
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (সিপিজে) এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে ‘তৃণমূল সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) গুলোর জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং পরামর্শ’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার একটি হোটেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সিপিজে এর পরিচালক (গবেষণা) ড. এম সানজীব হোসেন ‘বাংলাদেশে তৃণমূল সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) গুলোর জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে : আইন, বিধি ও নীতিমালা সংস্কারের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং পরামর্শ’ শীর্ষক গবেষণার গুরুত্তপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।
ড. সানজীব হোসেন, সহকারী গবেষক নাফিসা তাবাস্সুম এবং আল মুকতাদির ইলাহী ইসমামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নয়টি জেলার ১১৪টি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও) এর ১৩৫ জন প্রতিনিধির সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে।
গবেষণাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহঅর্থায়নে পরিচালিত হয়।
সিএসও এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, তৃণমূল সিএসও এবং বড় ও প্রতিষ্ঠিত এনজি’গুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত আস্থার অভাব, মানুষের অধিকারভিত্তিক সিএসও’গুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে অনাকাঙ্খিত জটিলতার শিকার হওয়া, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ, কিছু সিএসওর রাজনীতিকরণ এবং নানাধরনের চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে এই গবেষণায়।
এছাড়াও সভায় অংশগ্রহণকারীরা ৩টি বিষয়ের ওপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এই বিষয়গুলো হল তৃণমূলে কাজ করতে গিয়ে সিএসওরা যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়, সিএসওদের কার্যক্রমের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য এবং বর্তমান অবস্থার উন্নয়নে নতুন বিধি-বিধানের ভূমিকা।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে দেন সিপিজের নির্বাহী পরিচালক, মঞ্জুর হাসান ওবিই। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, পাবলো প্যাডিন পেরেজ, অ্যাটাশে- প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইনক্লুসিভ গভর্নেন্স। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমন একটি প্রকল্পের অংশ হতে পেরে গর্বিত যা সারা বাংলাদেশের সিএসওদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

একটি সংস্থা কখন সিএসও হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, সেচ্ছাসেবী মনোভাবের পুনঃজাগরন, সিএসও গুলোর মাঝে ঐক্যবদ্ধ একটি প্ল্যাটফর্ম (সিএসও অ্যালায়েন্স হাব) তৈরি, সিএসও’গুলোর নিবন্ধনের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি আইন প্রণয়নসহ সহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করেন গবেষকরা।
সভার সমাপনী বক্তা, ফারাহ্ কবির, কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলাদেশ, তার বক্তব্যে বলেন, প্রত্যেকটি সিএসওর একটি অনন্য সত্ত্বা আছে, সেচ্ছাসেবী মনোভাব তাদের সকল কার্যক্রমের মূলভিত্তি। তিনি তার বক্তব্যে বড় এনজিও/সিএসওগুলোর সাথে তৃণমূল সিএসওগুলোর একসঙ্গে কাজ করার একটি সক্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ত সংস্কৃতি গড়ে তোলার ব্যাপারে বিশেষ জোর দেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন সিপিজের একাডেমিক অ্যান্ড লিগ্যাল এমপাওয়ারমেন্ট এর পরিচালক শাহরিয়ার সাদাত।




