালক সত্যিই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। একই সঙ্গে বাসে থাকা প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে শান্ত রাখার এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন।

পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রিস্টিনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর হাঁপানির আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার কারণে শ্বাস নেওয়া ও কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

বাসচালক জানান, বেলা শিক্ষার্থীদের বাস নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে শেখানো নিয়ম অনুসরণ করেছে—বিপদের সময় পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য নিতে হবে।

ঘটনার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেলার সাহসিকতার স্বীকৃতি দেয়। বাসচালক ক্রিস্টিনও বেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তার ভাষায়, বেলা তার জীবন বাঁচিয়েছে। সব নায়ককে বিশেষ পোশাক পরতে হয় না; কখনো স্কুলব্যাগে রাখা একটি ফোনও জীবন রক্ষার মাধ্যম হতে পারে।

একটি স্কুলবাসের সাধারণ যাত্রা মুহূর্তেই জরুরি পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ছোট্ট বেলার উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বড় বিপদ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউ ইয়র্কে রোববার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে যা জানা দরকার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে, যদি চালকেরা নির্দিষ্ট সময় ও পার্কিংয়ের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকেন। শহরের মিটারযুক্ত পার্কিং স্পটগুলোতে সাধারণত রবিবার পার্কিং ফি দিতে হয় না। পাশাপাশি অনেক আবাসিক এলাকায় মিটারবিহীন স্ট্রিট পার্কিংয়ের সুযোগ রয়েছে।  তবে ফ্রি পার্কিং মানেই সব ধরনের পার্কিং নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় নয়। রাস্তার সাইনবোর্ড ও নির্ধারিত নিয়ম না মানলে জরিমানা কিংবা গাড়ি টো করার ঝুঁকি রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন এবং এনওয়াইসি ৩১১-এর পার্কিং নির্দেশনা অনুযায়ী, শহরের পার্কিং মিটারগুলো রোববার কার্যকর থাকে না। ফলে যেসব জায়গায় অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সেখানে রোববার মিটার ফি ছাড়াই গাড়ি রাখা যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নো স্ট্যান্ডিং, নো স্টপিং কিংবা অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা মেনে চলতে হবে। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানো বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ম্যানহাটন, কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বসবাসকারী কিংবা কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা পার্কিংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেন। ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় গ্যারেজের খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকে স্ট্রিট পার্কিংয়ের ওপর নির্ভর করেন। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় পার্কিং ফি এড়ানো সম্ভব। শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত রাস্তা পরিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশ থেকে গাড়ি সরিয়ে রাখতে হয়। কোন দিন এবং কতক্ষণ এই নিয়ম কার্যকর থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ডে উল্লেখ থাকে। এএসপি কার্যকর থাকা অবস্থায় নিয়ম না মানলে চালককে পার্কিং টিকিট দেওয়া হতে পারে। রোববার সাধারণত নিউইয়র্ক সিটিতে অল্টারনেট সাইড পার্কিং কার্যকর থাকে না। তবে এটি অন্যান্য পার্কিং বিধিনিষেধ বাতিল করে না। একইভাবে শহরের নির্ধারিত ছুটির দিনগুলোতে এএসপি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও সব ছুটিতে মিটার পার্কিং ফ্রি হয় না।  ফলে কোনো ছুটির দিনে গাড়ি পার্ক করার আগে সেদিন মিটার ও অন্যান্য পার্কিং বিধিনিষেধ কার্যকর আছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিউ ইয়ার্স ডে, মেমোরিয়াল ডে, ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে, লেবার ডে, থ্যাংকসগিভিং ডে এবং ক্রিসমাস ডের মতো প্রধান ছুটির দিনগুলোতে নিউইয়র্ক সিটির পার্কিং নিয়মে বিশেষ ছাড় থাকে।  এসব দিনে এএসপি স্থগিত থাকার পাশাপাশি মিটার পার্কিং এবং নির্দিষ্ট স্ট্রিট ক্লিনিং বিধিনিষেধেও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সব ধরনের নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং বা নো স্টপিং নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। রোববারের বাইরে ফ্রি পার্কিংয়ের আরেকটি উপায় হলো মিটারবিহীন আবাসিক রাস্তা খুঁজে নেওয়া। ম্যানহাটনের ইনউড, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রুকলিনের বে রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় মিটারবিহীন স্ট্রিট পার্কিং পাওয়া যেতে পারে। কুইন্স ও ব্রঙ্কসের অনেক আবাসিক এলাকাতেও একই ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাস্তার সব ব্লকে কিংবা সব সময় ফ্রি পার্কিং পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে ইনউডের ওয়েস্ট ২১৮তম স্ট্রিট, ওয়াশিংটন হাইটসের ১৮৭তম স্ট্রিট এবং বে রিজের ৭২তম স্ট্রিটের মতো এলাকায় পার্কিং খোঁজার আগে স্থানীয় সাইনবোর্ড যাচাই করা জরুরি। একই রাস্তার এক ব্লকে মিটার না থাকলেও পাশের ব্লকে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। রাস্তা পরিষ্কার, নির্মাণকাজ, স্কুল জোন কিংবা অন্যান্য কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার্কিং নিষিদ্ধ থাকতে পারে। নিউইয়র্কে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ফায়ার হাইড্র্যান্টের নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের দুই পাশে ১৫ ফুটের মধ্যে গাড়ি পার্ক করা যায় না। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লাইসেন্সধারী চালক গাড়ির ভেতরে থেকে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার শর্তে সাময়িকভাবে দাঁড়াতে পারেন। নিয়ম না মেনে গাড়ি রেখে চলে গেলে জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় একই স্থানে টানা সাত দিনের বেশি গাড়ি পার্ক করে রাখা নিষিদ্ধ। গাড়িটি মিটারবিহীন কোনো বৈধ পার্কিং স্পটে রাখা হলেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের জন্য গাড়ি রেখে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। রাতের পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও সময়ভিত্তিক সাইনবোর্ড গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় রাত দুইটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত নো পার্কিং নির্দেশনা থাকলে ওই সময় গাড়ি রাখা যাবে না। তবে বাকি সময় পার্কিং বৈধ কি না, তা নির্ভর করবে একই স্থানে থাকা অন্যান্য নির্দেশনার ওপর। শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হয়েছে বলেই জায়গাটি ফ্রি বা সীমাহীন সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়ে যায় না। যারা নিয়মিত ম্যানহাটনে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য পার্ক অ্যান্ড রাইড ব্যবস্থা খরচ কমানোর একটি বিকল্প হতে পারে। শহরের বাইরে বা ট্রানজিট স্টেশনের কাছে গাড়ি রেখে বাস কিংবা ট্রেনে গন্তব্যে যাওয়া যায়। নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন পার্ক অ্যান্ড রাইড লোকেশনে বিনামূল্যে পার্কিংয়ের সুযোগ থাকলেও সব জায়গায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো স্থানে সময়সীমা, পারমিট কিংবা নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা শর্ত থাকতে পারে। নিউ জার্সির হোবোকেন ও জার্সি সিটি থেকেও পাথ ট্রেনে ম্যানহাটনে যাতায়াত করা যায়। তবে এসব এলাকার পার্কিং স্পট সব সময় সস্তা বা বিনামূল্যের নয়। গ্যারেজের ফি, স্ট্রিট পার্কিংয়ের নিয়ম এবং ট্রেনভাড়া হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ম্যানহাটনের বাইরে গাড়ি রাখলেই খরচ কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পার্কিংয়ের নিয়ম যাচাই করতে এনওয়াইসি ৩১১ এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা যায়। এনওয়াইসি ৩১১ থেকে অল্টারনেট সাইড পার্কিং স্থগিত থাকার ঘোষণা এবং ছুটির দিনের নিয়ম জানা যায়। পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ মূলত নির্ধারিত মিটার পার্কিংয়ের ফি পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে স্পটহিরো ও বেস্টপার্কিংয়ের মতো সেবায় বিভিন্ন পেইড পার্কিংয়ের বিকল্প ও মূল্য তুলনা করা যায়। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা নিয়মভেদে ভিন্ন হয়। সব ধরনের ভুল পার্কিংয়ের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয় না। কোথাও নির্ধারিত সময়ের বেশি গাড়ি রাখা, কোথাও স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের নিয়ম ভঙ্গ করা কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের কারণে আলাদা অঙ্কের টিকিট দেওয়া হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে গাড়ি টো করার অতিরিক্ত খরচও যোগ হতে পারে। নিউইয়র্কে গাড়ি ব্যবহারকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পার্কিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়া, রোববার ও ছুটির দিনের নিয়ম যাচাই করা এবং এএসপি সাসপেনশনের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়া। এতে পার্কিং খরচ কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আরটিভি/এসআর
নিউ ইয়র্কে রোববার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে যা জানা দরকার
চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ শিখে চমক দেখালেন মার্কিন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী। অফিসের নিয়মিত চাকরি ছেড়ে তিনি দেশটির বিখ্যাত ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।  ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি মেক ইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার এই পেশা পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী, তরুণী আগে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। কিন্তু সেই পেশায় না থেকে তিনি সেলাইয়ের কাজকে নতুন কর্মজীবন হিসেবে বেছে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জাতীয় উদ্যান ইয়েলোস্টোনে তার এই পেশা পরিবর্তনের গল্প প্রকাশ করেছে সিএনবিসি। তবে তিনি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, কত বেতন পেতেন এবং নতুন কাজে তার আয় কত, তা প্রকাশিত শিরোনাম থেকে জানা যায়নি। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইয়োমিং, মন্টানা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ, গিজার, পাহাড়, বনভূমি এবং বন্য প্রাণীর জন্য পরিচিত এই জাতীয় উদ্যানে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। পর্যটনকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক কার্যক্রমের কারণে পার্কটি ঘিরে নানা ধরনের কর্মসংস্থানও রয়েছে। সেলাইয়ের কাজ বলতে শুধু নতুন পোশাক তৈরি বোঝায় না। পোশাকের মাপ ঠিক করা, ছেঁড়া কাপড় মেরামত, ইউনিফর্মের পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড়ের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করাও এই পেশার অন্তর্ভুক্ত। তবে সিএনবিসির প্রতিবেদনে আলোচিত তরুণী ইয়েলোস্টোনে ঠিক কী ধরনের সেলাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন, তা নিশ্চিত করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট চাকরি থেকে কারিগরি বা হাতে-কলমে কাজের পেশায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আয়, কাজের পরিবেশ, দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।  নতুন পেশায় যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় চাকরির ক্ষেত্রে মৌসুমি ও স্থায়ী কর্মসংস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। সিএনবিসির প্রতিবেদনে তুলে ধরা এই তরুণীর অভিজ্ঞতা প্রচলিত করপোরেট চাকরির বাইরে ভিন্ন ধরনের পেশা বেছে নেওয়ার একটি উদাহরণ। তবে মূল প্রতিবেদনের পূর্ণ বিবরণ পাওয়া না যাওয়ায় তার নাম, চাকরি ছাড়ার নির্দিষ্ট কারণ, নতুন বেতন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আরটিভি/এসআর
চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ শিখে চমক দেখালেন মার্কিন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন অনলাইন ড্যাশবোর্ড চালু
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নতুন অনলাইন ড্যাশবোর্ড চালু করেছে দেশটির আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (এইচইউডি)। নতুন এই ব্যবস্থার নাম পাবলিক হাউজিং অথরিটি অ্যাকাউন্টেবিলিটি ড্যাশবোর্ড। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার এ উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষগুলোর কার্যক্রম, অর্থায়ন এবং কর্মদক্ষতার তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ কিংবা পুরো দেশের সরকারি আবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য এক জায়গা থেকে দেখা যাবে। এইচইউডির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন ড্যাশবোর্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, আবাসন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা এবং নিম্নমানের সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা। নতুন ড্যাশবোর্ডে কয়েক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষের কর্মদক্ষতার স্কোর, সেবার মান, আবাসন ইউনিটের সংখ্যা এবং হাউজিং ভাউচার ব্যবস্থাপনার তথ্য। এ ছাড়া কোন আবাসন কর্তৃপক্ষ কতটুকু সরকারি অর্থ ব্যবহার করছে, তাদের বরাদ্দ কত এবং ভাউচার ব্যবহারের হার কেমন—সেসব তথ্যও দেখা যাবে।আবাসন কর্তৃপক্ষগুলোর অবস্থান চারটি শ্রেণিতে দেখানো হবে। এগুলো হলো উচ্চ কর্মদক্ষতা, স্বাভাবিক মান, নিম্নমান এবং সমস্যাগ্রস্ত কর্তৃপক্ষ।ব্যবহারকারীরা চাইলে অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলভিত্তিক তুলনামূলক প্রতিবেদনও তৈরি করতে পারবেন। এইচইউডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের তত্ত্বাবধানে ৭৭টি সরকারি আবাসন কর্তৃপক্ষ সমস্যাগ্রস্ত অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসেছে।একই সময়ে সাতটি আবাসন কর্তৃপক্ষকে গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতার পর্যায়ে ঘোষণা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বিভাগটির দাবি, নতুন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে আবাসন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অর্থের অপচয় এবং দুর্বল সেবার বিষয়গুলো শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থাটি সরকারি আবাসনে বসবাসকারী পরিবার, হাউজিং ভাউচারের সুবিধাভোগী, আবাসনপ্রত্যাশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গবেষক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্য তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে কোনো এলাকার আবাসন কর্তৃপক্ষের কর্মদক্ষতা, সরকারি বরাদ্দ এবং ভাউচার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহীরা সরাসরি তথ্য যাচাই করতে পারবেন।তবে এই ড্যাশবোর্ড চালুর অর্থ এই নয় যে নতুন করে আবাসন ভর্তুকি, বিনা মূল্যে বাসা কিংবা হাউজিং ভাউচার দেওয়া শুরু হয়েছে। এটি মূলত তথ্য প্রকাশ ও কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি অনলাইন ব্যবস্থা। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন অনলাইন ড্যাশবোর্ড চালু
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে শুধু লেট ফি নয়, ক্রেডিট স্কোর কমে যাওয়া, অতিরিক্ত সুদ, ডেট কালেকশন এমনকি মামলার মুখেও পড়তে পারেন গ্রাহক। সাধারণত পেমেন্ট ৩০ দিন বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট রিপোর্টে নেতিবাচক তথ্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে। প্রায় ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে ব্যাংক ঋণটি চার্জ অফ করতে পারে। তবে ১৮০ দিন পার হলেই মামলা হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।  যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এসব নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্রেডিট রিপোর্টের নেতিবাচক তথ্য ভবিষ্যতে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ এবং নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মার্কিনিদের ক্রেডিট কার্ডের মোট বকেয়া ঋণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টিও দেশটির আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  তবে সব ধরনের বকেয়া ঋণ একই পর্যায়ের ঝুঁকিতে নেই। কত দিন পেমেন্ট বাকি রয়েছে, ঋণের পরিমাণ কত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নীতি কী, তার ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করে। ক্রেডিট কার্ডের ডিউ ডেট পার হলেই ব্যাংক লেট ফি আরোপ করতে পারে। তবে সব ব্যাংকের জন্য একই অঙ্কের লেট ফি নির্ধারিত নেই। ফেডারেল কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির ৮ ডলারের লেট ফি সংক্রান্ত বিধান আদালতে বাতিল হওয়ার পর কার্ডের চুক্তি ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হচ্ছে।  প্রথমবার বিল দিতে দেরি হলে এক ধরনের ফি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবার দেরি হলে তুলনামূলক বেশি ফি হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই প্রযোজ্য আইনি সীমা ও চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো জরিমানা আরোপ করা যায় না। পেমেন্ট ৩০ দিন বকেয়া হলে বড় ধরনের আর্থিক সমস্যা শুরু হতে পারে। ব্যাংক বা কার্ড ইস্যুয়ার বকেয়া পেমেন্টের তথ্য ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের মতো ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করতে পারে। এর ফলে ক্রেডিট স্কোর কমে যেতে পারে। তবে কত পয়েন্ট কমবে, তা নির্দিষ্ট নয়। আগে থেকে ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি লেট পেমেন্টও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফেয়ার ক্রেডিট রিপোর্টিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, অধিকাংশ নেতিবাচক পেমেন্ট তথ্য প্রথম বকেয়া হওয়ার তারিখ থেকে সাত বছর পর্যন্ত ক্রেডিট রিপোর্টে থাকতে পারে। পেমেন্ট ৬০ দিন বকেয়া থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফেডারেল ক্রেডিট কার্ড আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কার্ড কোম্পানি বিদ্যমান ব্যালেন্সের ওপর পেনাল্টি এপিআর আরোপ করতে পারে। অনেক ক্রেডিট কার্ডে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও সব কার্ডে একই সুদ প্রযোজ্য নয়।  আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পেনাল্টি রেট কার্যকর করার আগে নোটিশ দিতে হয়। পরে নিয়মিত পেমেন্টের শর্ত পূরণ করলে বিদ্যমান ব্যালেন্সের ওপর বাড়তি সুদের হার পুনর্বিবেচনার বিধানও রয়েছে।  পেমেন্ট ৯০ দিন বা তার বেশি বকেয়া থাকলে অ্যাকাউন্ট গুরুতর খেলাপির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এ সময় ব্যাংক ক্রেডিট লিমিট কমিয়ে দিতে, কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করতে কিংবা বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য নিজস্ব কালেকশন বিভাগকে দায়িত্ব দিতে পারে।  তবে এসব পদক্ষেপ সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই সময়ে নেওয়া হয় না। কার্ড ইস্যুয়ারের নীতি এবং গ্রাহকের পেমেন্ট ইতিহাসের ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের ঋণ টানা প্রায় ১৮০ দিন অনাদায়ী থাকলে ব্যাংক সেটিকে চার্জ অফ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য কম্পট্রোলার অব দ্য কারেন্সির নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ডের মতো ঋণের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। তবে চার্জ অফ মানে ঋণ মাফ হয়ে যাওয়া নয়।  ব্যাংক হিসাবের খাতায় অর্থটিকে ক্ষতি হিসেবে দেখালেও গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের দায় থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংক নিজে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালাতে পারে অথবা ঋণটি ডেট কালেকশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করতে পারে। ঋণ আদায়ের জন্য পাওনাদার বা ডেট কালেক্টর আদালতে মামলাও করতে পারে। তবে ১৮০ দিন পার হলেই মামলা হবে, এমন কোনো ফেডারেল নিয়ম নেই। মামলা করার সময়সীমা এবং ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। আদালতের রায় পাওয়ার পর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বেতনের একটি অংশ কেটে নেওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ আদায় কিংবা নির্দিষ্ট সম্পত্তির ওপর লিয়েন আরোপের সুযোগ থাকতে পারে।  ফেডারেল আইনে সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে বেতন থেকে অর্থ কাটার সর্বোচ্চ সীমা সাধারণত ডিসপোজেবল আয়ের ২৫ শতাংশ অথবা আইনে নির্ধারিত বিকল্প সীমার মধ্যে যেটি কম। কিছু অঙ্গরাজ্যে আরও কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। শুধু ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারণে কাউকে কারাগারে পাঠানো যায় না। তবে আদালতের বৈধ নির্দেশ অমান্য করলে পৃথক আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যারা আর্থিক সমস্যার কারণে বিল দিতে পারছেন না, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত কার্ড কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা। চেজ, ব্যাংক অব আমেরিকা, ওয়েলস ফার্গোসহ বিভিন্ন ব্যাংকে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য হার্ডশিপ সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পেমেন্ট প্ল্যান, সাময়িকভাবে সুদ কমানো অথবা লেট ফি মওকুফের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সুবিধা স্বয়ংক্রিয় নয়। গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা ও ব্যাংকের নীতির ওপর অনুমোদন নির্ভর করে। প্রয়োজনে স্বীকৃত অলাভজনক ক্রেডিট কাউন্সেলিং প্রতিষ্ঠানের সহায়তাও নেওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলে সমস্যাটি শুধু ওই কার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ, অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া কিংবা নতুন ক্রেডিট পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ক্রেডিট রিপোর্ট প্রভাব ফেলতে পারে।  তাই বিল পরিশোধে সমস্যা দেখা দিলে ৩০ দিন অপেক্ষা না করে দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলা, অন্তত মিনিমাম পেমেন্ট দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা এবং নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। তবে কোনো গ্রাহকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন, ঋণের চুক্তি এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম
পিটিশনকারী মারা গেলেও যে শর্তে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কোনো সদস্যের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পর পিটিশনকারী মারা গেলে সাধারণ নিয়মে অনুমোদনে বাধা তৈরি হয় এবং সেই পিটিশন বাতিলও হতে পারে। তবে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ তিনটি পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনের জন্য সাধারণত মার্কিন নাগরিক ফর্ম আই-১৩০ জমা দিয়ে থাকেন। এই আবেদনকে ফ্যামিলি পিটিশন বলা হয়। এর মাধ্যমে পিটিশনকারী ও বিদেশি স্বজনের মধ্যে যোগ্য পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। তবে আই-১৩০ পিটিশন করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত নয়। ভিসার প্রাপ্যতা, আর্থিক স্পনসরশিপ, অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদন চলাকালে পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সেই প্রক্রিয়ায় নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যে বিশেষ তিনটি পরিস্থিতিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব প্রথম সুযোগটি রয়েছে মার্কিন নাগরিকের বিধবা বা বিপত্নীকদের জন্য। কোনো মার্কিন নাগরিক তার বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে মারা গেলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আই-৩৬০ বিধবা বা বিপত্নীক পিটিশনে রূপান্তরিত হয়। পিটিশনটি মৃত্যুর সময় মুলতবি ছিল কিংবা আগেই অনুমোদিত হয়েছিল, উভয় পরিস্থিতিতেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু পিটিশনকারী স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন করে পুরো পরিবারভিত্তিক আবেদন শুরু করতে হয় না। তবে আই-৩৬০-এর এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে মৃত ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় মার্কিন নাগরিক হতে হবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আইনগত বিচ্ছেদ থাকা যাবে না এবং জীবিত সঙ্গীর পুনর্বিবাহসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।  মৃত মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রী আগে আই-১৩০ পিটিশন জমা না দিয়ে থাকলেও যোগ্য বিধবা বা বিপত্নীক সাধারণত মৃত্যুর দুই বছরের মধ্যে নিজে আই-৩৬০ জমা দিতে পারেন। তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব গ্রিন কার্ডধারী পিটিশনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   দ্বিতীয় সুযোগটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২০৪(এল) ধারায়। এই বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিবারভিত্তিক পিটিশনের সুবিধাভোগী পিটিশনকারীর মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে থাকলে এবং মৃত্যুর পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে আবেদন এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে পারেন। আই-১৩০ পিটিশন মৃত্যুর সময় মুলতবি থাকলেও এ আবেদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। একইভাবে আগেই অনুমোদিত পিটিশন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী ধারাটি ব্যবহার করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের যথার্থ তথ্য দিতে হবে। শুধু মৃত্যুর সময় যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উপস্থিত থাকলে হবে না, সেখানে নিয়মিত বসবাস করতে হবে। ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর প্রকৃত বসবাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারে। পাশাপাশি মূল আবেদনকারীর মৃত্যু, পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেদনসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রধান সুবিধাভোগীর পরিবর্তে তাঁর যোগ্য পরিবারের অন্য সদস্যও ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন। ২০৪(এল) ধারার আওতায় আবেদন চালিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেই অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। ইউএসসিআইএসকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করতে হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, অনুমোদন জনস্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার বিশেষ কারণ থাকলে সংস্থা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আবার পিটিশন অনুমোদনের পরও গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে এই ধারাটি মৃত পিটিশনকারীর কারণে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট বাধা দূর করার সুযোগ দেয়, কিন্তু অন্য সব অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতার বিকল্প নয়। তৃতীয় সুযোগটি হলো মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহাল বা হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট। কোনো পরিবারের সদস্য বিদেশি স্বজনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন জমা দিয়ে সেটি অনুমোদের পরে, পিটিশনকারি যদি মারা যান। তখন এ সুবিধার জন্য আবেদন করা সম্ভব। সাধারণ নিয়মে পিটিশনকারীর মৃত্যুর কারণে অনুমোদিত পিটিশন বাতিল হলেও মানবিক বিবেচনায় ইউএসসিআইএস সেটির অনুমোদন পুনর্বহাল করতে পারে। তবে হিউম্যানিটারিয়ান রিইনস্টেটমেন্ট সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করে। আবেদনকারীর পারিবারিক পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক, আবেদনের বিলম্বের প্রভাব এবং অন্যান্য মানবিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে পিটিশনটি অনুমোদিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। পিটিশন মুলতবি থাকা অবস্থায় পিটিশনকারীর মৃত্যু হলে সাধারণভাবে শুধু মানবিক পুনর্বহালের এই পথ ব্যবহার করা যায় না। মানবিক পুনর্বহালের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করলেও আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই এটি ২০৪(এল) ধারার সুরক্ষা থেকে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, একজন মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশে থাকা ভাই বা বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করেছিলেন এবং পিটিশনটি অনুমোদিত হয়েছিল। কিন্তু ভিসার অপেক্ষায় থাকার সময় ওই মার্কিন নাগরিক মারা যান। এমন পরিস্থিতিতে যোগ্য সুবিধাভোগী মানবিক কারণে পিটিশন পুনর্বহালের আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না, তা ইউএসসিআইএস সিদ্ধান্ত নেবে। এই দুটি প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্পনসরশিপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অনেক আবেদনে আই-৮৬৪ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। মূল পিটিশনকারী মারা গেলে তাঁর পরিবর্তে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বিকল্প আর্থিক স্পনসর প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণভাবে বিকল্প স্পনসরকে মার্কিন নাগরিক, মার্কিন ন্যাশনাল অথবা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পারিবারিক সম্পর্ক ও আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আরটিভি/টিআর
পিটিশনকারী মারা গেলেও যে শর্তে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন
আরও পড়ুন
চাকরি ছেড়ে সেলাইয়ের কাজ শিখে চমক দেখালেন মার্কিন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন অনলাইন ড্যাশবোর্ড চালু
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের বিল না দিলে কী হয়, জেনে নিন ২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম
পিটিশনকারী মারা গেলেও যে শর্তে চলতে পারে গ্রিন কার্ডের আবেদন