
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে চুরি করা গাড়িতে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে আটক করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
আটক ব্যক্তির নাম রনি গুয়ানিপা-ক্রিনোস। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মধ্যরাতের কিছু আগে হোয়াইট হাউসের কাছের কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউয়ে টহল দেওয়ার সময় একটি নীল রঙের ফোর্ড এফ-১৫০ গাড়ি দেখতে পান সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা। গাড়িটির কাছে গিয়ে চালকের কাছে অস্ত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানান এবং আঙুল দিয়ে বন্দুকের ইশারা করেন।
পরে গাড়ি থেকে নামার পর তিনি তদন্তকারীদের জানান, অন্যরা তাকে অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তাই তিনি অস্ত্রটি নিয়ে নিয়েছেন। গাড়ির ভেতরে বাদামি রঙের একটি ব্যাগে অস্ত্রটি রাখা আছে বলেও জানান তিনি।
তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে একটি ম্যাক-১০ স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, একটি গ্লক-৪৩এক্স পিস্তল এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কয়েক ডজন গুলি পাওয়া গেছে। গাড়িটি চুরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, রনি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তার মাথার ভেতর থেকে আওয়াজ আসছিল, তাকে ওয়াশিংটনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করতে হবে। তবে আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তার এমন বক্তব্যের উল্লেখ নেই।
এ ঘটনায় গাড়ির অননুমোদিত ব্যবহার, চোরাই সম্পদ গ্রহণ, বৈধ অনুমতি ছাড়া পিস্তল ও রাইফেল বহনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ওয়াশিংটনের একটি আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয় তাকে। আদালতের নথি অনুযায়ী, জামিন ছাড়াই তাকে আটক রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রনি গুয়ানিপা-ক্রিনোস দেশটিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছিলেন। ২০২৪ সালে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ
