দেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অ্যাসিড সন্ত্রাস। নতুন করে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ। নারীদের ওপর এমন নৃশংসতার সংখ্যাই বেশি। গত বছর দেশে আটজন অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছে।
দেশে অ্যাসিড সন্ত্রাস প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৯৬ সালে। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
অ্যাসিড সারভাইভাল ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ৩ হাজারেরও বেশি অ্যাসিড হামলা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০০২ সাল। ওই বছর ৫০০টি ঘটনা ঘটে। এরপর ওই বছরই সরকার অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন করলে কমতে শুরু করে এমন অপরাধ। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এর শিকার হন ৪৮৩ জন। এরমধ্যে মৃত্যু হয় ২২ নারীর।
আর সর্বশেষ ২০২৫ সালে আটটি ঘটনায় মারা যান তিন জন। জুলাইয়ে যশোরে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে, এসিডে মা-মেয়েসহ এক পরিবারের তিনজনকে ঝলসে দেয় জসিম নামে এক যুবক।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাবার বাড়ি আশ্রয় নেওয়া এক নারীও শিকার হন স্বামীর অ্যাসিড সন্ত্রাসের। একই মাসে স্বামীর ঢেলে দেওয়া অ্যাসিডে মারা যান বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির এক গৃহবধূ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঘটনাগুলো ঘন ঘন হচ্ছে এরকম না— এগুলোকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখছি এবং যারাই এসব ঘটনার সাথে জড়িত- তাদেরকে আমরা দ্রুতই আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি, জনসচেতনতা তৈরি জরুরি।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, কেউ যখন কারও সাথে যুক্তি, তর্কে ও বুদ্ধি দিয়ে পারে না— তখন তাকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষতির মুখোমুখি করতে গিয়ে অনেকেই অ্যাসিডকে বেছে নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োগ করতে না পারলে অপরাধীর অপরাধ করার স্পৃহা বাড়বেই। সেটি অ্যাসিড দিয়ে করুক অথবা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করুক।
এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে শুধু রাষ্ট্র নয়, সমাজ ও পরিবার থেকেও গড়ে তুলতে হবে মানবিকতার শিক্ষা।
আরটিভি/আরএ




