ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মাকড়সা দেখলে বেশিরভাগ মানুষ ভয় পায় কেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
মাকড়সা দেখলে বেশিরভাগ মানুষ ভয় পায় কেন । ছবি: এআই

ঘরের কোণে কিংবা বাথরুমের ছাদে হঠাৎ একটি মাকড়সা দেখেই অনেকের বুক ধড়ফড় শুরু হয়। কেউ চমকে ওঠেন, কেউ আবার ভয়ে দূরে সরে যান। এত ছোট একটি প্রাণীকে দেখে কেন এত ভয় লাগে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাকড়সাকে ভয় পাওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষের হাজার হাজার বছরের বিবর্তনের ইতিহাস। এই ভয়কে বলা হয় মাকড়সাভীতি। এটি শুধু মানসিক বিষয় নয়, বরং মানুষের জন্মগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থারও একটি অংশ।

বিজ্ঞানীরা জানান, বহু বছর আগে মানুষ যখন জঙ্গল ও গুহায় বাস করত, তখন চারপাশে বিষাক্ত মাকড়সার উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। সে সময় চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। ফলে যারা মাকড়সাকে এড়িয়ে চলত, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেশি ছিল। সেই সতর্কতার প্রবণতাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে।

শুধু মাকড়সা নয়, সাপ, অন্ধকার কিংবা উঁচু জায়গার ভয়ও একই কারণে মানুষের মধ্যে দেখা যায়। গবেষকদের মতে, এগুলো মানুষের আদিম আত্মরক্ষার প্রবৃত্তির অংশ। আধুনিক জীবনে এসব বিপদের ঝুঁকি অনেক কমে গেলেও মানুষের মস্তিষ্ক এখনো সেই পুরোনো সতর্ক সংকেত বহন করে চলেছে।

আরও পড়ুন

মজার বিষয় হলো, বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি হলেও মানুষ গাড়ি বা বৈদ্যুতিক তারকে মাকড়সার মতো ভয় পায় না। কারণ এসব আধুনিক ঝুঁকি মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে তুলনামূলক নতুন। তাই এগুলোর প্রতি জন্মগত ভয় তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞানীরা আরও জানান, মাকড়সা দেখার সঙ্গে সঙ্গে চোখ থেকে পাওয়া সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কের সেই অংশে পৌঁছে যায়, যা বিপদ শনাক্ত করে। ফলে যুক্তি দিয়ে ভাবার আগেই শরীর ভয় পাওয়ার প্রতিক্রিয়া দেখায়।

এই ধারণার সত্যতা যাচাই করতে গবেষকেরা ছোট শিশুদের নিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। সেখানে শিশুদের সামনে ফুল, ব্যাঙ, তেলাপোকা ও মাকড়সার ছবি দেখানো হয়। দেখা যায়, শিশুরা অন্য ছবির তুলনায় মাকড়সার ছবি অনেক দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। অথচ তারা তখনো জানত না মাকড়সা বিষাক্ত হতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে মাকড়সাকে সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে চেনার প্রবণতা মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবেই রয়েছে।

তবে সব মাকড়সা ভয়ঙ্কর নয়। পৃথিবীতে হাজার হাজার প্রজাতির মাকড়সা থাকলেও মানুষের জন্য প্রাণঘাতী প্রজাতির সংখ্যা খুবই কম। বরং অধিকাংশ মাকড়সা মশা, মাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

তবুও মানুষের আদিম মস্তিষ্ক এখনো আট পা-ওয়ালা এই ছোট প্রাণীটিকে সম্ভাব্য বিপদ হিসেবেই দেখে। তাই মাকড়সা দেখলেই অনেকের শরীরে ভয় কাজ করা আসলে মানুষের দীর্ঘ বিবর্তনেরই একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
ঢাকায় মানুষসহ ছিঁড়ে পড়ল সরকারি আবাসন প্রকল্পের লিফট  
অনেকেই বিয়ে করতে ভয় পায় কেন?
এআই ‘১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু’ ঘটাতে পারে: বিল গেটস