ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলা ভাষার উৎপত্তি যেভাবে হয়েছিল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:১৫ পিএম

বাংলা আমার মাতৃভাষা। প্রাণের এই ভাষায় কথা বলি, হাসি, খেলি-গান গাই। আমাদের প্রতিটি নিশ্বাসের সঙ্গে মিশে রয়েছে বাংলার জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা। শুধু মায়ের ভাষাকে রক্ষা করার জন্য নিজের প্রাণ বলি দিতেও দ্বিধা করেনি বীর বাঙালি। বাঙালি হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র জাতি, যারা নিজ ভাষা রক্ষায় লড়াই করেছে। রক্তের দামে কেনা এ ভাষাটির জন্য আমাদের এত ভালোবাসা।

এই বাংলাভাষা কোথা থেকে এলো? কীভাবে এর উৎপত্তি? আসলে বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে নানান জনের আছে নানা মত। তবে বাংলাভাষা একদিনে আজকের পর্যায়ে আসেনি। শত সহস্র বছরের বিবর্তনে এই রূপ পেয়েছে। এখন আমরা যে বাংলা ভাষা বলি এক হাজার বছর আগে তা ঠিক এমন ছিল না। এক হাজার বছর পরও ঠিক এমন থাকবেও না। ভাষা এমনই চলমান প্রক্রিয়া, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি সমৃদ্ধ ও নতুন রূপে বিকশিত হয়।

মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি। রূপ বদলে যায় শব্দের, বদল ঘটে অর্থের। অনেকদিন কেটে গেলে মনে হয় ভাষাটি একটি নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে। আর এভাবেই রূপন্তরের মধ্যে দিয়ে উৎপত্তি হয়েছে বাংলাভাষার। তবে এ ধারণা ভেঙে দিয়েছেন ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদ উল্লাহসহ বেশ কজন গবেষক। তারা প্রমাণ করেন যে, সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা ভাষার। সংস্কৃত ছিল সমাজের উঁচুশ্রেণির মানুষের লেখার ভাষা। তা কথ্য ছিল না। কথা বলত মানুষেরা নানা রকম ‘প্রাকৃত’ ভাষায়। প্রাকৃত ভাষা হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথ্যভাষা।

প্রাচীন ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে মনের ভাব প্রকাশের নানান রীতি চালু ছিল। সেখান থেকে অঞ্চলভেদে উৎপত্তি হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতভাষা। আমাদের এই নদী বিধৌত পূর্ব অঞ্চলের মানুষেরা যে প্রকৃত ভাষায় কথা বলতে, তা হলো মাগধী। সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা মাগধি রূপান্তরিত হয়ে বাংলাভাষার উদ্ভব হয়।

ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বাংলা, আসামি ও ওড়িয়া ভাষা। তাই বাংলার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আসামি ও ওড়িয়ার। আর কয়েকটি ভাষার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা রয়েছে বাংলার সঙ্গে; কেননা সেগুলোও জন্মেছিল মাগধী অপভ্রংশের অন্য দুটি শাখা থেকে। ওই ভাষাগুলো হচ্ছে মৈথিলি, মগহি, ভোজপুরিয়া। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে একটু ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, গৌড়ী প্রাকৃতেরই পরিণত অবস্থা গৌড় অপভ্রংশ থেকে উৎপত্তি ঘটে বাংলা ভাষার।

আমাদের দেশের সবচেয়ে পুরোনো ভাষার নাম ‘প্রাচীন প্রাকৃত’। কালক্রমে এর অভিহিত হয় ‘আধুনিক প্রাকৃত’ রূপে। আধুনিক প্রাকৃত ভাষা থেকে শাখা-প্রশাখা গড়ে উঠে ‘গৌড়ী প্রাকৃত’, ‘মাগধী প্রাকৃত’ ইত্যাদি নামে আরও কয়েকটি প্রাকৃত ভাষার জন্ম হয়। কালের বিবর্তনে প্রাকৃত ভাষার আরও পরিবর্তন হয়ে নাম হয় অপভ্রংশ। এই অপভ্রংশ থেকে জন্মলাভ করে আসামের ‘অহমিয়া’ ভাষা, উড়িষ্যার ‘উড়িয়া’ ভাষা, ভারতের ‘হিন্দী’ ভাষা এবং এতদাঞ্চলের ‘বাংলা’ ভাষা।

মনে হয় প্রাচীনকালের কোন ভাষার সংস্কার করেই ‘সংস্কৃত’ নাম রাখা হয়েছে। কেননা, যা সংস্কার করা হয় সেটাই সংস্কৃত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় প্রাচীন প্রাকৃত বা আধুনিক প্রাকৃত জনগণের মুখের ভাষা। কিন্তু সংস্কৃত ভাষা কখনও জনগণের মুখের ভাষা ছিল না। এখনও জনগণের মুখের ভাষা নয়। এটা হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাষা। ব্রাহ্মণ-ভট্টাচার্য ছাড়া এ ভাষায় পণ্ডিত হবার কারও অধিকার ছিল না।

হিন্দু-ব্রাহ্মণ্য রাজাদের যুগে বাংলা ভাষার উপর যে অত্যাচার হয়েছে তাতে বাংলা ভাষা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ বাংলাকে ধরে রেখেছিল, টিকিয়ে রেখেছিল। পরবর্তীকালে ১২০৩ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজী মাত্র ১৭ জন ঘোড়ু-সওয়ার নিয়ে হিন্দু-ব্রাহ্মণ্য রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করার পর শুরু হলো বাংলায় মুসলিম শাসন। তাতে মুক্ত হলো সংস্কৃতি, মুক্ত হলো ভাষা। এদেশের কর্ম ও জীবনের সঙ্গে জড়িত হলো বাংলা। বাঙালি মুসলমান বাংলার প্রতি পুরোদমে আকৃষ্ট হলো। বাংলার পাঠান বাদশাগণ, আমীর-ওমরাহ এবং সাধারণ মানুষ বাংলার কদর করতে লাগলো।

তারপর ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে ইংরেজদের হাতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার শোচনীয় পরাজয়ের পর কয়েকশত বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলার জনগণ ও বাংলা ভাষার উপর নেমে আসে আবার নির্যাতন। ইংরেজ আমলে খ্রিস্টান মিশনারী ও সংস্কৃত পণ্ডিতরা বাংলা ভাষা থেকে আরবি, ফার্সি, তুর্কি শব্দ এমনকি আঞ্চলিক শব্দও বিতাড়িত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং বাংলা ভাষাকে বিশুদ্ধ করার অপপ্রচার চালিয়ে সংস্কৃত ভাষার শব্দরাজি চাপিয়ে দেন।

ইংরেজ আমলেই ১৯১১ সালে সর্বপ্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। বাংলাকে শিক্ষার বাহন করার জন্যও তিনি জোর দাবি জানান। এরপর ১৯১৮ সালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সম্মেলনে ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত ড. মুহম্মদ শহীদউল্লাহ ঘোষণা করেছিলেন- ‘শুধু ভারত কেন, সমগ্র এশিয়া মহাদেশেই বাংলা ভাষার স্থান হবে সর্বোচ্চ। ভাব-সম্পদ ও সাহিত্যগুণে বাংলা ভাষা এশিয়ার ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে অদ্বিতীয়।’

১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ও স্বাধীনতা লাভে পাকিস্তান নামক একটি স্বাধীন দেশের সৃষ্টির পরও পূর্ব বাংলার মানুষকে নতুন করে সংগ্রাম করতে হলো মাতৃভাষা বাংলা তথা রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রশ্নে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ এবং তত্পরবর্তী পর্যায়েও কঠোর ভাষা-সংগ্রামের মাধ্যমে, ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৫৬ সালে পূর্ব বাংলার জনগণের মাতৃভাষা বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। তারপর এদেশের নির্যাতিত মানুষের মরণজয়ী ভাষা-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ও কঠিন আন্দোলনের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে ১৯৭১ সালে।

বাংলাদেশ হওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের অংগ সংগঠন ইউনেস্কো সংগত কারণে যথোপযুক্ত বিবেচনায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ভাষা আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক বিজয়ের পর এটা বাঙালি জাতির আরেকটি মহৎ বিজয়। মে দিবস, নারী দিবস, মানবাধিকার দিবসের মতো বাঙালির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে জগদ্বাসীর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। এটা আমাদের জন্য পরম গৌরবের বিষয়।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কবি আবু বকর সিদ্দিক মারা গেছেন
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও কবি আবু বকর সিদ্দিক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি কবি, গল্পকার ও রাজনীতিবিদ বিদিশা এরশাদের বাবা। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০। কবির মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন মেয়ে বিদিশা এরশাদ। আবু বকর সিদ্দিক খুলনা সিটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট মামারবাড়ি বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৫৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে চাখার ফজলুল হক কলেজ, দৌলতপুর বিএল কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, বাগেরহাট পিসি কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯৪ সালের ৭ জুলাই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ২০টির অধিক কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, ১৫টি গল্পগ্রন্থ ও একটি ছড়াগ্রন্থ। ধবল দুধের স্বরগ্রাম (১৯৬৯), বিনিদ্র কালের ভেলা (১৯৭৬), হে লোকসভ্যতা (১৯৮৪), মানুষ তোমার বিক্ষত দিন (১৯৮৬) তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম। আবু বকর সিদ্দিক বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ কথাশিল্পী সংসদ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
কবি আবু বকর সিদ্দিক মারা গেছেন
চারণকবি মুকুন্দ দাসকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উম্মোচন 
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা চারণকবি মুকুন্দ দাসকে নিয়ে যুদ্ধাহত প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা মিহির দত্তের লেখা জীবনীমূলক বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করলেন জেলার বিশিষ্টজনরা। শহিদ জিতেন্দ্র-সুবীর স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে লেখক মিহির দত্তের বরিশাল নগরীর বাসভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের সাথে নিয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন স্থানীয় সুধীসমাজ।   মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা কে এস মহিউদ্দিন মানিক (বীর প্রতিক), বরিশাল সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আসাদুজ্জামান, চারণকবি মুকুন্দ দাস কালি বাড়ি মন্দিরের উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা মুকুল চন্দ্র মুখার্জী, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভাগীয় সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ সমাদ্দার, বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনীশ মন্ডল, প্রভাষক পুনা হালদার, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন খন্দকার, প্রকৌশলী (অব.) হাবিবুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বরিশালের সদস্য সচিব বাহাউদ্দিন গোলাপ ও শহিদ জিতেন্দ্র-সুবীর স্মৃতি সংসদের আহবায়ক আরিফুর রহমান।  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বইটির লেখক মিহির দত্তের ছেলে শুভব্রত দত্ত। মুলত আকস্মিক মৃত্যুর কারণে চারণকবি মুকুন্দ দাসের জীবনীটি বই আকারে প্রকাশ করে যেতে পারেননি প্রয়াত মিহির দত্ত। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর ওই পান্ডুলিপিকে বই আকারে প্রকাশ করলেন তারই ছেলে সাংবাদিক শুভব্রত দত্ত। বইটি প্রকাশ করেছে আখঁরী প্রকাশনী।
চারণকবি মুকুন্দ দাসকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উম্মোচন 
বইফেরীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড প্রদান
অনলাইন বই বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বইফেরী ডটকম’ তাদের  দ্বিতীয় জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করেছে ‘বইফেরী জন্মোৎসব ও বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড- ২০২৩’। এই আয়োজনে ‘সৃজনশীল’, ‘মননশীল’, ‘অনুবাদ’ ও ‘ইসলামিক’ বিভাগে নির্বাচন করা হয়েছে বেস্টসেলার বই, লেখক ও প্রকাশনী। পাশাপাশি বইকে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সামাজিক অবদান হিসেবে ‘বইয়ের শহর’–কে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত হয়েছে ‘বইফেরী জন্মোৎসব ও বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ অনুষ্ঠান। ‘বইফেরী ডটকম’–এর চেয়ারম্যান রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক  আনিসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছড়াকার ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন, অতিরিক্ত কমিশনার (বাংলাদেশ কাস্টমস) ও গোয়েন্দা লেখক অরুণ কুমার বিশ্বাস, কথাসাহিত্যিক ও মনোবিদ মোহিত কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ আলম। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বইফেরী ডটকমের টিম লিডার হাসানুল হক পায়েল।  সৃজনশীল ও মননশীল বিভাগে লেখক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন মোশতাক আহমেদ, ইকবাল বাহার, লতিফুল ইসলাম শিবলী, ওয়াহিদ তুষার, গাজী মিজানুর রহমান, মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন ফকির। ইসলামিক ও অনুবাদ বিভাগে পেয়েছেন আরিফ আজাদ, ডা. শামসুল আরেফীন, মিরাজ রহমান, অনীশ দাস অপু, প্রিতম মুজতাহিদ ও এ এস এম রাহাত। সৃজনশীল ও মননশীল বিভাগে পুরস্কার পাওয়া বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘একজন তারা মিয়া’, ‘লাভ ইট অর লিভ ইট’, ‘আমাদের ঠিকানা বদলে গেছে’, ‘বক্তৃতা দিতে শিখুন’, ‘পাসপোর্ট টু গ্রামার’। ইসলামিক ও অনুবাদ বিভাগে রয়েছে ‘কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ’, ‘রিফ্লেকশন ফ্রম সূরা ইউসুফ’, ‘ওপারেতে সর্বসুখ’, ‘হাউ টু টক টু এনিওয়ান’, ‘ডোপামিন ডিটক্স’, ‘মাস্টার ইয়োর ইমোশনস’। সৃজনশীল ও মননশীল বিভাগে পুরস্কার পাওয়া প্রকাশনীর মধ্যে রয়েছে আদর্শ, তাম্রলিপি, নালন্দা, কেন্দ্রবিন্দু, দাঁড়িকমা, অদম্য প্রকাশ। ইসলামিক বিভাগে রয়েছে সমকালীন প্রকাশন, সত্যায়ন প্রকাশন, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস।
বইফেরীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড প্রদান
গণমানুষের বিপ্লবী চেতনার শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মবার্ষিকী আজ
আজ ১৪ ডিসেম্বর। গণসঙ্গীতের প্রাণপুরুষ ও গণনাট্যে নতুনপ্রবাহ সৃষ্টিকারী শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ১১১তম জন্মবার্ষিকী। কিংবদন্তি এই সঙ্গীতশিল্পী এবং সুরকার ১৯১২ সালের এইদিনে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হরকুমার বিশ্বাস এবং মাতা সরোজনি বিশ্বাস।  হেমাঙ্গ বিশ্বাস হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও সিলেট এমসি কলেজে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। হবিগঞ্জ, কলকাতা এবং আসামে তার জীবন অতিবাহিত হয়। ১৯৪৩ সালে আইপিটি এ প্রতিষ্ঠা ও কালচারাল স্কোয়াড গঠন ছাড়াও ১৯৭১ সালে গণ সঙ্গীতের সংগঠন মাস সিংগার্স সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। অসাধারণ গান রচনা করে অগণিত মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছেন। সামন্তীয় জমিদার বংশে জন্ম নিলেও তিনি ছিলেন শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ। ১৯৩২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন হেমাঙ্গ। ১৯৩৫ সালে কারাবন্দি থাকাকালে তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন এবং সেই কারণে তিনি মুক্তি পান। ১৯৪৮ সালে তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সময়ে তিনি গ্রেফতার হন এবং তিন বছর বন্দী থাকেন। বাংলার প্রগতিশীল লেখক শিল্পীদের আমন্ত্রণে ১৯৪২ সালে তিনি প্রথম কলকাতায় যান সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। ১৯৪৩ সালে তার উদ্যোগে এবং জ্যোতিপ্রকাশ আগরওয়ালের সহযোগিতায় সিলেট গণনাট্য সংঘ তৈরি হয়। স্বাধীনতার আগে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের গানের সুরকারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রধান। সেই সময়ে তাঁর গান তোমার কাস্তেটারে দিও জোরে শান, কিষাণ ভাই তোর সোনার ধানে বর্গী নামে প্রভৃতি আসাম ও বাংলায় সাড়া ফেলেছিল। জ্যোতি প্রসাদ, মঘাই ওজা, বিষ্ণু প্রসাদ রাভা, ফণী শর্মা, লক্ষ্মীনাথ বেজবড়ুয়া, ভূপেন হাজরিকা মতো অসমের জাতীয় সংস্কৃতির সম্মাননীয় ব্যক্তিদের হেমা‌ঙ্গ বিশ্বাস মূল্যায়ন করে গেছেন এবং বঙ্গীয় সমাজের সঙ্গে তাদের পরিচয় করে দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মাস সিঙ্গার্স নামে নিজের দল গঠন করে জীবনের শেষ দিকেও তিনি গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে বেরিয়েছেন। তিনি কল্লোল, তীর, লাললণ্ঠন প্রভৃতি নাটকের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। লাললণ্ঠন নাটকে তিনি বিভিন্ন চীনা সুর ব্যবহার করেছিলেন। রাশিয়ান গানও অনুবাদ করেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগীত ‘ইন্টারন্যাশনাল’ ও রুশ সুরে তার গাওয়া ‘ভেদী অনশন মৃত্যু তুষার তুফান’ গানটি ‘ইন দ্যা কল অফ কমরেড লেনিন’-এর ভাবানুবাদ। এটি কমিউনিস্ট কর্মীদের কাছে অতীব জনপ্রিয় হয়।
গণমানুষের বিপ্লবী চেতনার শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্মবার্ষিকী আজ
কলকাতায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ বইমেলা
কলকাতার কলেজ স্কয়ার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১১তম বাংলাদেশ বইমেলা। যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) ভারতীয় সময় বিকেল ৪টায়। মেলার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। উৎসব প্রিয় ও বইপ্রেমী কলকাতার মানুষ এখন শুধুই ঘড়ির কাঁটা গুনছেন কতক্ষণে উদ্বোধন হবে ১১তম বাংলাদেশ বইমেলা। বইমেলা উপলক্ষে প্রতিদিনই দুপুর একটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ মেলা চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সরকারের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সম্মিলিত উদ্যোগে কলকাতার কলেজ স্কয়ার প্রাঙ্গণে এবারের ১১তম বাংলাদেশ বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও বিধায়ক বিবেক গুপ্তা। বাংলাদেশের বিভিন্ন সৃজনশীল ও স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা এই মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় প্রতিদিন বাংলাদেশের বই বিক্রির পাশাপাশি সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। এ বারের ১১তম বাংলাদেশ বইমেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ৬৫টি প্রকাশনা সংস্থা। একই সঙ্গে থাকবে ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক স্টলও। ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ স্টলে বঙ্গবন্ধুর লেখা ও তাকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই প্রদর্শন করা হবে, যদিও সেটি বিক্রির উদ্দেশ্যে নয়। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন ছবিও সেখানে প্রদর্শনী করা হবে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রও চলতে থাকবে। এতে যারা বঙ্গবন্ধুকে জানতে চান, যারা তাকে নিয়ে গবেষণা করতে চান, তারা উপকৃত হবেন বলে জানায় আয়োজকরা।
কলকাতায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ বইমেলা
আরও পড়ুন
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন
ঢাকায় ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল দোহার
বাংলা ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে আরও যত্নবান হতে হবে : রাষ্ট্রপতি
বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী