ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

মাকড়সা দেখলে বেশিরভাগ মানুষ ভয় পায় কেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
মাকড়সা দেখলে বেশিরভাগ মানুষ ভয় পায় কেন । ছবি: এআই

ঘরের কোণে কিংবা বাথরুমের ছাদে হঠাৎ একটি মাকড়সা দেখেই অনেকের বুক ধড়ফড় শুরু হয়। কেউ চমকে ওঠেন, কেউ আবার ভয়ে দূরে সরে যান। এত ছোট একটি প্রাণীকে দেখে কেন এত ভয় লাগে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাকড়সাকে ভয় পাওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষের হাজার হাজার বছরের বিবর্তনের ইতিহাস। এই ভয়কে বলা হয় মাকড়সাভীতি। এটি শুধু মানসিক বিষয় নয়, বরং মানুষের জন্মগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থারও একটি অংশ।

বিজ্ঞানীরা জানান, বহু বছর আগে মানুষ যখন জঙ্গল ও গুহায় বাস করত, তখন চারপাশে বিষাক্ত মাকড়সার উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। সে সময় চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। ফলে যারা মাকড়সাকে এড়িয়ে চলত, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেশি ছিল। সেই সতর্কতার প্রবণতাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে।

শুধু মাকড়সা নয়, সাপ, অন্ধকার কিংবা উঁচু জায়গার ভয়ও একই কারণে মানুষের মধ্যে দেখা যায়। গবেষকদের মতে, এগুলো মানুষের আদিম আত্মরক্ষার প্রবৃত্তির অংশ। আধুনিক জীবনে এসব বিপদের ঝুঁকি অনেক কমে গেলেও মানুষের মস্তিষ্ক এখনো সেই পুরোনো সতর্ক সংকেত বহন করে চলেছে।

আরও পড়ুন

মজার বিষয় হলো, বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি হলেও মানুষ গাড়ি বা বৈদ্যুতিক তারকে মাকড়সার মতো ভয় পায় না। কারণ এসব আধুনিক ঝুঁকি মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে তুলনামূলক নতুন। তাই এগুলোর প্রতি জন্মগত ভয় তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞানীরা আরও জানান, মাকড়সা দেখার সঙ্গে সঙ্গে চোখ থেকে পাওয়া সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কের সেই অংশে পৌঁছে যায়, যা বিপদ শনাক্ত করে। ফলে যুক্তি দিয়ে ভাবার আগেই শরীর ভয় পাওয়ার প্রতিক্রিয়া দেখায়।

এই ধারণার সত্যতা যাচাই করতে গবেষকেরা ছোট শিশুদের নিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। সেখানে শিশুদের সামনে ফুল, ব্যাঙ, তেলাপোকা ও মাকড়সার ছবি দেখানো হয়। দেখা যায়, শিশুরা অন্য ছবির তুলনায় মাকড়সার ছবি অনেক দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। অথচ তারা তখনো জানত না মাকড়সা বিষাক্ত হতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে মাকড়সাকে সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে চেনার প্রবণতা মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবেই রয়েছে।

তবে সব মাকড়সা ভয়ঙ্কর নয়। পৃথিবীতে হাজার হাজার প্রজাতির মাকড়সা থাকলেও মানুষের জন্য প্রাণঘাতী প্রজাতির সংখ্যা খুবই কম। বরং অধিকাংশ মাকড়সা মশা, মাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।

তবুও মানুষের আদিম মস্তিষ্ক এখনো আট পা-ওয়ালা এই ছোট প্রাণীটিকে সম্ভাব্য বিপদ হিসেবেই দেখে। তাই মাকড়সা দেখলেই অনেকের শরীরে ভয় কাজ করা আসলে মানুষের দীর্ঘ বিবর্তনেরই একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পেঁয়াজ কাটতে হয় প্রায় প্রতিদিনই।
পেঁয়াজ কাটলেই চোখে পানি আসে কেন
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
সকালের শুরুতে এক কাপ চা, বিকেলে ক্লান্তি দূর করতে আবারও চায়ের কাপে চুমুক—এমন অভ্যাস অনেকেরই।
অতিরিক্ত গরম চা খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, অবসর সময়ে সোফায় গা এলিয়ে মুঠোফোন দেখা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম না করা—আধুনিক জীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই।
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
আরও পড়ুন
সুদানে ড্রোন হামলায় কয়েক দিনে নিহত ১৬০, বাড়ছে বেসামরিক প্রাণহানি
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে নিহত ১০, একই পরিবারের ৮ জন
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন