রাগ, দুঃখ, ভয়, উদ্বেগ কিংবা হতাশা—এসব অনুভূতি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তা ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা জন্মগত নয়, এটি ধীরে ধীরে শেখা একটি দক্ষতা।
শৈশব থেকেই অনেকে পরিবারের কাছ থেকে আবেগ সামলানোর কৌশল শেখেন। তবে যাদের সেই সুযোগ হয়নি, তারাও চাইলেই কিছু অভ্যাস গড়ে তুলে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
কেন আবেগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের আবেগ বুঝে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারলে সম্পর্ক ভালো থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন আবেগ চেপে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আচরণগত সমস্যা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে।
আবেগ নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন:
নিজের অনুভূতি বুঝুন
দিনে কয়েকবার নিজের কাছে প্রশ্ন করুন—এ মুহূর্তে কেমন লাগছে? নিজের অনুভূতি বুঝতে পারলেই তা সামলানো সহজ হয়।
অনুভূতির নাম বলুন
শুধু অনুভব করাই নয়, নিজের অনুভূতির নামও বলুন। যেমন—আজ আমার মন খারাপ, আমি উদ্বিগ্ন বা আমি খুশি। এতে আবেগের চাপ অনেকটাই কমে।
কী কারণে আবেগ তৈরি হচ্ছে বুঝুন
কোন পরিস্থিতি আপনাকে রাগান্বিত, ভীত বা দুঃখিত করছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সামলানো সহজ হবে।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হন
ভুল হলে নিজেকে দোষারোপ না করে নিজের প্রতি সদয় হোন। বিশ্রাম নিন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং শরীরের যত্ন নিন।
মনের কথা লিখে রাখুন
ডায়েরিতে অনুভূতি লিখে রাখলে মানসিক চাপ কমে। লিখতে না চাইলে ছবি আঁকা বা অন্য সৃজনশীল কাজও করতে পারেন।
আবেগকে মেনে নিন
রাগ, দুঃখ বা ভয়কে অস্বীকার না করে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। মনে রাখুন, কোনো অনুভূতিই স্থায়ী নয়।
ইতিবাচক কথা বলুন
নিজেকে বলুন—আমি আমার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, আমি শান্তভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারব। এমন ইতিবাচক ভাবনা মানসিক শক্তি বাড়ায়।
মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস করুন
বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ রাখার অভ্যাস করলে দুশ্চিন্তা কমে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
প্রয়োজনে সাহায্য নিন
যদি দীর্ঘদিন ধরে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় বা তা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ জীবনের জন্য আবেগ নিয়ন্ত্রণও জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগকে দমন করা নয়, বরং তা বুঝে সঠিকভাবে প্রকাশ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুললে ধীরে ধীরে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। আর প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিতে দ্বিধা করা উচিত নয়।
সূত্র: মেন্টাল হেলথ অর্গানাইজেশন ইউকে
আরটিভি/জেএমএ



