ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যায় অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন আটক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বামে) ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় ৪৫ বছর পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় সাড়ে চার দশক পলাতক থাকার পর অবশেষে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

ডিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Mozaffer1

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘটনার আগের দিন, অর্থাৎ ১৯৮১ সালের ২৯ মে দুই দিনের সফরে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল নিজের প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিক দল-বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার বিরোধ নিরসন করা।

চট্টগ্রামে পৌঁছে সফরের প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক শেষে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান জিয়াউর রহমান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীর একটি দল তার ওপর গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে সকালে রেডিওতে প্রথমবারের মতো জিয়াউর রহমানকে হত্যার খবর প্রচারিত হয়।

এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, ‘The President has been killed.’

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। এছাড়া, ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে, তখন মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘসময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণই কমাবে সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষায় কঠোরতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। পাশাপাশি গতি নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি এবং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত, মামলা দায়ের এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করছে। ট্রাফিক বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সমন্বিত পদক্ষেপে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। যানবাহন নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান, ফিটনেস পরীক্ষা এবং আইন প্রয়োগে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে বিআরটিএ। সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, গাড়ির বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত স্পিড ক্যামেরা ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি এবং অদক্ষ চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন , প্রধানত চালকদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া গতি, ড্রাইভিংকালে ফোনে কথা বলা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, পথচারীদের অসচেতনতা এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ তুলে ধরে ড. শামসুল হক আরও বলেন, আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা, ফুটপাত ও সড়কের মান উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত আলো, ট্রাফিক সিগন্যাল, জেব্রা ক্রসিং ও সড়কচিহ্ন স্থাপন করা জরুরি। এছাড়া হেলমেট ও সিটবেল্ট পরা বাধ্যতামূলক করা এবং মাদকাসক্ত বা ক্লান্ত-ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়কের বিশৃঙ্খলাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সড়কে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, টেম্পো ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মতো ছোট গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব ছোট গাড়ি দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়, যা দুর্ঘটনা বাড়ায়। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তিনি বলেন, প্রধান সড়কের পাশে ফুটপাত দখল ও মার্কেট গড়ে ওঠায় মানুষের যাতায়াত বাড়ছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে চালকদের পেশাদার প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো (ব্ল্যাক স্পট) চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর তাগিদ দেন এই প্রকৌশলী। লালবাগ ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোফিজুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে কিছু চালকেরা ট্রাফিক আইন অমান্য করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তাই চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। এছাড়া মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে ছোট গাড়ির আনাগোনা কমানো না গেলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কেবল জীবনই কেড়ে নেয় না, বরং পুরো পরিবার ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। নিহত বা পঙ্গু হওয়া ব্যক্তির কর্মক্ষমতা হারানোয় আয় কমে যাওয়া ও চিকিৎসাব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। মোটরসাইকেল আরোহী, সাধারণ পথচারী, শিশু, সাইকেল ও তিন চাকার যাত্রী এবং সড়কের পাশে বসবাসকারী মানুষই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং যানবাহন পরিদর্শনের দুর্বলতাও এর জন্য বড় দায়ী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটলেও যেন প্রাণহানি না ঘটে- এমন নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য পথচারী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা, মিডিয়ান ব্যারিয়ার, উপযুক্ত বাসস্টপ, পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট রোড মার্কিং এবং স্কুল ও বাজার এলাকায় গতিসীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সারাদেশে ৪ হাজার ২৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২৪৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৫৪৪ জন আহত হয়েছেন। সড়কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সাধারণ পথচারী মো. সাফিউর রহমান বলেন, পথচারীদের যত্রতত্র রাস্তা পার না হয়ে সচেতনভাবে চলাচল করা উচিত। দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার বড় কারণ। তবে অনেক চালক অস্বাভাবিক বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিয়ম না মেনে গাড়ি চালায়। চালক ও পথচারী- উভয়ের সচেতনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে। সূত্র: বাসস আরটিভি/এসকে
গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নজরদারি ও চালকদের প্রশিক্ষণই কমাবে সড়ক দুর্ঘটনা
বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের কারখানা
সবুজে ঘেরা উঠান, পুকুরপাড়ের পথ আর গাছপালায় ঢাকা দেয়াল—এমন নান্দনিক নকশার জন্য বিশ্বের সেরা নতুন স্থাপনার স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের একটি কারখানা।
বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের কারখানা
মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন শর্ত, না মানলে কঠোর ব্যবস্থা
আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদেরকে এ নিয়ম পালনে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশ না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট নিয়ে নতুন শর্ত, না মানলে কঠোর ব্যবস্থা
জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৪৭ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। 
জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৪৭ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা
এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন তথ্য সংশোধন করতে কী কী কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তা নির্ভর করে সংশোধনের ধরন ও ভুলের মাত্রার ওপর।
এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে লাগবে যেসব কাগজপত্র
আরও পড়ুন
প্রস্রাবভর্তি বোতলে ভরা বাড়ি, পরিবারের ৮ জনকে হত্যা করলেন বাবা
মুন্সীগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
ছোট্ট এক ভুলেই জীবন গেল নেত্রকোনার সেই সাংবাদিকের!
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা