ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা: রিজভী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
বক্তব্য রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। পুরোনো ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়েই এ দেশের মানুষ জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিল।

তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন সরকার আবারও জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়। দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকরা রাজপথে নেমে আসে এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে বাধ্য করে।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনার মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা। এই চেতনা ধারণ করেই দেশের মানুষ গণতন্ত্র বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পায়। তার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায়। খাল খনন, স্বনির্ভর কর্মসূচি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাক্ষরতা অভিযানের মধ্য দিয়ে জাতি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে পড়বে না। দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নিয়েই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয় খুঁজে পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের বাসায় গ্রেপ্তার করে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এতে জাতি আবার নতুন করে পথের দিশা পায়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশের একজন মহান জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করা হয়। তবে ৭ নভেম্বরের মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার চেতনায় জাতি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে নয় বছরের দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসে।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন প্রেতাত্মার আবির্ভাব ঘটে। পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তিনি কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেননি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই-তিন দিন পর থেকেই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে। বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে কাজ করছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কোথাও কোথাও গলির ভেতর থেকে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা যথাযথভাবে প্রতিহত করবে। সরকার এ ব্যাপারে সদা প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও জনগণ পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণ এসব বিষয় কখনও ক্ষমা করবে না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

এ সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রধানমন্ত্রীর শোভাযাত্রা ঘিরে নয়াপল্টনে কঠোর নিরাপত্তা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টনে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর শোভাযাত্রা ঘিরে নয়াপল্টনে কঠোর নিরাপত্তা
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। 
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য
ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না: প্রধানমন্ত্রী
৭ নভেম্বর: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস
৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে রচিত হয় এক নতুন অধ্যায়। জন্ম হয় এক নতুন বাংলাদেশের। অনেকে এটাকে ইতিহাসের বাঁক হিসেবেও মনে করেন।
৭ নভেম্বর: যে বিপ্লব বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শোভাযাত্রা 
ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজধানীতে শোভাযাত্রা করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে শোভাযাত্রা 
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর শোভাযাত্রা ঘিরে নয়াপল্টনে কঠোর নিরাপত্তা
ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৭ নভেম্বর: ববি হাজ্জাজ
আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা