ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিবারে একজন অসুস্থ হলে অন্যদের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে যা করবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৬ এএম
আই দ্বারা তৈরি ছবি

আমরা সবাই জানি, ভাইরাস এবং জীবাণু অত্যন্ত সংক্রামক। পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে দ্রুতই অন্যদের মধ্যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এর কারণ হলো, অসুস্থ ব্যক্তির মাধ্যমে জীবাণু ছড়ায় যা কয়েকদিন ধরে বাড়ির বিভিন্ন পৃষ্ঠে থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে বাকিরা সংক্রমিত হতে পারে। তাই পরিবারের একজন অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই কিছু সতর্কতা মেনে চললে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

অসুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রাখুন
অসুস্থ ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বললে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। যেখানটাতে ভাইরাস রয়েছে তা স্পর্শ করেও আপনি প্যাথোজেনের সংস্পর্শে আসতে পারেন। সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য, অসুস্থ ব্যক্তিকে একটি আলাদা কক্ষে রাখতে হবে। এতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জীবাণুর সংস্পর্শ অনেকটাই এড়িয়ে চলতে পারবেন এবং কম জায়গা পরিষ্কার করতে হবে।

ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন
বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে জানালা খুলে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। একই ঘরে অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় অবস্থান না করাই ভালো। এসি ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

আরও পড়ুন

যেসব জায়গায় বেশি স্পর্শ করা হয়
যদিও বাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখা স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার অংশ হওয়া উচিত, তবে কেউ অসুস্থ হলে এর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। ক্যাবিনেট, ডোর নব, ফ্রিজের হ্যান্ডেল, রিমোট এবং সেল ফোনের মতো জিনিস, যা বেশি স্পর্শ করা হয় তা পরিষ্কার রাখা জরুরি। স্পঞ্জের চেয়ে ডিসপোজেবল কাগজের তোয়ালে দিয়ে পরিষ্কার করা ভালো। স্পঞ্জ বা তোয়ালে ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যান্য জায়গায় জীবাণু ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

মাস্ক ব্যবহার করুন
অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে রোগীর পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য ভালোভাবে ফিট হয় এমন মাস্ক ব্যবহার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। অসুস্থ ব্যক্তিকেও অন্য সদস্যদের কাছাকাছি যেতে হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হাত পরিষ্কার রাখুন
সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে, বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর, খাবার খাওয়ার আগে এবং চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়ার আগে। কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু অথবা কনুইয়ের ভাঁজ ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস।

রান্নাঘর
অসুস্থ ব্যক্তির থালা-বাসন পরিষ্কার করা হয় রান্নাঘরেই। আবার বেসিনে যদি সে হাত ধুতে আসে তবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াশই যথেষ্ট। টেবিল, চেয়ার ব্যাক, ফ্রিজের হ্যান্ডেল এবং ড্রয়ারের মতো বেশি স্পর্শ করা হয় এমন সব জিনিস জীবাণুনাশক ওয়াইপ এবং স্প্রে দিয়ে মুছে ফেলা উচিত।

কাপড় পরিষ্কার
অসুস্থ ব্যক্তির তোয়ালে, বিছানা এবং কাপড় আলাদাভাবে পরিষ্কার করুন। এগুলো ধোয়ার পরে পরে আপনার হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

উপসর্গের দিকে নজর রাখুন
পরিবারের একজন অসুস্থ হওয়ার পর অন্য সদস্যদের শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি। জ্বর, কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কখন দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন
সাধারণ জ্বর, সর্দি বা কাশির সঙ্গে অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, বিভ্রান্তি বা অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, অনেকেই এই ডিম বাজার থেকে কিনে এনে ঠকছেন। শরীরেরও বারোটা বাজছে। তবে ডিমের মান যাচাইয়ে প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার বদলে খোসার অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ-চেহারা পরীক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নকল ডিম তৈরি হয় রাসায়নিক দিয়ে। সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে দেশের অনেক বাজারে। তবে আসল ডিমের সঙ্গে এই ডিমের তফাত বোঝা খুব একটা কঠিন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা। খুচরা বিক্রির জন্য ডিম কেনার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেভাবে বুঝবেন ‘আসল ডিম’ নাকি ‘প্লাস্টিকের’ ১. প্রথমেই নজর রাখতে হবে ডিমের খোলসের দিকে। আসল ডিমের খোলস হয় একটু এবড়ো-খেবড়ো। কিন্তু প্লাস্টিক ডিমের খোলস হবে একদম মসৃণ। তবে কেবল উপরিভাগ দেখে ডিমকে নকল বলে নির্ধারণ করা যায় না। ২. ডিম পরীক্ষা করার জন্য একে কানের কাছে ধরে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিমে সাধারণত শব্দ হয় না বা ভেতরে নড়াচড়া অনুভূত হয় না। পুরোনো ডিমে ভেতরের পরিবর্তনের কারণে হালকা শব্দ হতে পারে বা তরল পদার্থ নড়তে পারে। ৩. আসল ডিম আর নকলের মধ্যে ওজনের তফাত হবে। আসল ডিম হবে তার আকারের থেকে একটু ভারী। কিন্তু প্লাস্টিক ডিম ওজনে হালকা। ৪. আসল আর নকল ডিমের মধ্যে সব থেকে সহজ তফাত বুঝিয়ে দেয় আরেকটি পরীক্ষা। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে ডিম তাতে ফেলে দিন। আসল নকল হলে তা ডুবে যাবে। ৫. গন্ধ দ্বারা শনাক্ত করুন। একটি নষ্ট ডিমে অপ্রীতিকর বা তীব্র গন্ধ থাকতে পারে। কখনো কখনো, ডিম ভাঙার আগেও এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। যদি কোনও ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে, তবে সেটি না খাওয়াই ভালো। বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করাও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউএসডিএ-এর পরামর্শ হলো ডিম এমনভাবে রান্না করা, যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিমযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রেও নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই বাজার থেকে ডিম কেনার সময় শুধু ‘আসল না নকল’ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে খোসা অক্ষত কি না, ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না এবং ব্যবহারের আগে এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না- এসব বিষয়ই আগে দেখুন। আরটিভি/টিআর
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন
পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ সাধারণত কোনো অভিযোগ, সমস্যা বা জরুরি পরিস্থিতিকে ঘিরেই হয়।
আজ পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন
জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়
প্রিয় পারফিউমটি কিছুদিন ব্যবহারের পর আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। এর জন্য সবসময় সুগন্ধির মান বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না।
জেনে নিন দীর্ঘদিন সুগন্ধি ভালো রাখার সহজ উপায়
আজ নুডলস দিবস
আজ ৬ অক্টোবর নুডলস দিবস। প্রতি বছর এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে নুডলস দিবস পালন করা হয়।
আজ নুডলস দিবস
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাবারের ধরন ও অভ্যাসে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব।
খাবারেই কমাতে পারেন কোলেস্টেরল
আরও পড়ুন
অসুস্থ হয়েও থামেনি ভালোবাসা, হাসপাতালের বেডেই বিয়ে ৭৯ বছরের যুগলের
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের রুটি খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
আজ থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
অসময়ের বৃষ্টিতে ভিজেছেন? অসুস্থতা এড়াতে যা করবেন