ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে পদ্মা-তিস্তায় প্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ রিজভীর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ানো গেলে নদীগুলো আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি। এজন্য বর্ষার পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জোরালো আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলে পদ্মার শাখা-উপশাখাসহ অন্যান্য নদীতে পানির প্রবাহ বাড়বে। এতে কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ও তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এমনকি বর্ষা মৌসুমেও নদীগুলোর বিভিন্ন অংশে পানির স্বল্পতা দেখা যায়। তিস্তা ও যমুনা নদীর ওপর সেতু দিয়ে যাতায়াতের সময় নদীর মধ্যে চর দেখা যায়।

রিজভী বলেন, পদ্মার শাখা-উপনদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত না হওয়ায় সমুদ্র থেকে আসা লবণাক্ত পানিকে ঠেলে সমুদ্রের দিকে পাঠানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফারাক্কার প্রভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ কমেছে। ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

ফারাক্কা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে তা বাদ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আরও জোরালো অবস্থান নিতে হবে। এজন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

কৃষ্ণা ও কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধের উদাহরণ তুলে ধরে বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পানির হিস্যার প্রশ্নে কোনো পক্ষই সহজে ছাড় দিতে চায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরে রিজভী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে আর্সেনিকের সমস্যা এবং পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপের ফলে পরিবেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বিশিষ্ট পানিবিজ্ঞানী বি. এম. আব্বাস তার ‘গঙ্গেস ওয়াটার ডিসপিউট’ বইয়ে ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া ব্রিটিশ আমলের প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য পদ্মার ওপর বাঁধ নির্মাণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

রিজভী বলেন, পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে জলাধার নির্মাণ করে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শাখা-উপনদীগুলোতে পানির প্রবাহ বজায় রাখা গেলে নদীগুলো আবারও সচল হবে। এতে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগের উন্নয়ন সম্ভব হবে। নদীকেন্দ্রিক বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাম্পান ও পানসি নৌকার চলাচলও আবার দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগানো গেলে নদীর প্রবাহ বজায় রাখা এবং কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে।

গোলটেবিল বৈঠকের বিশেষ অতিথি আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার। একসময় এসব এলাকায় সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হতো। কিন্তু বর্তমানে পানির সংকট ও নদীর পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলটির মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তিস্তাকে ঘিরে প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সেলিম রেজা হাবিব প্রমুখ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মো. আনোয়ার কাদির এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান পলাশ।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘৫ আগস্টের পর হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নেতা নয়, কমিটিতে মূল্যায়ন পাবেন ত্যাগীরা’
বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আগামী দিনে তাদের নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ। 
‘৫ আগস্টের পর হঠাৎ গজিয়ে ওঠা নেতা নয়, কমিটিতে মূল্যায়ন পাবেন ত্যাগীরা’
আপত্তিকর ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে ছেলের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া বলে দাবি করছেন এমপি।
আপত্তিকর ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে যা বললেন এমপি আজিজ
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫০০ শ্রমজীবীর মধ্যে খাবার বিতরণ
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরের সদরপুরে পাঁচ শতাধিক অসহায়, হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আজিজুল ইসলাম নান্নুর পক্ষ থেকে এ খাবার বিতরণ করা হয়।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫০০ শ্রমজীবীর মধ্যে খাবার বিতরণ
বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আ. লীগ: রিজভী
বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণসংলাপে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। এ সময় ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম, গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।  রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে। কোনো খাতই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না। বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরূপণের যে গবেষণা করা হয়েছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। গবেষণাটির মূল প্রবন্ধ যতটুকু আমি পড়েছি, তাতে আমার কাছে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়েছে। সেখানে প্রচলিত পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে, সেই তথ্যের ভিত্তি ও যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা বিবেচনা করে কাউকে হতদরিদ্র বা চরম দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা যথাযথ, তা যাচাই করা প্রয়োজন। গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো একটি সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ধরে নেয়ার পরিবর্তে বিকল্প ব্যাখ্যা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়া জরুরি। গবেষণায় প্রশ্ন তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশ্ন করা। পৃথিবীতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা প্রশ্নের মধ্য দিয়েই এগিয়েছে। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, কিন্তু তিনি প্রশ্নের মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্লেটো একাডেমি এবং অ্যারিস্টটল লাইসিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশ্ন করার এই চর্চাই জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রিজভীর মতে, আলোচ্য গবেষণারও উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানকে ভিত্তি হিসেবে নেয়া হলেও সেই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র কতটা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রাখা হয়েছে। বিশেষ করে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের মধ্যে কারা প্রকৃত অর্থে চরম দরিদ্র, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কোথাও বিদ্যুৎ পৌঁছালেও আশপাশের তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলো সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবার সেই সুযোগের বাইরে থেকে যায়। ফলে দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ সমান নয়। দারিদ্র্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী ঢাকার বস্তি এলাকার বাস্তবতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে অনেক দরিদ্র মা-বাবা কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের পড়াশোনা করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের সদস্যদের বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। একজনের পড়াশোনা শেষ হলে অন্যজন পড়তে বসে। কখনো দিনের বেলায় পড়াশোনার সুযোগ না পেয়ে রাতে পালা করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। এমনকি কিছু পরিবারকে হারিকেন জ্বালিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। তিনি বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে কেবল বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ভিত্তিতে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন। তাই এ ধরনের গবেষণায় মানুষের জীবনযাত্রা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণাটির উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রিজভী বলেন, বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা ক্রমেই সামনে আসছে। এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশে আসা এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তিনি পত্রিকায় পড়েছেন। এ ছাড়া জাপানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রিজভী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিবার ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারলে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এ খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সমস্যার কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ফলে দেশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং রান্নার চুলা জ্বালানোর মতো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা গেলে জ্বালানি খাতে আরও সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। তবে নির্বাচিত সরকারের বৈধতা, দেশপ্রেম এবং অঙ্গীকার রক্ষার তাগিদ থাকলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আরটিভি/টিআর
বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আ. লীগ: রিজভী
গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন
‘গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।  বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি ও গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জামায়াতের এই বিবৃতির ভাষা কি প্রমাণ করে না যে, মিয়া গোলাম পরওয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেছেন? বিবৃতিতে কোথাও বৈঠক না হওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করে নাই এবং বিবৃতিতে কোথাও ভারত শব্দটা পর্যন্ত আনে নাই! কেন?  ‘শোনেন, মিয়া গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছে, জামায়াত তাকে রক্ষা করতে গেলে পুরো দলকে এর দায় নিতে হবে। আর এখন থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিলে জনগণ উত্তর দিবে মুনাফেক মুনাফেক! দিল্লি না ঢাকা.... মুনাফেক, মুনাফেক!’ তিনি লেখেন, গতকাল নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, সাংবাদিক যে সময় বলছিলো মিয়া গোলাম পরওয়ার ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন করতে চাইলো, তিনি বা পাশ থেকে কেউ বললেন, না আজকে অন্য প্রশ্ন না! আবার তিনি তড়িঘড়ি করে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য চলে গেলেন! তিনি যদি ঐদিন অন্য প্রশ্ম না নিবেন, তবে কেনো প্রথম প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিলেন? তিনি আরও লেখেন, এর মূল কারণ হলো, প্রথম প্রশ্নে তিনি ইতস্তত অনুভব করছিলেন যে, টুপি মাথায় দিয়ে আর কতো মিথ্যা বলা যায়! আমিও অবাক হলাম, জামায়াত যে ইসলামের কথা বলে! তাদের ইসলাম মানে কি টুপি মাথায় দিয়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানানো? আরটিভি/এসআর
গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন
আরও পড়ুন
বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আ. লীগ: রিজভী
সরকারের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার সেই নারীকে জামিন দিলেন আদালত
খুলনায় এবার বিএনপি নেতাকে গুলি
বিএনপি রাজনীতি করে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য: সমাজকল্যাণমন্ত্রী