ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

এবার রিকশা চালাতেও লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্স!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশার (ই-রিকশা) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে। প্রথমে ই-রিকশা নিবন্ধন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদেরকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

অর্থাৎ, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীতে ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে চালকদেরকে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর ওই আইনের আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এখন ই-রিকশা নিবন্ধনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

তিনি বলেন, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন প্রথমে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গত ১৫ থেকে ৩০ বছর এসব যানবাহনের কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। নতুন আইনের মাধ্যমে একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শনের জন্য কিউআর কোড সংবলিত সনদ দেবে সিটি করপোরেশন। এজন্য এক হাজার টাকা ফি নেওয়া হবে।

ই-রিকশা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটিটি গঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ই-রিকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলছে, সেগুলোকেও ওই নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে এ কাজ করবে।

বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো।

এছাড়া যাত্রী ছাড়া মালামাল পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এদিকে, নতুন নীতিমালায় ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিধান থাকলেও আপাতত তা কার্যকর করা হচ্ছে না। প্রথমে যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পরে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। আপাতত চালকদের পরিচয়পত্র থাকবে, যা মালিকপক্ষ দেবে।

এ বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটা আগে শুরু করি, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কিছুদূর এগিয়ে গেলে আমরা এটার জন্য আলাদা একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে, তখন ড্রাইভিং লাইসেন্স।’

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জানান, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনার জন্য ঢাকা মহানগরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। মোট আটটি রঙের ই-রিকশা চলাচল করবে, যাতে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে না পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোনভিত্তিক কতগুলো ই-রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। আপাতত ই-রিকশার সংখ্যার ওপর কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

নিবন্ধনের পর কোন ই-রিকশা কোন জোনে চলবে, তা কিউআর কোডে উল্লেখ থাকবে। এতে নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও জোনের পরিচয় থাকবে বলেও জানান তিনি।

সেইসঙ্গে নতুন নীতিমালা নিয়ে ঢাকার বর্তমান ই-রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল নিরুৎসাহিত করা হবে এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ই-রিকশাচালকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো আপাতত যে যেভাবে চলছে চলতে থাকবে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে আমরা নিবন্ধন দিতে থাকবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা অবৈধ ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবো।

তিনি বলেন, রাতারাতি এটা নিয়ে নতুন করে আমরা এই বিধিমালা প্রকাশের সাথে সাথে আতঙ্ক তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা যেন কেউ লুটতে না পারে এইজন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আপাতত যে যেভাবে চলছে চলতে থাকবে। নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে আমরা নিবন্ধন দিতে থাকবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা অবৈধ ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবো।

নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। ওই সময়ের মধ্যে কতগুলো ই-রিকশা নিবন্ধন পেয়েছে, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ ই-রিকশা কবে অপসারণ করা হবে, তা জানানো হবে।

ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে এ মীর শাহে আলম বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে, তাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে।

তিনি জানান, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব চার্জিং পয়েন্ট তদারকি করবেন।

কিলোমিটার হিসাবে ই-রিকশার ভাড়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ ক্ষেত্রে ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চার্জিং ই-রিকশাগুলো নিবন্ধন দেওয়ার পরে মালিক পক্ষ, যারা ই-রিকশার মালিক, মালিক পক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন তিনটি স্টক হোল্ডার যৌথভাবে বসে কিলোমিটার প্রতি কী ভাড়া হবে, তারা নির্ধারণ করে দেবে, অবশ্যই যৌক্তিক হবে এবং সাধারণ মানুষের সে সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও জানান, নতুন বিধিমালা আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নিতে পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর সেসব এলাকার জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
‘তিন মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার। এরমধ্যে শুধু ঢাকা শহর থেকেই ২৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
‘তিন মাসে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার’
মানামা ডায়ালগে অংশ নিতে বাহরাইনে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিদল
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন আইআইএসএস মানামা ডায়ালগ ২০২৬-এ অংশ নিতে বাহরাইন সফর করছেন বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল। ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন আইআইএসএস মানামা ডায়ালগ ২০২৬। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেন। সম্মেলনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সফরে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশীদ চৌধুরী। বাংলাদেশের এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন বাহরাইন (অনিবাসী) ও কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল করিম চৌধুরীসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাহরাইন সফরের অংশ হিসেবে গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাস, মানামা পরিদর্শন করেন সামরিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা প্রদান করা হয়। পরিদর্শনকালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান দূতাবাসের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এ সফর বাংলাদেশ ও বাহরাইনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সামরিক, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আরটিভি/টিআর
মানামা ডায়ালগে অংশ নিতে বাহরাইনে বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধিদল
পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু করছে সরকার
পরিবার পরিকল্পনা জোরদার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বছরব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ এই স্লোগান সামনে রেখে আগামী ১ ডিসেম্বর পরিচালিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানান গেছে, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ও প্রজনন পরিস্থিতি বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে এবং মাঠপর্যায়ে সেবা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা হবে। দেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে।  অন্যদিকে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে বছরব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।’ তিনি বলেন, আমরা প্রাইমারি লেভেল থেকেই কার্যক্রম শুরু করব। জারি গান, সারি গান, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ নানা মাধ্যমে স্লোগান প্রচার করা হবে। তবে এ উদ্যোগ শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা ২ দশমিক ১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।  বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে বছরব্যাপী ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এর মধ্যে মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাট-বাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ততা, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা, ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর সেবা, ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতি কাউন্সেলিং এবং পুরুষদের সম্পৃক্তকরণ। বিনা মূল্যে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর প্রচার, পল্লিচিকিৎসক ও ধাত্রীদের রেফারেল অংশীদারি এবং এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র‌্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া এক বছরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন এবং ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ প্রায় ২৮ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রী কেনা বন্ধ থাকায় অনেক উপজেলা ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত নেই। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের (এসসিএমপি) মনিটরিং ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি উপজেলায় কনডমের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ৩৫৪টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ৪২৮টি উপজেলায় আইইউডির মজুত নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বাসস’কে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অপারেশনাল প্ল্যানের অসমাপ্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গর্ভনিরোধক সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।  ডিসেম্বর নাগাদ এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জিনাত রেহানা বলেন, আমাদের জিনিসপত্র হাতে আসছে। এখন জনগণকে জানাতে হবে যে, গর্ভনিরোধক সামগ্রী আবার পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে এ জন্যই জাতীয়ভাবে একটি ক্যাম্পেইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমাতে হবে এবং একটি সন্তানের পর পরবর্তী সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ বিরতি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ জনবল সংকট উল্লেখ করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া পরিবার কল্যাণ সহকারীদের (এফডব্লিউএ) বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।  আমাদের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ১৯-২০ হাজার কর্মী এখনো নেই, যা থাকার কথা ছিল। তবে জনবল সংকটের মধ্যেও বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু করছে সরকার
ইন্টারপোলের সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি
দ্বিতীয় ইন্টারপোল গ্লোবাল বায়োসিকিউরিটি কনফারেন্সে যোগ দিতে ফ্রান্সের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। 
ইন্টারপোলের সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন আইজিপি
আরও পড়ুন
পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত
ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা
চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশায় আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৫
৪ হাজার ২১৮ কিমি অটোরিকশা সফর, শেষে প্রিয় যান নিয়ে ব্রিটেনে ফিরলেন দম্পতি