ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মাগুরা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩১ এএম


ধর্ষণ মামলায় মাগুরার সাবেক এসপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইনসেটে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ভিডিও কলে এসপি। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বর্তমানে ওএসডিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আজমত হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নির্ধারিত শুনানির দিনে আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোয় ভুক্তভোগীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা করেন জহিরুল ইসলাম। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের বিশ্রামকক্ষ এবং ঢাকার বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পুলিশ সদর দপ্তরে বদলির পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিয়ের জন্য চাপ দিলে জহিরুল ইসলাম বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১৫ জুলাই রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি পুলিশের
মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

পরে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালত প্রাঙ্গণে পুনরায় বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অভিযুক্ত আবারও অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গত ২০ মে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী।

এরপর আদালতের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক গত ১৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার
বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission