
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরে ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
তবে আদালতের নির্দেশের পরও অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজারো ভিসাপ্রত্যাশীর অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে পরিবার পুনর্মিলনসহ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন আবেদনকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিআর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করে। ওই সিদ্ধান্তের সময় অনেক আবেদনকারীর ভিসা প্রক্রিয়া চলমান ছিল। কারও কারও আবেদন অনুমোদিত হলেও পাসপোর্টে ভিসা সংযুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। নিষেধাজ্ঞার ফলে এসব আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে এক ফেডারেল বিচারক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তবে আদালতের রায়ের পরও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি বলে অভিযোগ করেছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। তাদের ভাষ্য, আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে অনেক আবেদনকারী কার্যত অপেক্ষার মধ্যেই রয়ে গেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্ত করার বিষয়ে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। ফলে আগে অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে আবেদনকারীদের অনেককে আর্থিক চাপ, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে আগে থেকেই অনুমোদন পাওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ও দীর্ঘসূত্রতা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আদালতের নির্দেশের পরও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না আসায় সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আইনি সিদ্ধান্ত বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনকারীরা কবে ভিসা পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
আরটিভি/ এসকেডি



