
তীব্র গরমের পর বৃষ্টি যেমন স্বস্তি এনে দেয়, তেমনি বর্ষাকালে বাড়ে নানা রোগের ঝুঁকিও। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, জমে থাকা পানি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ক্ষতিকর জীবাণু, ছত্রাক ও মশার বংশবিস্তার বাড়ে। ফলে এ সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।
তাই বর্ষার দিনে খাবার, পানি, পরিচ্ছন্নতা ও দৈনন্দিন অভ্যাসে একটু বেশি সতর্ক থাকা জরুরি।
পানি পান করুন নিরাপদ
বর্ষায় পানির উৎস সহজেই দূষিত হতে পারে। দূষিত পানি থেকে টাইফয়েড, জন্ডিস ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ ছড়াতে পারে।
তাই নিরাপদ পানি পান করা জরুরি। সম্ভব হলে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে পান করা ভালো। বাইরে গেলে অপরিচিত বা অনিরাপদ উৎসের পানি পান না করে নিজের পানির বোতল সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
খোলা ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন
বর্ষার আর্দ্র পরিবেশে খাবারে দ্রুত জীবাণু ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে খোলা খাবার, কাটা ফল এবং দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা খাবার খেলে পেটের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই এ সময়ে তাজা ও ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়াই নিরাপদ। দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বাসি খাবার, বিশেষ করে পুরোনো ভাত ও মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
খাদ্যতালিকায় টক দই, ঘোল, জাম, পেঁপে, ডালিম, আদা ও হলুদের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে।
বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত পোশাক বদলান
বৃষ্টিতে ভেজার পর ভেজা কাপড় পরে থাকা ঠিক নয়। আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত শরীর ও চুল শুকিয়ে শুকনো কাপড় পরে নেওয়া ভালো। ভেজা কাপড় পরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঢোকাও এড়িয়ে চলা উচিত।
ঘরেই করুন শরীরচর্চা
বৃষ্টির কারণে বাইরে হাঁটা বা ব্যায়াম করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। কিন্তু তাই বলে পুরোপুরি শরীরচর্চা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়।
বাইরে বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরেই হালকা শরীরচর্চা, হাত-পায়ের ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরকে সক্রিয় রাখতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে।
পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব রয়েছে। বর্ষাকালেও প্রতিদিন নিয়ম করে প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে বিশ্রাম নিতে এবং দৈনন্দিন ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
জমে থাকা পানি পরিষ্কার করুন
বর্ষায় বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। বিশেষ করে এডিস মশার কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই টব, ফুলের টবের নিচের পাত্র, বালতি বা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
বাইরে বের হলে পুরো হাতা পোশাক পরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। রাতে মশারি ব্যবহার করাও জরুরি।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস ধরে রাখুন
বর্ষায় রোগজীবাণুর সংস্পর্শ এড়াতে নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং ঘরের পরিবেশ শুকনো রাখার চেষ্টা করতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর হাত-পা পরিষ্কার করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃষ্টি উপভোগের পাশাপাশি সামান্য সতর্কতাই বর্ষাকালের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পারে। নিরাপদ পানি পান, তাজা খাবার খাওয়া, ভেজা কাপড় দ্রুত বদলানো, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার মতো ছোট অভ্যাসগুলোই বর্ষাজুড়ে সুস্থ থাকতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ


