ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩

টেকনাফে ৩৮ জন নিহত, তবু থেমে নেই ইয়াবা পাচার

শাহীন শাহ, টেকনাফ

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৩:৪৭ পিএম

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া ইয়াবা ব্যবসায়ীদের একটা অংশ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ছে ইয়াবার লেনদেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকে। টেকনাফ রুটটিকে ইয়াবা পাচারের জন্য অন্যতম পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ২০১৮ সালের মে মাসের শুরুতে সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়। এ অংশ হিসেবে সীমান্তে উপজেলা টেকনাফেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এর মাঝেও ইয়াবা পাচার থেমে নেই। স্থল পথ, নৌ পথ এবং মাঝে মধ্যে আকাশ পথেও প্রতিদিন কোনও না কোনও পয়েন্টে ইয়াবাসহ পাচারকারী আটক হচ্ছে। আবার মাঝে মধ্যে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় পরিত্যক্ত ইয়াবা উদ্ধার করে টেকনাফে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত টেকনাফ উপজেলা মিয়ানমারের সঙ্গে লাগোয়া হওয়ায় ইয়াবাসহ অনেক মাদক সহজেই আদান-প্রদান করা যায়। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যাপারী ও পাচারকারী রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন রিকশাচালক, দিন মজুর, জেলে, কাঠুরিয়া, জিপ চালক, হেলপারসহ (চান্দের গাড়ি) আরও অনেক পেশাজীবীর মানুষ। হঠাৎ করে তাদের প্রাসাদ অট্টালিকা গড়ে তোলায় এসব শ্রেণির লোকজনের নাম মানুষের মুখে মুখে।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর গত মে মাস থেকে দেশব্যাপী একযোগে মাদক বিরোধী সাঁড়াশী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে সারাদেশে মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হন অনেকে।

এরই ধারাবাহিকতায় ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত টেকনাফেও শুরু হয় মাদক বিরোধী এ বিশেষ অভিযান। শুরুতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এ অভিযানকে তেমন একটা পাত্তা না দিলেও পরবর্তীতে একের পর এক মাদক ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তার ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটতে থাকলে নড়েচড়ে বসে সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারিরা। এরপর চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দিতে শুরু করে। খা খা করতে থাকে তাদের প্রাসাদগুলো। একপর্যায়ে গত অক্টোবর মাসে প্রদীপ কুমার দাস টেকনাফ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। এরপর অভিযানের তীব্রতা বেড়ে যায় বহুগুণে। বাড়তে থাকে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা। শুধু বন্দুকযুদ্ধই নয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অট্টালিকাগুলোতে আঘাত হেনে তাদের দুর্বল করা হয়।

অভিযানের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। একদিকে বন্দুকযুদ্ধে একের পর এক প্রাণহানি, অপরদিকে সুরম্য ইয়াবা প্রাসাদগুলো ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে বুলডোজারের আঘাতে। এ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজতে থাকে তারা। জানা যায়, মহেশখালী দ্বীপের জলদস্যুদের মতো আত্মসমর্পণের মাধ্যমে রক্ষা পাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে দফায় দফায় গোপন বৈঠক বসে শীর্ষ ইয়াবা গডফাদাররা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় মিডিয়ার মাধ্যমে জনমত তৈরি করে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেলে হয়তো আত্মসমর্পণ করে অভিযান থেকে বেঁচে যেতে পারবে তারা। ইতোমধ্যে সেভাবেই প্রস্তুতি গ্রহণ করে আত্মসমর্পণের তালিকা প্রস্তুত করে তারা। আর এর খরচ যোগাতে আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক ইয়াবা কারবারিদের কাছ থেকে জনপ্রতি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই এগুচ্ছিল। এরকম আত্মসমর্পণকে অনেকে সাধুবাদও জানিয়েছেন।

কিন্তু এর মাঝে সচেতন মহলে আত্মসমর্পণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছে আবার অনেকে সরাসরি তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

টেকনাফ সরকারি কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আবু তাহের জানান, আত্মসমর্পণ করে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মূল ধারায় ফিরে আসুক সমস্যা নেই। তবে ইয়াবা সেবন করে দেশের যুবসমাজ যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিক তেমনি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রাতারাতি অর্জিত অবৈধ অর্থের কারণে সামাজিক ভারসাম্য-স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। তাই জলদস্যুদের অস্ত্র সমর্পণের মতো ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অর্থসমর্পণ অত্যন্ত জরুরি।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুরা মিয়া গত বুধবার তার ফেসবুকে টাইমলাইনে লিখেছেন- জলদস্যু আর ইয়াবা বিয়ারি এক না। টেকনাফে কিছু সংবাদকর্মী ইদানিং ইয়াবা ব্যবসায়ীর পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করছে। যা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের জিরো টলারেন্স নীতির সঙ্গে অনেকটা সাংঘর্ষিক। তাদের যুক্তি হচ্ছে জলদস্যুরা যদি ক্ষমা পায় মাদক বিয়ারিরা কেন পাবে না? জলদস্যুরা দস্যুমি করে হয়তো গুটি কয়েক জন কে হত্যা করছে কিংবা কিছু টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে সংসার চালিয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সমাজসহ জাতিকে ধ্বংস করেছে এবং দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে।

এমসি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত রোগটির নাম ডেঙ্গু। অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে এটি জুন থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। এখনো রয়েছে এর প্রাদুর্ভাব। এখনো প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। আতঙ্ক থাকবে আগামী বছরেও। এ বছর ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তার দেশের প্রায় সব জায়গায় ঘটেছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এখন থেকে সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গু থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নির্মূলে সব সময় তৎপর থাকবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০০০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। তাদের তথ্য মতে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ১৪৮ জনের ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর বিপরীতে শুধু চলতি বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী ২০১৯ সালের শুরু থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সংরক্ষিত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩, আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬, সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬, অক্টোবরে ৮ হাজার ১৪৩ এবং নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ১১ জন ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১৬ জন। এতে দেখা গেছে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে জুন ও জুলাইয়ে ক্রমশ তীব্র হয়ে আগস্টে রোগটি মারাত্মক রূপ নেয়। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশার বিস্তাররোধে ভবিষ্যতে সব সময় তৎপর থাকবেন তারা। এজে
২০১৯ এর সবচেয়ে আলোচিত রোগ ডেঙ্গু (ভিডিও)
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকের বেশির ভাগেরই আবার বৈধ কাগজপত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাত্র ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চক্ষু হাসপাতাল ও দন্ত চিকিৎসালয় গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাব রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগ করেছেন এখানকার মানুষেরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। এদিকে শহরে এসব ব্যক্তি মালিকানাধীন চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট নন রোগীরা। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কবলে পড়ে রোগীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এছাড়াও এসব প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয় করার জন্য প্রশিক্ষিত প্যাথলজিস্ট ও টেকনোলজিস্ট নেই। আবার অনেকের অভিযোগ ডাক্তার ও নার্সের অজ্ঞতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তবে ভৈরব বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মফস্বলে কাজ করতে যেয়ে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোর সমাধান পর্যায়ক্রমে করা হবে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নানা অসঙ্গতি এবং অনিয়মের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এজে  
ভৈরবে যত্রতত্র ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ (ভিডিও)
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
বাগেরহাটের মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার মানুষেরা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দিন দিন হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দু’জন চিকিৎসক। ফলে সেবাপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বাগেরহাটের মোল্লাহাটের সাতটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতালটি।  পরে ১৯৮৬ সালে এটি ৩১ শয্যায় উন্নীত হয়। আর এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নত করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি হাসপাতালটিতে আসন সংখ্যা বাড়লেও  সেবার মান বাড়েনি। বরং সেটি দিনকে দিন তলানির দিকে যাচ্ছে। ফলে এখানে সেবা নিতে এসে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়াও নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে ময়লা আবর্জনা। এদিকে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি। এজে/এসএস
চিকিৎসকের পদ ১৬, আছেন ২ জন (ভিডিও)
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এখন লাখো পর্যটকে মুখরিত। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শীতকালীন ছুটির পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুদের উপযুক্ত সময় হওয়াতে সৈকতে আনন্দ উপভোগে কমতি নেই পর্যটকদের। আর তাদের নিরাপত্তায় সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে সাগরের নীল জলরাশিতে অবিরত ঢেউয়ের মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও ইনানী সমুদ্র সৈকত, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দিরেও পর্যটকে মুখরিত। কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস আর কটেজগুলোতে পর্যটকে পরিপূর্ণ। তবে হোটেলগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক পর্যটক। এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যটকদের সমুদ্র স্নানে নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পাশাপাশি ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া খাবারের মান নিয়ন্ত্রণসহ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বিচগার্ড কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি। এজে/পি
লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার (ভিডিও)
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
রাঙামাটি শহরের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান রাজ বনবিহার এলাকায় হাজারেরও বেশি বানর সঠিক সংরক্ষণ ও খাদ্যাভাবে রয়েছে। খাবারের অভাবে বানরগুলো বিহার এলাকায় পরিদর্শনে আসা মানুষের নিকট থেকে খাবার কেড়ে খায়। স্থানীয়রা জানান, রাঙামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান রাজবন বিহারের আশপাশে বিচরণ করে শত শত বানর। পর্যটকদের আনন্দ দেয়া এই বানরগুলো রয়েছে খাবার কষ্টে। খাদ্য চাহিদা পূরণে কোনও ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে না বনবিভাগ। এদিকে রাঙামাটি রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, বানর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে রাঙামাটি বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মো. ছানাউল্ল্যাহ পাটওয়ারী বলেন, বানরগুলো যেখানে আছে সেখানেই নিরাপদ রয়েছে। বানরের সংরক্ষণ করা গেলে জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটি আরও দর্শনীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এজে/এসএস
খাদ্যাভাবে বনবিহারের হাজারেরও বেশি বানর (ভিডিও)
আরও পড়ুন
টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
টেকনাফ সীমান্তে থামছে না ইয়াবা পাচারের হিড়িক
মিয়ানমার থেকে একদিনেই এসেছে ১১০৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ
সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা নিরাপদে ফিরেছেন