
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে জাল নিবন্ধন এবং নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক। তাদের একজন বাংলাদেশের নাগরিক।
সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়। বিভাগটির অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ মার্কিন নাগরিক না হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, কেউ নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন, আবার কেউ অন্য অঙ্গরাজ্যে ভুয়া ভোটার নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মোহাম্মদ হাচিবুর রহমান। ৩৩ বছর বয়সী রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গত ৯ সপ্তাহে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে ১৯৫ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ ধরনের অপরাধে মোট ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোটার জালিয়াতির ঘটনায় এটিই সবচেয়ে বড় গ্রেপ্তার অভিযান। নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের অপরাধের তদন্ত ও বিচার অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া আরও যেসব দেশের নাগরিক রয়েছেন- মেক্সিকো, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, নাইজেরিয়া, গুয়াতেমালা, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কেনিয়া, বারমুডা, সিঙ্গাপুর, জ্যামাইকা, কলম্বিয়া, নেদারল্যান্ডস, কিউবা, বার্বাডোস, আর্জেন্টিনা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, সেন্ট কিটস ও নেভিস, জার্মানি, ইরাক, কানাডা, ভারত, আফগানিস্তান, সামোয়া, সুদান, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ফিলিপাইন, ইসরায়েল, ইরান, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিনল্যান্ড।
তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
আরটিভি/জেএমএ


