
শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের তালিকায় ম্যাগনেসিয়াম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ হলেও এর গুণাগুণ নিয়ে সাধারণত আলোচনা কম হয়।
তবে চিকিৎসকদের মতে, পেশির সুস্থতা বজায় রাখা থেকে শুরু করে স্নায়ু ও হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় ম্যাগনেসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এই খনিজটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে প্রাথমিকভাবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমি ভাব বা ক্ষুধামান্দ্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, অস্টিওপরোসিস এমনকি অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাগনেসিয়ামের দৈনিক চাহিদা বয়স ও লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন, ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের জন্য ৩১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন।
আবার বয়স ৩১ পার হলে এই চাহিদা পুরুষদের ক্ষেত্রে ৪২০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩২০ মিলিগ্রামে দাঁড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়সের তারতম্য অনুযায়ী ৩০ থেকে ২৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজন হতে পারে।
শরীরের এই চাহিদা মেটাতে প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। প্রকৃতিতে অনেক সাধারণ খাবারেই প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ, তিসি বীজ, কাঠবাদাম এবং কাজুবাদাম ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস। এছাড়া নিয়মিত সবুজ শাক-সবজি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, ব্রাউন রাইস এবং ডার্ক চকলেট খেলে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়।
এমনকি চর্বিযুক্ত মাছ, কলা এবং দুধ বা দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবারও শরীরের এই খনিজের যোগান দিতে সক্ষম। সচেতনভাবে এই খাবারগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে স্নায়ু, পেশি ও হাড়ের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং অনেক জটিল রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরটিভি/এএইচ


