দিল্লি পুলিশ ভেবেছিল হয়তো হবে মাত্র কয়েক শ মানুষ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভেঙে যায় সেই ধারণা। দিল্লীর যন্তর মন্তরের ছোট্ট প্রতিবাদ মঞ্চ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। এরপর যা ঘটেছে, তা অনেকের কাছেই মনে করিয়ে দিয়েছে ২০২১ সালের সেই ২৬ জানুয়ারির কথা। এখন প্রশ্ন উঠছে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রকৃত শক্তি কি একেবারেই বুঝতে পারেনি দিল্লি পুলিশ?
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপি। প্রথমদিকে আন্দোলনটি খুব একটা গতি পায়নি। যন্তর মন্তরে প্রতিদিন মাত্র এক থেকে পাঁচ শ মানুষের উপস্থিতিই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু গেলো ১৮ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যেই দিল্লি ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন যন্তর মন্তরে। দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ধারণা ছিল, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এই সংখ্যা সাত থেকে আট হাজারে পৌঁছাতে পারে। সেই হিসাব ধরেই প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য ও প্যারামিলিটারি বাহিনীর ৩২টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়। তৈরি করা হয় বহুস্তরের ব্যারিকেড। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়া প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সড়কই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কিন্তু সোমবার সকালেই ভুল প্রমাণিত হয় পুলিশের সেই হিসাব। শুধু যন্তর মন্তরেই উপস্থিত হন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। আর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় থাকা আন্দোলনকারীদের হিসাব করলে সেই সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার বা তারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দিল্লি পুলিশ জরুরি ভিত্তিতে শহরের ১৪টি এলাকা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী তলব করে। প্রতিটি এলাকা থেকে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার ও একশ পুলিশ সদস্যকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা চালান শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। সীমিত পরিসরে মিছিল এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ব্যর্থ হয় তিন দফা আলোচনা।
আয়োজকরা আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানালেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে উত্তপ্ত। পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল, কোনোভাবেই যেন আন্দোলনকারীরা এগোতে না পারেন সংসদ ভবনের দিকে। শুরুতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সীমিত বলপ্রয়োগ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশের দিকে বোতল, জুতা, পাথর ও গাছের ডাল ছুড়ে মারেন। পাল্টা জবাবে পুলিশ ব্যবহার করে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস। কয়েকটি স্থানে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর আবার সংগঠিত হয়ে হন পুলিশের মুখোমুখি।
আরটিভি/এআর



