ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৫২ পিএম


ডিম খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

ডিমকে ঘিরে বরাবরই বিতর্ক রয়েছে। বহু বছর ধরে, অনেকেই ডিম এড়িয়ে চলতেন কারণ মনে করা হতো যে এটি কোলেস্টেরলের জন্য ক্ষতিকর। এখন এটিকে অন্যতম স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে প্রশংসা করা হয়। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, অনেকেই কোনটা বিশ্বাস করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ঠিক? কুসুম কি বাদ দেওয়া উচিত? ভাজা ডিমের চেয়ে সেদ্ধ ডিম কি বেশি ভালো? কয়টি ডিম খেলে অতিরিক্ত হয়ে যায়? এমন অনেক প্রশ্নই আসতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত-

ডিমের স্বাস্থ্য উপকারিতা কী?

ডিমকে যে পুষ্টির পাওয়ারহাউস বলা হয়, তার একটি কারণ রয়েছে। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চ মানের প্রোটিনের সাথে নয়টি অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা এটিকে একটি সম্পূর্ণ প্রোটিনে পরিণত করে। ডিম কোলিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটেরও একটি উৎস।

অনেকেই ডিমের কুসুম ফেলে দেওয়ার ভুলটি করেন। কারণ ডিমের কুসুমে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং বি১২ সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন থাকে। সাম্প্রতিক পর্যালোচনাগুলিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ডিমে কোলিন, লুটেইন এবং জিয়াজ্যান্থিনের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা মস্তিষ্ক এবং চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে।

দিনে কয়টি ডিম খাওয়া উচিত?

এমন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই যা সবার জন্য প্রযোজ্য, তবে পরিমিতিবোধই মূল বিষয়। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে সপ্তাহে প্রায় তিন থেকে চারবার, দিনে প্রায় একটি করে ডিম খেতে পারেন। শিশুরা সাধারণত তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারে, তবে যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের খাদ্যগ্রহণের বিষয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করা উচিত। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি গবেষণা সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে বেশিরভাগ সুস্থ ব্যক্তির জন্য দিনে একটি আস্ত ডিম হৃদ-স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুন

ডিম খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় কী?

আপনি কীভাবে ডিম রান্না করছেন, তার ওপরও এটি নির্ভর করে। সেদ্ধ, পোচ করা বা হালকা ভাজা ডিম সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। কারণ এতে খুব কম বা কোনো অতিরিক্ত চর্বি যোগ করার প্রয়োজন হয় না। তিনি ডিমের কুসুম ফেলে না দিয়ে রেখে দেওয়ারও পরামর্শ দেন, কারণ সেখানেই অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

ডিমের সঙ্গে শাক-সবজি, শস্যদানা বা ওটস খেলে আপনার খাবার আরও সুষম হতে পারে, কারণ এতে ফাইবার যুক্ত হয়, যা ডিমে স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। বিশেষজ্ঞরা কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন, কারণ রান্না করলে প্রোটিন ভালোভাবে শরীরে প্রবেশ করে এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে।

ডিম কি সত্যিই আপনার হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর?

বছরের পর বছর ধরে ডিম সমালোচিত হয়ে আসছে, কারণ এতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ মাত্রার ডায়েটারি কোলেস্টেরল থাকে। তবে নতুন প্রমাণ থেকে বোঝা যায় যে বিষয়টি আরও সূক্ষ্ম। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি বৈজ্ঞানিক পরামর্শে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসাবে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সম্পর্কিত নয়। ডিমের সঙ্গে আপনি কী খাচ্ছেন, সেটাও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াজাত মাংস, পরিশোধিত শর্করা বা সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ডিম পরিবেশন করার চেয়ে শাক-সবজি এবং শস্যের সঙ্গে ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission