ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইসলামকে পুঁজি করে অলিগলিতে মাদরাসা তৈরি হয়েছে: উমামা ফাতেমা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিগত ৪ দশকে ইসলামকে পুঁজি করে অলিতে গলিতে মাদরাসা তৈরি হয়েছে, যেখানে চাষ হয় ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতি। এমন মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি।

আরটিভির পাঠকদের সুবিধার জন্য উমামা ফাতেমার ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো—

একজন হেনস্থাকারী ধর্মীয় লেবাস পড়লেই তার কর্মকান্ড জায়েজ হয়ে যায়? ধর্মীয় শিক্ষার নামে গ্রামে-গঞ্জে মহামারীর মতো ফতোয়াবাজদের ছড়াছড়ি। ছোটবেলায় আমাদের বলা হতো, ধর্ম মানেই হচ্ছে কোনটা করতে পারব ‘না’। হালাল আর হারামের সীমানায় আমাদের রূহকে বেঁধে দেন ধর্মীয় শিক্ষকরা, অথচ বিধিনিষেধের আড়ালে আমাদের মনুষ্যত্ব, আমাদের কলব সীমায়িত হতে থাকে। আমরা ইসলামকে কিভাবে অন্যদের নিপীড়নে ব্যবহার করতে হয় এটা জাতিগতভাবেই আয়ত্ত করেছি, যখন অন্যের থেকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে পারব তখন কোরান শরীফের আয়াতের অভাব হয় না।

কারণ আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা যারা দিবেন তাদের দ্বীন পরিষ্কার না। যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের দাবি করেন, আপনারা নিজেদের প্রশ্ন করুন, যে হুজুর একজন শিশুকে হেনস্থা করার চিন্তা করতে পারে, তিনি কি দ্বীনী শিক্ষা দেয়ার যোগ্যতা রাখেন?

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত দেওবন্দ মাদ্রাসা একসময় মওলানা ভাসানীর মতো জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি করেছিল যিনি পাকিস্তান আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ পর্যন্ত সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একেবারেই তুলনাযোগ্য না, তবে প্রশ্ন তো আসবে যে কেন আমাদের দেশে ইসলামের আধ্যাত্নিক পাঠের জন্য বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠিন গড়ে উঠল না! বিপরীতে, বিগত ৪ দশকে ঠিকই ইসলামকে পুঁজি করে অলিতে গলিতে মাদ্রাসা তৈরি হয়েছে, যেখানে চাষ হয় ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতি আর অপরিপক্ক Frontal lobe. আবার এই বিপুল অংশের জনগোষ্ঠীকে আপাত অক্ষম করে রাখার মধ্য দিয়ে আমাদের কথিত ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো উপকৃত হয়, কতটুকু তারা ধর্মীয় শিক্ষার রাজনীতিকরণে সময় দেন, আর কতটুকু সমাজে ধর্মীয় আধ্যাত্নিকতা ছড়িয়ে দিতে সময় দেন সে প্রশ্ন তাদের কর্মীদেরই করা উচিত।

সবশেষে, যে ভাইটি নিজের কন্যাসন্তানের উপর হওয়া নিপীড়নের জবাব থাপ্পড়ে দিয়েছেন তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। যে মানুষ চিন্তায় উলঙ্গ, তাকে সম্মান দেখানোটা নিজেদের সম্মানেরই অপচয়।

আরটিভি/এসআর


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে এমন চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আমাদের সব বাবা-মায়ের কাছে সন্তান একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের দিকে কেউ কুনজর দিলে বাবা-মায়ের ক্ষুব্ধ হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে এমন চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। রাশেদ খাঁন বলেন, হয়তো শিশু বা কারও প্রতি স্বাভাবিক আদর কিংবা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি চুমু দেন। কিন্তু তার আচরণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অন্য কেউ এমন আবেগ প্রকাশ করলে কিংবা দুশ্চরিত্র সুযোগসন্ধানী লোকজন শিশুদের দিকে কুনজর দিলে, এর পরিণতি কি হতে পারে, সেটি টঙ্গীতে পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বলছি না যে, সেই দলের প্রধান নেতা কোনো নেতিবাচক সেন্স থেকে চুমু দিয়ে কারও প্রতি ভালোবাসা বা আদরের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তবে বর্তমান বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপটে এই ধরনের চুমু দেওয়া একটি শিশু কিংবা কোনো ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। আশা করি, টঙ্গীর ঘটনার পরে ওই দলের প্রধান নেতাও সংশোধন হবেন। টঙ্গীর ঘটনায় নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, চুমু দেওয়া একজন শিক্ষকের কাজ নয়, একজন রাজনৈতিক নেতারও কাজ নয়। টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় ৭ বছরের শিশু কন্যাকে ওই মাদ্রাসার অভিযুক্ত একজন শিক্ষক চুমু দেওয়া এবং পরবর্তীতে শিশুটির বাবার অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।  ‘বিষয়টি সামনে আসার পর অনেক বাবা-মাকে তার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার এই ঘটনাকে সামনে এনে কারও কারও মাদ্রাসাশিক্ষা-বিরোধী ক্যাম্পেইনও করতে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কোনো ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো মাদ্রাসাশিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না, ওই বাবাও তার বক্তব্যে এমনটাই তুলে ধরেছেন।’ তিনি বলেন, আশা করি, সারা দেশের মাদ্রাসার শিক্ষকরাই এই ঘটনাগুলোর প্রতিকার বের করে প্রতিবাদ করবেন এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। আরটিভি/এসআর  
একটি দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে এমন চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন: রাশেদ খাঁন
এক থাপ্পড়ে পুরা মৌলভি পাড়ায় আগুন লেগে গেছে: তাহেরী
দেশের একটি আবাসিক মাদরাসায় এক শিশুকে চুমা দেওয়া থেকে পরবর্তীতে সেই শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনায় মুখ খুলেছেন দেশের খ্যাতিমান ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
এক থাপ্পড়ে পুরা মৌলভি পাড়ায় আগুন লেগে গেছে: তাহেরী
অনেক বাচ্চাকে চুমা দিয়েছি, আমারে মারার সাহস আছে: ক্বারী তাশরীফ
মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ‘অনেক বাচ্চাকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে? বলে মন্তব্য করেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। 
অনেক বাচ্চাকে চুমা দিয়েছি, আমারে মারার সাহস আছে: ক্বারী তাশরীফ
বাবা তার কন্যাকে পশু থেকে রক্ষা করতে মেগাটনের থাপ্পড় মারার ক্ষমতা রাখে: মাহবুব কবির মিলন
মেয়েকে কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করতে বাবা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।
বাবা তার কন্যাকে পশু থেকে রক্ষা করতে মেগাটনের থাপ্পড় মারার ক্ষমতা রাখে: মাহবুব কবির মিলন
সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই, এটাই শেষ কথা: আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি আচরণে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামিক স্কলার আব্দুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই, এটাই শেষ কথা: আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানোর বিষয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ
মাদরাসা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ হলোনা নজরুলের
আসিফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি
মাদরাসায় বলাৎকার, কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার