
এই উৎসব, যেখানে আনন্দের সঙ্গে প্রতিবছরই ফিরে আসে দুর্ঘটনার খবর। এবারও মুম্বাইয়ের দহি হান্ডিতে প্রাণ গেছে ৭ বছরের এক শিশুর। আর মুম্বাইসহ আশপাশের এলাকায় আহত হয়েছেন অন্তত ২১২ জন। তারপরও থামেনি মানুষের উন্মাদনা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে অপরের কাঁধে উঠে তৈরি করা হয়েছে সাত-আট স্তরের মানব পিরামিড। অথচ প্রশ্ন হলো, এত ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার পরও কেন ভারতের এই উৎসব ঘিরে মানুষের এতটা আগ্রহ?
মূলত শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী ঘিরেই পালিত হয় দহি হান্ডি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শৈশবে কৃষ্ণ বন্ধুদের নিয়ে উঁচুতে রাখা হাঁড়ি থেকে দই-মাখন চুরি করতেন। সেই কাহিনি থেকেই এই উৎসবের প্রচলন। এখনো উৎসবে মাটি থেকে অনেক ওপরে দই ভর্তি হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাখা হয়। আর সেটি ভাঙতে ‘গোবিন্দা’ নামে পরিচিত অংশগ্রহণকারীরা একজনের কাঁধে আরেকজন উঠে তৈরি করেন বিশাল মানব পিরামিড। কোথাও সেই পিরামিড উঠে যায় সাত থেকে আট স্তর পর্যন্ত। আর যত ওপরে ওঠে, ততই বাড়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকি।
এবারও সেই ঝুঁকির চিত্র দেখা গেছে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন জায়গায়। ফুটেজে অনেক অংশগ্রহণকারীকে ভারসাম্য হারিয়ে ওপর থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। আহতদের ঘটনাস্থলে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় হাসপাতালে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে মালভানিতে। সেখানে ঘরোয়া দহি হান্ডি আয়োজনে হাঁড়ি ঝোলানোর দড়ি বাঁধা ছিল একটি গাছ ও ইটের স্তম্ভের সঙ্গে। শিশুরা হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করার সময় ধসে পড়ে স্তম্ভটি। এতে প্রাণ হারায় সাত বছরের রুদ্র কদম।
তবে এত ঝুঁকির পরও অংশগ্রহণকারীদের কাছে দহি হান্ডি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। কেউ কেউ কয়েক সপ্তাহ থেকে দেড় মাস পর্যন্ত অনুশীলন করেন মানব পিরামিড তৈরির জন্য। তবে এবারের প্রাণহানি দেখিয়ে দিল, উঁচুতে ওঠার এই প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তার জায়গাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/এআর


