
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইদানীং কর্টিসল কমানোর নানা উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নতুন একটি প্রবণতা জনপ্রিয় হয়েছে, যার নাম ‘ডার্ক শাওয়ারিং’ বা অন্ধকারে গোসল।
অনেকে দাবি করছেন, সম্পূর্ণ অন্ধকারে গোসল করলে মানসিক চাপ কমে এবং কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের অন্ধকারে গোসল নাকি অবচেতন মনেও পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?
মনোবিজ্ঞানী ড. নাওমি মারফির মতে, অন্ধকারে গোসলের এই ধারণার সঙ্গে ঠান্ডা পানিতে শরীর ভেজানোর প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঠান্ডা পানিতে গোসল বা বরফঠান্ডা পানিতে ডুব দেওয়াকে মানসিক চাপ কমানোর একটি উপায় হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে ঠান্ডা পানি শরীরে প্রথমে উলটো প্রতিক্রিয়াই তৈরি করে। মারফি বলেন, ঠান্ডা পানির ধাক্কায় শরীরের সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয় এবং কিছু স্ট্রেস হরমোন সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। পরে গোসল শেষ হওয়ার পর এসব হরমোনের মাত্রা কমে আসে। এই পরবর্তী প্রতিক্রিয়া মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
তবে অন্ধকারে গোসল করলেই সঙ্গে সঙ্গে কর্টিসল কমে যাবে, এমন প্রমাণ নেই। চিকিৎসক ড. সিনথিয়া ওডগুর মতে, কর্টিসলের মাত্রা কমতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ততক্ষণে অনেকের ঘুমিয়ে পড়ার সময়ও হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কা শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তাই এসব ব্যক্তির ঠান্ডা পানিতে গোসল এড়িয়ে চলা উচিত।
কর্টিসল কমানোর ক্ষেত্রে উষ্ণ পানিতে গোসল বরং বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন ওডগু। ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড ফিজিওলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণার বরাতে তিনি জানান, প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে গোসল করলে রক্তে কর্টিসলের মাত্রা প্রায় ৩৪ শতাংশ কমতে পারে।
তবে অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘ সময় গোসল করলে আবার কর্টিসল বেড়ে যেতে পারে। পানির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে শরীরের গভীর তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে কর্টিসলের মাত্রাও বাড়তে পারে।
অন্ধকারে গোসলের আরেকটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো, কম আলো শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত উদ্দীপনা কমাতে পারে। এতে মানসিক চাপ কমার পাশাপাশি শরীরের ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম বজায় রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ধকারে গোসলকে কর্টিসল কমানোর নিশ্চিত পদ্ধতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে দিনের শেষে আলো কমিয়ে, শান্ত পরিবেশে গোসল করা, ল্যাভেন্ডারের মতো সুগন্ধ ব্যবহার বা মৃদু গান শোনা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই প্রবণতাটির দাবি অতিরঞ্জিত হলেও, দিনের শেষে গোসলকে একটু শান্ত ও সচেতন অভ্যাসে পরিণত করা ক্ষতিকর নয়।
আরটিভি/ এসকেডি

