সমুদ্রপারে ঘুরতে গেলে এই ফলটা না খেলে যেন ভ্রমণটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। টক-মিষ্টি স্বাদের এই প্যাশন ফ্রুট দেখে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় কৃষি উদ্যোক্তা ইউসুফ আলীর। পরে ইউটিউব ও ইন্টারনেট দেখে নিজেই শেখেন চাষের পদ্ধতি। ফিরে এসে প্রতিবেশী আবুল বাশারকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন চাষ। আর মাত্র ছয় মাসের মাথায় তাদের গাছে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে এই প্যাশন ফ্রুট, স্থানীয়ভাবে যেটি পরিচিত ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং ফল’ নামে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের অনন্তপুর গ্রামে এক বিঘা জমিতে আনারকলির বাগান করেছেন ইউসুফ আলী। আর আবুল বাশার চাষ করেছেন ১০ কাঠা জমিতে। তাঁর বাগানে রয়েছে ৬০টি গাছ। ছয় মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে। কৃষকরা জানান, প্রতি কেজি আনারকলি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে কেনার কথা বলছেন ক্রেতারা।
এক বিঘার বাগান করতে ইউসুফ আলীর এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।
দুই কৃষকের বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এই ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। জীবননগরে এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ছয় বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে।
অনন্তপুরের এই বাগান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। বাগান ঘুরে দেখে নতুন এই ফল চাষের সম্ভাবনার কথা জানান তারা।
কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে দেখা একটি ফল থেকেই ইউসুফ আলীর শুরু। এখন সেই প্যাশন ফ্রুট ফলছে নিজের জমিতে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে নতুন এই ফল চাষ জীবননগরের কৃষকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে আয়ের আরেকটি সুযোগ।
আরটিভি/এমএইচজে



