ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বন্যপ্রাণীর গায়ে মাইক্রোচিপ বসাবে বন বিভাগ, কিন্তু কেন?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
বাংলাদেশ থেকে ‘চুরি’ হওয়া লেমুর। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বন্য প্রাণীর পাচার ঠেকাতে এবং সুরক্ষিত রাখতে এবার জন্তুদের গায়ে মাইক্রোচিপ বসানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ বন বিভাগ। এর আগে, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত নজরদারি ও অরক্ষিত সীমানাদেয়ালের সুযোগে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে কয়েক দফায় বন্য প্রাণী পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পাচার হয়ে যাওয়া বন্য প্রাণী শনাক্তে সব বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিংও করতে চায় পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বন্য প্রাণীর ডিএনএ সনাক্ত করা গেলে কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর জেনেটিক ছাপ সংগ্রহ করে রাখা যাতে পরে প্রয়োজনে সেই প্রাণীটিকে বা তার সঙ্গে রক্তের সম্পর্কযুক্ত অন্য কোনো প্রাণীকে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা যায়, অনেকটা মানুষের ক্ষেত্রে ফরেনসিক ডিএনএ টেস্টের মতো।

মাইক্রোচিপ হলো ছোট দানার আকৃতির একটি ইলেকট্রনিক চিপ, যেটাতে একটি মৌলিক নম্বর থাকে। শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করলে ওই নম্বর দিয়ে প্রাণীটিকে শনাক্ত করা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্য প্রাণী হারিয়ে যাওয়া বা পাচারের পর উদ্ধার করা হলে সেগুলো সাফারি পার্কের কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। মাইক্রোচিপ বসলে সেটা নিয়ে আর সংশয় থাকবে না। পাচার ঠেকাতেও সেটি যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।

দেশে সাফারি পার্কের সংখ্যা দুটি। একটি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক। অন্যটি গাজীপুর সাফারি পার্ক। গাজীপুরেরটি দেশের সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক। ২০১০ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩ হাজার ৬৯০ একর বন নিয়ে এ পার্ক প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে ৭৩ প্রজাতির ১ হাজার ৫০০ বন্য প্রাণী নিয়ে এ সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জনবল আছে ৮৪ জন।

জানতে চাইলে বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সংবেদনশীল ও দুর্লভ বন্য প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিং করা ও মাইক্রোচিপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এ কাজ করবে বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। তাদের ফরেনসিক ল্যাব থেকে এটি করা হবে।’

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের দুটি সাফারি পার্কের বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ বসানো ও ডিএনএ প্রোফাইলিং করার জন্য আমরা একটা প্রস্তাব পেয়েছি।’

তিনি বলেন, কোন কোন বন্য প্রাণীর মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং দরকার, সেটা আগে সুনির্দিষ্ট করে কাজ শুরু করা হবে। মাইক্রোচিপ কিছু বন বিভাগের হাতে আছে। বাকিগুলো সংগ্রহ করে কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে ফরেনসিক ল্যাবে কিছু রিএজেন্টের (ডিএনএ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত একধরনের রাসায়নিক) ঘাটতি আছে। এক মাসের মধ্যে সেগুলো চলে আসবে।

মাইক্রোচিপ বসালে কী উপকার হবে

২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর গাজীপুর সাফারি পার্কের সাফারি কিংডম এলাকা থেকে গ্রিন উইং ম্যাকাও নামের দুটি পাখি চুরি হয়। এ ঘটনায় একটি পাখি উদ্ধার ও একজনকে আটক করা হলেও চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন করা যায়নি। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি নীলগাই হারিয়ে যায় পার্ক থেকে। সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালে মার্চে ঘটে সাফারি পার্কের সবচেয়ে দুর্লভ প্রাণী মাদাগাস্কারের লেমুর চুরির ঘটনা। পার্ক থেকে তিনটি রিং-টেইলড লেমুর পাচার হয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি জানায়, এগুলো সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচার হয়ে গেছে।

বারবার চুরির ঘটনা থামাতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ বসাতে চিঠি দেন বন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেখান থেকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তার একমত পোষণ করে চিঠি দেন বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষককে।

চিঠিতে বলা হয়, পার্কের বন্য প্রাণী পাচার বা চুরি হয়ে গেলে মাইক্রোচিপ থাকলে সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এরপর এক বছর পর মাইক্রোচিপের সঙ্গে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে বন অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কের আয়তন সাড়ে তিন হাজার একরের ওপর। বিশাল এ পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বন্য প্রাণীগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে মাইক্রোচিপ ও ডিএনএ প্রোফাইলিং করা দরকার। এ ছাড়া বন্য প্রাণীর স্বাস্থ্য সম্পর্কেও উপাত্ত পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সাফারি পার্কে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন বিশিষ্ট বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান। তিনি বলেন, এটা ভালো উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী সাফারি পার্কগুলোতে এ চর্চা আছে। সাফারি পার্কে আরও নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা আছে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, খাঁচাগুলো অস্বাস্থ্যকর। বন্য প্রাণীগুলো এ ধরনের আবদ্ধ অবস্থায় অস্বস্তি বোধ করে। বিষয়গুলো বোঝার মতো সাফারি পার্কে জ্ঞানসম্পন্ন লোকবল নেই। ৫০ দশকের পুরোনো পদ্ধতিতে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা চলছে। সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এবার পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক
এবার বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ চাষের পুকুরের পলি এবং মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এই গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পুকুরের তলদেশের পলিতে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার দূষণ রয়েছে।
এবার পুকুরের মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক
মলত্যাগ করতে সপ্তাহে একবার নামে গাছ থেকে, অলস প্রাণী সম্পর্কে জানুন ১০ তথ্য
পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতির স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম স্লথ। দিনের বেশির ভাগ সময় গাছের ডালে ঝুলে কাটানো, ধীরগতিতে চলাফেরা এবং অদ্ভুত জীবনযাপনের কারণে প্রাণীটি পরিচিত। তবে স্লথের জীবনযাপনের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা জানলে অবাক হতে হয়।
মলত্যাগ করতে সপ্তাহে একবার নামে গাছ থেকে, অলস প্রাণী সম্পর্কে জানুন ১০ তথ্য
বাজারে ‘হেসেখেলে’ বেড়াচ্ছে পলিথিন
নিষেধাজ্ঞার পরেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে। মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, মাছের আড়ৎ ও ফলের দোকানে পলিথিন ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে ‘হেসেখেলে’ বেড়াচ্ছে পলিথিন
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘নতুন পরিকল্পনা’
এ ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলে রাসায়নিক ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার অপরাধ আদালতে প্রমাণ করা সহজ হবে এবং অবৈধ মাছ শিকার অনেকাংশে কমে আসবে বলে বন বিভাগ আশা করছে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘নতুন পরিকল্পনা’
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
মানুষের কর্মকাণ্ডের বিস্তারে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পাখি মোনালের জীবনযাপন। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন ও শব্দদূষণের কারণে পাখিটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে আরও উঁচু এলাকায় সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ডাকের ধরনও বদলাচ্ছে মোনাল।
মানুষের যন্ত্রণায় নিজেকে বদলে ফেলছে হিমালয়ের এই পাখি
আরও পড়ুন
চাচার সোনা চুরি করে গাড়ি কিনে উদ্বোধনে তাকেই ডাকলেন ভাতিজা
ঘুম ভাঙতেই ‘চক্ষু চড়কগাছ’ গৃহকর্তার
বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে কবরস্থানে চোরের দল, অতঃপর...
পূজার ছুটি শেষে বাসায় ফিরে হতভম্ব সুখন