ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

অভিনয় শিখতে ঢাকায় এসে যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন রিপন মিয়া

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় তাকে থানায় রেখে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের (ডুমা) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মীর লোকমান।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রিপনকে নিয়ে এসব তথ্য জানান মীর লোকমান।

মীর লোকমান জানান, নেত্রকোনায় নিজ এলাকার এক চারুকলা শিক্ষার্থী ও মূকাভিনয়কর্মীর মাধ্যমে রিপনকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। তিনি কিছুদিন তার বাসায়ও ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাইম শেখার সুযোগ দেওয়া হয় এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মীর লোকমানের ভাষ্য, পরে রিপন নেত্রকোনায় ফিরে যাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর ক্যাপশনে পোস্ট দিতে থাকেন। তাকে বিভিন্নভাবে বোঝানো ও সতর্ক করা হলেও তিনি এসব বন্ধ করেননি।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, নেত্রকোনা জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় বলে দাবি করেন মীর লোকমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিপনকে সারাদিন থানায় রাখা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার শর্তে তার ফোনের ছবি, ভিডিও ও পোস্ট মুছে ফেলা হয়। এরপর মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মীর লোকমান আরও জানান, পরবর্তীতে রিপনকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা ও মাতামাতি শুরু হলে তিনি গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। তবে ওই পোস্টের নিচে অনেকেই তার সমালোচনা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিজের স্ট্যাটাসে মীর লোকমান লেখেন, সম্প্রতি সংবাদে তিনি জানতে পারেন, রিপনের এলাকায় এক কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ভাইরাল হলেই আবেগের বশে কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা বা প্রচার না করাই ভালো।

এদিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন-অচিন্ত্যপুর এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিডিও তৈরির অজুহাতে বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন রিপন। গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে তিনি ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে জরুরি কথা আছে বলে তাকে ডেকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও গ্রাম ছাড়ার জন্য তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল।

সালিসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে ভুক্তভোগীর বাবা গত মঙ্গলবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিসের একটি ভিডিওতে রিপনকে অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত লোকজনের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, গ্রেপ্তার করা রিপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ এবং ওই ঘটনায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা তৈরির পিছনে পাশের দেশ জড়িত: আবু হানিফ 
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা তৈরির পেছনে পাশের দেশ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।
গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা তৈরির পিছনে পাশের দেশ জড়িত: আবু হানিফ 
স্কুলের তালা ভেঙে ভাড়া করা নারী নিয়ে রাতভর ‘অশ্লীল নৃত্য’, ভিডিও ভাইরাল
বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে কক্ষের তালা ভেঙে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে ফুটবল আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুলের তালা ভেঙে ভাড়া করা নারী নিয়ে রাতভর ‘অশ্লীল নৃত্য’, ভিডিও ভাইরাল
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ পরিস্থিতিতে মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। আরটিভি/এমএম
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
‘ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের অপচেষ্টা, উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি’
রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
‘ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের অপচেষ্টা, উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি’
সংবাদপত্র ছেঁড়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।  তিনি বলেন, পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান তৈরির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সংবাদপত্র ছিঁড়েছেন। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তিনি এক হয়েছেন, এমন দাবি অসত্য বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনগত রাতে নিজের নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। আরটিভির পাঠকদের সুবিধার জন্য পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো: আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি। হাসিনাপুত্রের সাথে আমি এক হয়েছি মর্মে আমার দেশ পত্রিকা যে মিথ্যাচার করেছে, আমি সেই অসত্যকে ছিঁড়ে ফেলেছি। আমি শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি। আমার কোন বক্তব্য অপছন্দ হলে, সেটিকে রাজনৈতিক ভাষায় সমালোচনা করতে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সেই সমালোচনাকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাব। কিন্তু আমার দেশ যদি একটি পত্রিকা হয়ে থাকে আমাকে ‘নব্য বিএনপি বলতে পারে না’। এই অধিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেই। তিনি আমাকে বলতে পারেন না যে, আমি শেখ হাসিনার পুত্রের সাথে এক হয়েছি। অর্থাৎ আমি যেহেতু জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠকের তথ্য সামনে এনেছি। সেহেতু পাল্টা ন্যারেটিভ হিসেবে আমার দেশ পত্রিকা সামনে এনেছে, আমি হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে এক হয়েছি! এই অভিযোগ যদি জামায়াত কিংবা জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার করতেন, আমি রাজনৈতিক ভাষায় জবাব দিতাম। যেহেতু জামায়াত আমার দেশ পত্রিকার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে অপচেষ্টা করেছে। আমি একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছি, মিথ্যা ও অপবাদকে ছিঁড়ে ফেলেছি। আমার দেশ কোনো পত্রিকা না, আমি কোনো পত্রিকা ছেঁড়ার মতো ভুল করতে পারি না। এটা জামায়াতের পক্ষে ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর একটি হাতিয়ার। এই হাতিয়ার ব্যবহার করে কারও চরিত্র হনন করার কোনো সুযোগ নেই। পত্রিকা হতে হলে সম্পাদকীয় ও সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলা উচিত। আমার দেশ সেটির কোনোকিছু অনুসরণ করে না। আরটিভি/এসআর
সংবাদপত্র ছেঁড়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
আরও পড়ুন
‘মজুরি বাড়ানোর বদলে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অমানুষদের জায়গা: এমপি ফজলুর রহমান
জুস খাইয়ে চালককে অচেতন করে রিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা
ঢাবিতে প্রতি শনিবার ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং ডে’ পালন করবে ছাত্রদল