
মাইগ্রেন নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে বয়ঃসন্ধির পর নারীদের মধ্যে এর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি।
এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শরীরে হরমোনের ওঠানামা। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে নারীদের মাইগ্রেনের সম্পর্ক রয়েছে।
মাসিকের সময় কেন বাড়ে মাইগ্রেন?
মাসিক শুরুর আগে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। যেসব নারী এই হরমোনের পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের এ সময় মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মাসিকের সঙ্গে সম্পর্কিত মাইগ্রেন সাধারণত মাসিক শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে শুরু হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিকের প্রথম কয়েক দিনও এই সমস্যা দেখা দেয়।
বয়ঃসন্ধির পর বাড়ে পার্থক্য
শিশু বয়সে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের হার মোটামুটি কাছাকাছি থাকে। কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়তে শুরু করে।
এ সময় থেকেই মাসিক চক্র ও শরীরের হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গর্ভাবস্থায় কমতে পারে
গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর মাইগ্রেনের সমস্যা কমে যেতে পারে। এর একটি কারণ হলো এ সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি ও স্থিতিশীল থাকে।
তবে মেনোপজের আগের সময়, অর্থাৎ পেরিমেনোপজে, পরিস্থিতি আবার বদলে যেতে পারে। এ সময় হরমোনের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করায় কারও কারও মাইগ্রেন আরও ঘন ঘন বা তীব্র হতে পারে।
মেনোপজের পর অনেক নারীর মাইগ্রেনের সমস্যা কমে আসে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই অভিজ্ঞতা হয় না।
শুধু হরমোনই দায়ী নয়
নারীদের মাইগ্রেন বেশি হওয়ার পেছনে হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। বংশগত প্রবণতা, ঘুমের অনিয়ম, মানসিক চাপ, খাবার বাদ দেওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই একজন নারীর মাইগ্রেনের কারণ বা আক্রমণের সূত্র অন্যজনের চেয়ে আলাদা হতে পারে।
নারীদের মাইগ্রেন বেশি হওয়ার কারণ কী?
সহজভাবে বললে, নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের মাত্রায় বারবার পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে মাসিক, গর্ভাবস্থা এবং মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন মাইগ্রেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
তবে শুধু হরমোনের পরিবর্তন নয়, ঘুম, খাবার, মানসিক চাপ, পানিশূন্যতা ও আবহাওয়ার মতো বিষয়ও মাইগ্রেনের আক্রমণকে উসকে দিতে পারে। তাই মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে নিজের কোন বিষয়গুলোতে আক্রমণ বাড়ে, তা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/জেএমএ


