ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আশার আলো নতুন ‘ব্রি ধান-১১৮’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ এএম
‘ব্রি ধান-১১৮’ নামে স্বল্পমেয়াদি ও শৈত্য-সহনশীল নতুন একটি বোরো ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ছবি: বাসস

‘ব্রি ধান-১১৮’ নামে স্বল্পমেয়াদি ও শৈত্য-সহনশীল নতুন একটি বোরো ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ধানের নতুন এ জাতটি হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যাজনিত ফসলহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত বিজ্ঞানীদের।

ব্রির উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ উদ্ভাবিত এ জাতটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকার কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যার সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ অঞ্চলে আগাম বপন করলে শীতের কারণে ধানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, আর দেরিতে রোপণ করলে ফসল কাটার আগেই আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. খন্দকার মো. ইফতেখারউদ্দৌলা বলেন, ব্রি ধান-১১৮ বিশেষভাবে হাওরাঞ্চলের জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে স্বল্প জীবনকাল এবং প্রজনন পর্যায়ে নিম্ন তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কৃষকরা আকস্মিক বন্যার আগেই ধান কাটতে পারবেন এবং শীতজনিত ‘চিটা’ পড়ার সমস্যাও অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ধানের প্রজনন পর্যায়ে টানা সাত থেকে ১০ দিন গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলেও এ জাতটি তা সহ্য করতে পারে। এ সময় প্রচলিত অনেক জাতের ধানে ‘চিটা’ পড়ে, ফলে ধানের শীষে খালি দানা তৈরি হয় এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

আরও পড়ুন

গবেষকদের মতে, স্বাভাবিক চাষাবাদে ‘ব্রি ধান-১১৮’ পরিপক্ব হতে ১৪৫ থেকে ১৫০ দিন সময় লাগে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রোপণ করলে এপ্রিলের শুরুতেই ফসল কাটা সম্ভব হয়, যা হাওরাঞ্চলের বার্ষিক আকস্মিক বন্যার আগেই ফসল ঘরে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে।

এ জাতের ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ৮ টন, যা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বোরো জাত ‘ব্রি ধান-২৮’-এর তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ১ টন বেশি। উন্নত ব্যবস্থাপনায় এর ফলন হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত হতে পারে।

‘ব্রি ধান-১১৮’ উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিয়েছেন হবিগঞ্জে ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান এবং উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস। তিনি বলেন, কয়েক বছরের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নে এ জাতটি হাওরাঞ্চলে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতটি অবমুক্ত হওয়ায় এখনো এটি ব্যাপকভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছেনি। তাই কৃষকদের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়নের জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

নতুন জাতটির দ্রুত সম্প্রসারণে আগামী বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলের ৫০টি উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। প্রতিটি উপজেলায় প্রায় ১০০টি করে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হবে।

ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে বৃহৎ পরিসরে প্রদর্শনী ও বীজ বিতরণের জন্য আমরা অফ-সিজন বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে মানসম্মত বীজ প্রস্তুত করছি।

তিনি জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আগাম রোপণ করলে এ জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ৬ টন হতে পারে। আর ১৫ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে রোপণ করলে ফলন প্রায় ৮ টন পর্যন্ত হতে পারে। বিদ্যমান অনেক স্বল্পমেয়াদি জাতের বিপরীতে ‘ব্রি ধান-১১৮’ নিম্ন তাপমাত্রাতেও দানার পূর্ণতা বজায় রাখতে সক্ষম, ফলে ‘চিটা’ পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ড. পার্থ সারথি বিশ্বাস বলেন, হাওরাঞ্চল দেশের মোট বোরো ধান উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ জোগান দেয়। হাওরাঞ্চলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার প্রেক্ষাপটে নতুন জাতটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকার ইতোমধ্যে নগদ সহায়তা ও খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

নতুন প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ মাসব্যাপী একটি সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ব্রি। এ কর্মসূচির বাজেট ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ হাজার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, ব্রির পাঁচটি আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩০ টন মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও বিতরণ এবং প্রায় তিন হাজার কৃষক ও ৪২০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে গঠিত হাওরাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন এলাকা। দেশের মোট বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ১৬ থেকে ২০ শতাংশ আসে এ অঞ্চল থেকে।

ব্রির বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, ‘ব্রি ধান-১১৮’সহ জলবায়ু-সহিষ্ণু ধানের জাতগুলো ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করা গেলে হাওরাঞ্চলে ধান উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে যেমন জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে, তেমনি হাজার হাজার ঝুঁকিপূর্ণ কৃষক পরিবারের জীবিকাও উন্নত হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইসির সঙ্গে বৈঠকে নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
ইসির সঙ্গে বৈঠকে নেপালের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল
অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
চলতি মাসে একদিনের ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
চলতি মাসে একদিনের ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
নেপালে ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জির ‘হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া’, ৩ বিজয়ীর রোমাঞ্চকর অভিযান
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জি বিস্কুটের আয়োজনে শুরু হওয়া ক্যাম্পেইন 'হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া' এখন সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নেপালে ফানটাস্টিক হেব্বি এনার্জির ‘হেব্বি অ্যাডভেঞ্চার টু হিমালয়া’, ৩ বিজয়ীর রোমাঞ্চকর অভিযান
পূজায় কারা পাচ্ছেন ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি থাকবে এবং ১৭ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য ডিফারেন্ট মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (শিডিউল ওয়ান অব দ্য রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬) (সংশোধন, ফেব্রুয়ারি ২০২৪)-এর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অংশের ৩৭ নম্বর ক্রমিকের অনুবলে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে। চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরাও এ ছুটির আওতা বর্হিভূত থাকবে। জরুরি কাজে সম্পৃক্ত অফিসগুলো এ ছুটির আওতা বহির্ভূত থাকবে।  ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আরটিভি/এসআর
পূজায় কারা পাচ্ছেন ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারি
আরও পড়ুন
ঝিরিপথ পেরিয়ে চবির শহীদ মিনারে পাহাড়ি শাকসবজির বাজার
খেলার মাঠে ছেলেকে ডাকতে গিয়ে পা হারালেন কৃষক
সার সংকটে হুমকির মুখে আমন চাষ, ঝিনাইদহে ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কৃষকরা
ঘাস ধুতে গিয়ে পানিতে পড়ে কৃষকের মৃত্যু