ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

লাখ লাখ ডলারের ট্যাংক ধ্বংস করে দিচ্ছে মাত্র ৫শ’ ডলারের ড্রোন 

সুপ্তি রায়, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

লাখ লাখ ডলারের রাশিয়ান ট্যাংক। আর সেই ট্যাংকই ধ্বংস করে দিচ্ছে মাত্র ৫০০ ডলারের ছোট একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন। আধুনিক যুদ্ধের চেহারা যে কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ যেন সেটিই দেখিয়ে দিচ্ছে পুরো বিশ্বকে। এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে উঠছে চালকবিহীন ড্রোন। আর সেই কারণেই বিশেষ ড্রোন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করছে ইউক্রেনের সৈন্যরা। সেখানে তারা শিখছেন কীভাবে আরও দ্রুত, নিখুঁত ও কার্যকরভাবে শত্রুকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায়। মূলত প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এই যুদ্ধের জন্যই এভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তাদের।

ইউক্রেনের ৯৩তম স্বতন্ত্র যান্ত্রিক ব্রিগেডের সৈন্যরা এখন অংশ নিচ্ছেন “ওয়াইল্ড ড্রোনস” নামে বিশেষ প্রতিযোগিতায়। বাইরে থেকে এটি সাধারণ ড্রোন রেস মনে হলেও বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রশিক্ষণ। আগে যেখানে যুদ্ধ হতো কয়েকশ মিটার এলাকার মধ্যে। কিন্তু এখন পুরো যুদ্ধক্ষেত্রই পরিণত হয়েছে “১৫ কিলোমিটার কিল জোনে”। অর্থাৎ এমন এক এলাকা, যেখানে মানুষের চেয়ে বেশি চালকবিহীন এই যান।

আরও পড়ুন

একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জানান, বর্তমানে শত্রুপক্ষের ধ্বংস হওয়া সরঞ্জাম ও নিহত সেনাদের প্রায় ৯৯ শতাংশের পেছনেই দায়ী ড্রোন। ভারী সাঁজোয়া যান এখন খুব কমই পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। তার বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে এফপিভি, বোমারু এবং নজরদারি ড্রোন। এগুলো আকাশ থেকেই শনাক্ত করছে শত্রুর অবস্থান, আবার মুহূর্তেই চালাচ্ছে হামলা। আর শুধু আকাশেই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়ছে চালকবিহীন স্থলযানের ব্যবহার। এসব যান কখনও রসদ পৌঁছে দিচ্ছে, কখনও আহত সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে নিরাপদ স্থানে। এতে সৈন্যদের ঝুঁকি অনেকটাই কমছে বলে মনে করছেন সামরিক কর্মকর্তারা।

ডেভড্রয়েড কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন পরিচালক ওলেগ ফেদোরিশিনের ভাষায়, একটি মেশিন হারানো মানুষের জীবন হারানোর চেয়ে অনেক কম ক্ষতিকর। আর সেই কারণেই দিন দিন যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়ছে চালকবিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার। ইউক্রেন যুদ্ধ যেন এখন পুরো বিশ্বকে দেখাচ্ছে নতুন বাস্তবতা, যেখানে কোটি ডলারের ট্যাংকের চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠছে হাতে ধরা ছোট একটি ড্রোন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
আরও পড়ুন
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে এবার এআইকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল
এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—দাবি গবেষকের
ওমান উপসাগরে ডুবে গেল ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার
অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু