
৪৬০ কোটি বছর আগে তৈরি হয়েছিল সৌরমন্ডলের প্রাণ খ্যাত নক্ষত্র সূর্য। বহুবছর ধরেই মহাশক্তিশালী এই গ্রহের জন্ম-মৃত্যু ও শক্তির উৎস নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্স অ্যালার্টে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে সম্প্রতি সূর্যের মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ৫০০ কোটি বছর পর সূর্য একটি বিশাল লাল রঙের দানব নক্ষত্রে পরিণত হবে। সেটি হবে সূর্যের মৃত্যুর প্রাথমিক স্তর। এই স্তরে সূর্যের মধ্যভাগের অংশটি সংকুচিত হবে এবং বাইরের অংশটি অভিকর্ষবল হারিয়ে নানা দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করবে। তরল সেই আগ্নেয় পদার্থের স্রোত পৌঁছাবে মঙ্গলগ্রহ পর্যন্ত। সেই হিসেবে সূর্যের মৃত্যুর প্রাথমিক স্তরেই বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রুহ ধ্বংস হয়ে যাবে।
সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার কিলোমিটার যা পৃথিবীর ব্যাসের ১০৯ গুণ। আর সূর্যের ভর পৃথিবীর ভরের ৩ লক্ষ ৩০ হাজার গুণ। যা সৌরজগতের মোট ভরের শতকরা ৯৯ দশমিক ৮৬ ভাগ।
সূর্যের মোট ভরের তিন চতুর্থাংশই হাইড্রোজেন। হাইড্রোজেনের পরেই সবচেয়ে প্রাচুর্য্যময় মৌল হিলিয়াম। হিলিয়ামের চেয়ে ভারী মৌল সূর্যের মাত্র ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভরের জন্য দায়ী, তারপরও এদের সম্মিলিত ভর পৃথিবীর ভরের ৫,৬২৮ গুণ। এসব ভারী মৌলগুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন, কার্বন, নিয়ন, লোহাসহ অন্যান্য পদার্থ।
জ্যোতিপদার্থবিদ অ্যালবার্ট জিজলস্ট্রা বলেছেন, যখন একটি তারার মৃত্যু হতে থাকে, তখন সেটি থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও বস্তুকণা নির্গত হয়ে সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে। যা অনেক ক্ষেত্রে ওই নক্ষত্রের ভরের অর্ধেকও হয়। এনভেলপ নির্গত হওয়ার মাধ্যমে নক্ষত্রের অন্তর্গত মূল অংশটি প্রকাশ্যে আসে, যেটি মূলত সেই নক্ষত্রের শক্তির উৎস।
তিনি আরও বলেন, একটি নক্ষত্রের মৃত্যুর অর্থ হলো, সেটির জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নক্ষত্রটির ক্ষয় হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তার চুড়ান্ত মৃত্যু ঘটে।




