ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব সিংহ দিবস 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
আজ (১০ আগস্ট) বিশ্ব সিংহ দিবস, অস্তিত্ব সংকটে ‘বনের রাজা’ । ছবি: সংগৃহীত

বনের রাজা হিসেবে পরিচিত সিংহ। শক্তি, সাহস আর রাজকীয় উপস্থিতির কারণে বন্যপ্রাণীজগতে এই প্রাণীর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তবে মানুষের বসতি ও সভ্যতার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে কমছে বনাঞ্চল। সংকুচিত হচ্ছে সিংহের আবাসস্থল। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে এই বন্যপ্রাণী।

সিংহ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ১০ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব সিংহ দিবস। আজ সোমবার বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

কেন এই দিবসের শুরু?

সিংহের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা নিয়ে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্ব সিংহ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

এই উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ডেরেক ও বেভারলি জুবার্ট দম্পতির। সিংহসহ বড় আকারের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন, বনের রাজা সিংহের অস্তিত্বও ধীরে ধীরে হুমকির মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে তারা ২০০৯ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সঙ্গে অংশীদারত্বে বড় বিড়াল সংরক্ষণ উদ্যোগ শুরু করেন।

পরে ২০১৩ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও তাদের সংরক্ষণ উদ্যোগকে একই ছাতার নিচে আনার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে অবশিষ্ট সিংহদের রক্ষায় কাজ আরও জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতাতেই বিশ্ব সিংহ দিবসের সূচনা হয়।

আরও পড়ুন

কেন গুরুত্বপূর্ণ সিংহ সংরক্ষণ?

সিংহ শুধু বন্যপ্রাণীজগতের আকর্ষণীয় একটি প্রাণী নয়, বাস্তুতন্ত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সিংহের আবাসস্থল রক্ষা এবং তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্ব সিংহ দিবসে মানুষকে সিংহের গুরুত্ব, তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

কীভাবে পালিত হয় দিবসটি?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। শিল্পকলা, আলোকচিত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিংহের জীবন ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন, চিড়িয়াখানা এবং সাধারণ মানুষও নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সিংহ সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহ, কর্মশালা, আলোচনা, সভা ও অনলাইন আয়োজনের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন লেখা, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে নেই সিংহ, তবু পালিত হয় দিবস

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনে সিংহের বসবাস নেই। তবু দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দিবসটি পালন করে থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য শুধু সিংহ সংরক্ষণ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা।

সিংহ ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করাই বিশ্ব সিংহ দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বনের রাজা সিংহকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়, বরং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টাকেও এগিয়ে নেওয়া।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে বন বিভাগ, কিন্তু কেন?
দেশের বন্যপ্রাণীর পাচার ঠেকাতে এবং সুরক্ষিত রাখতে এবার জন্তুদের গায়ে মাইক্রোচিপ বসানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ বন বিভাগ।
বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে বন বিভাগ, কিন্তু কেন?
আজ ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’, ঘরহীন প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর দিন 
সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রিমেম্বার মি থার্সডে।
আজ ‘রিমেম্বার মি থার্সডে’, ঘরহীন প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর দিন 
ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ছয় মাসে বিশ্ব জুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
আরও পড়ুন
বাবার একাধিকবার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ১৩ বছরের মেয়ে, অতঃপর... 
৯ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অর্ধশত মৃত্যু
‘আগে প্রশাসনের শুদ্ধি অভিযান চালান’, সারের লাইসেন্স নিয়ে এমপি বাবুর ফেসবুক পোস্ট
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে এক দিনে ৩ জনের মৃত্যু